দলের এমন বাজে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও আরও একটি ভুলে যাবার মত মৌসুম কাটিয়েছেন পান্ত। রেকর্ড পারিশ্রমিকে লক্ষ্মৌতে যোগ দেবার পর আইপিএলে নিজের মানের ধারে কাছেও ছিলেন না তিনি। ১২ ইনিংসের মধ্যে সাতবারই তিনি ২০ রানের নিচে আউট হয়েছেন। অন্যদিকে ১৩ ম্যাচে মাত্র চার জয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা লক্ষ্মৌর এখন বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতার শেষ একটি ম্যাচ।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পান্ত বলেন, 'আমরা যেকোনো পরিস্থিতিতেই দল হিসেবে নিজেদের নিয়ে গর্বিত। আমাদের দলটা কেমন, সেটা আমরা জানি। আমরা জানি, এই দল ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। পরিস্থিতি যাই হোক, দল হিসেবে এবং ব্যক্তি হিসেবেও আমরা আত্মবিশ্বাসী। হ্যাঁ, সবকিছু আমাদের পক্ষে যায়নি, সেটা সবাই জানে। কিন্তু তাতে এই সত্য বদলে যায় না যে আমরা দারুণ একটা দল।'
পুরো মৌসুমজুড়েই লক্ষ্মৌর বড় সমস্যা ছিল ব্যাটিং। পান্ত নিজেও ছিলেন ছন্দহীন। । তার সঙ্গে দলের আরেক বড় তারকা নিকোলাস পুরানও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। টুর্নামেন্টের শেষপ্রান্তে এসে সেঞ্চুরি পাওয়া মিচেল মার্শও মৌসুমের শুরুতে ছিলেন বিবর্ণ।
তবে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটাররা ভালো করলেও বোলাররা ছিলেন ব্যর্থ। ৩৮ বলে ৯৩ রান করা বৈভব সূর্যবংশী এবং ২৩ বলে ৪৩ রান করা ইয়াশভি জয়সাওয়াল শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন লক্ষ্মৌকে। ২২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজস্থানের দুই ওপেনার মাত্র ৩৯ বলেই তুলে ফেলেন ৭৫ রান।
তবে ম্যাচ শেষে দলের বোলারদের পক্ষে সাফাই গেয়ে পান্ত বলেন, 'কখনো কখনো বিষয়টা কঠিন হয়ে যায়। এমন ফ্ল্যাট উইকেটে বোলারদের ভুলের সুযোগ খুব কম থাকে। তখন বেশি পরামর্শও কাজে দেয় না। সহজ পরিকল্পনা ধরে রেখে প্রতি বলে সেটি বাস্তবায়নের দিকেই মনোযোগ দিতে হয়।'
সূর্যবংশী যেভাবে ১৪তম ওভার পর্যন্ত টিকে থেকে দ্রুত রান তুলছিলেন, তাতে পান্ত নিজের হাতে থাকা বামহাতি স্পিনার শাহবাজ আহমেদকে ব্যবহারই করতে পারেননি। শেষ ওভারে যখন রাজস্থানের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র দুই রান, তখনই বোলিংয়ে আনা হয় তাকে।
এ সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় পান্ত বলেন, 'ওদের দুই বাঁহাতি ব্যাটার অনেকক্ষণ ধরে সেট হয়ে খেলছিল। তাই ওই অবস্থায় বামহাতি স্পিনারকে আক্রমণে আনতে চাইনি। আমাদের দলে যখন দিগ্বেশ রাঠি ছিল, তখন শাহবাজকে দিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজন দেখিনি।'