ম্যাচের চিত্রনাট্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল আগেই, টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ঝড় তুলেছিলেন কুশল মেন্ডিস ও বাবর আজম। তাদের রেকর্ড গড়া জুটিতে ভর করে ২৪৬ রানের পাহাড় গড়ে পেশোয়ার। বাকি কাজটা করেছেন পেশোয়ারের বোলাররা। ইফতিখার আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম মিলে করাচি কিংসের টপ অর্ডার ভেঙে দেন শুরুতেই।
এরপর ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাহিদ। নিজের তৃতীয় ওভারে কোনো রান না দিয়েই তুলে নেন দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার খুশদিল শাহ ও অ্যাডাম জাম্পার উইকেট। এই ডাবল স্ট্রাইকেই কার্যত ছিটকে যায় করাচি ম্যাচ থেকে। এর আগে তিনি ফেরান সাদ বেগকেও।
ম্যাচ শেষে নাহিদকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন করাচির অধিনায়ক মঈন আলী। এই পেসারকে খেলা কঠিন ছিল সেটা স্বীকার করে তিনি বলেন, 'এক্সপ্রেস ফাস্ট বোলিং সবসময়ই কঠিন, যেকোনো পিচেই। সে যে লেন্থে বোলিং করেছে, তা সত্যিই দারুণ ছিল। আজকাল এত দ্রুতগতির বোলারদের মুখোমুখি খুব একটা হতে হয় না, আর সে আজ অসাধারণ বোলিং করেছে। সে ব্যাপারটিকে কঠিন করে তুলেছিল। আমাদের দ্রুত রান তুলতে হচ্ছিল, তাই তাকে স্বাভাবিকভাবে খেলাও সম্ভব ছিল না, যেমন শুধু ঠেকিয়ে খেলা।'
বড় রান তাড়া করতে নেমে আক্রমণের বিকল্প ছিল না করাচির সামনে। তবে সেই কাজটাই কঠিন করে দিয়েছিলেন নাহিদ। ডানহাতি এই পেসার কোনো ফুল লেন্থ বা ওয়াইড লেন্থের বলই দেননি। নাহিদকে এর আগেও খেলেছেন মঈন। বিপিএলেও এই পেসারের মোকাবেলা করেছেন তিনি। তবে এবারও তার মুখোমুখি হয়ে চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়েছে মঈনকে।
তিনি যোগ করেন, 'এমন পরিস্থিতিতে আপনাকে তাকে আক্রমণ করতেই হয়, তার বলে দ্রুত রান করার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু সেটাই কঠিন হয়ে যায়, কারণ সে আপনাকে কোনো সহজ বল দিচ্ছিল না, যেমন ফুল লেন্থ বা ওয়াইড। সে সত্যিই খুব ভালো বোলিং করেছে। আমি বিপিএলে তার বিপক্ষে খেলেছি, সেখানেও সে দুর্দান্ত ছিল। অনেক দিন পর এমন গতির কোনো বোলারের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ অভিজ্ঞতা।'
নাহিদ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তারকা হবেন সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে মঈন বলেন, 'এ ধরনের গতি ও উচ্চতা নিয়ে কেউ যখন পিচকে কাজে লাগাতে পারে, সেটা দেখা সত্যিই ভালো লাগে। আমার মনে হয়, সে ভবিষ্যতে বড় তারকা হয়ে উঠবে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য। আমি তাকে বাংলাদেশেও বোলিং করতে দেখেছি, সেখানেও সে অসাধারণ ছিল। সব মিলিয়ে, অনেক দিন পর এমন গতির বোলারের মুখোমুখি হওয়াটা দারুণ অভিজ্ঞতা।'