৮ হাজার ৭৫০ ক্রিকেটার নিয়ে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ৬৫১ ম্যাচের স্কুল ক্রিকেট

স্কুল ক্রিকেট
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আপাতত জাতীয় দলের খেলা নেই, হচ্ছে না ঘরোয়া ক্রিকেটও। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের ক্যাম্প হলেও সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে না। তবে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিসিবির সংবাদ সম্মেলন কক্ষে ছুটে এলেন জাতীয় দলের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের দুজনের সঙ্গে চেয়ারে বসলেন বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমাম, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও প্রাইম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম এ চৌধুরী।

১০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেটের একাদশ আসর। সেই টুর্নামেন্ট নিয়ে তখন কথা বলবেন হৃদয়। এমন সময় সঞ্চালক রাবীদ ইমাম বললেন, “হৃদয় কিছুক্ষণ আগে আমাকে বলছিল যে, ‘আমি কিন্তু স্কুল ক্রিকেট লেজেন্ড’।” মাইক্রোফোন হাতে নিজের স্কুল ক্রিকেট জীবনের স্মৃতিচারণ করলেন হৃদয়। আবেগপ্রবণ হওয়ার সঙ্গে স্কুল ক্রিকেট যাতে বৃষ্টির মৌসুমে না হয় সেই দাবিও জানিয়ে রাখলেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

হৃদয় বলেন, ‘আমার জীবনের শুরুটাই হয়েছে এই স্কুল ক্রিকেট দিয়ে। আমি বগুড়া পুলিশ লাইন্স থেকে পড়াশোনা করেছি। স্কুল ক্রিকেটের অনেক স্মৃতি আছে এখনও, সেগুলো মনে পড়ে। স্কুল ক্রিকেট এমন একটা জায়গা, যেখান থেকে অনেক ক্রিকেটার উঠে এসে অনেক জায়গায় অংশ নিয়েছে। এমনকি আমি চার বছর খেলেছি ,আমার বগুড়া পুলিশ লাইন্স বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার।”

‘আমি সবসময় স্কুল ক্রিকেট ফলো করি এবং আমি যদি ভুল না করে থাকি, গত দু্ই-এক বছর টসের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধানিত হয়েছে, কারণ বৃষ্টিতে কারণে খেলা হয়নি। এটা এমন একটা টুর্নামেন্ট, যে এখান থেকে অনেক ক্রিকেটার উঠে আসে এবং ভবিষ্যতে উঠে আসবে। আমি বা আমরা চাই যে, এই টুর্নামেন্টটা যেন বৃষ্টির মৌসুমে না হয়ে একটু আগে করা যেত. তাহলে ক্রিকেটাররা সব ম্যাচ খেলতে পারত।’

প্রাইম ব্যাংক স্কুল ক্রিকেট নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন শান্তও। পাশাপাশি হাবিবুল টুর্নামেন্ট নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথাও জানালেন। স্কুল ক্রিকেটের সঙ্গে প্রাইম ব্যাংককে রাখায় বিসিবিকে ধন্যবাদ দিলেন নাজিম এ চৌধুরী। সবমিলিয়ে ১০ এপ্রিল থেকে ৬৪ জেলায় শুরু হচ্ছে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় উৎসব। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের ৩৫০টি স্কুল টুর্নামেন্টে অংশ নেবে।

সবমিলিয়ে ৮ হাজার ৭৫০ জন ক্রিকেটারকে খেলতে দেখা যেতে পারে। জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ফাইনালসহ মোট ৬৫১টি ম্যাচ হবে। জেলায় পর্যায়ের ম্যাচগুলোর জন্য ভেন্যু হিসেবে থাকছে প্রতিটি জেলা স্টেডিয়াম ও ঢাকা মেট্রো জোনের চারটি ভেন্যু। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে বিভাগীয় পর্যায়ের লড়াই। প্রতিটি জেলার চ্যাম্পিয়ন স্কুলগুলো সেখানে খেলার সুযোগ পাবে।

দেশের ১৪টি জেলা স্টেডিয়ামে হবে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রায় ৫৭ ম্যাচ। তৃতীয় ধাপে বিভাগীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ স্কুলগুলো জাতীয় পর্যায়ে খেলবে, যা শুরু হবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট শেষে গেম ডেভেলপমেন্ট ও বিসিবি স্কুল ক্রিকেট দল তৈরি করবে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেটে বিভিন্ন সময়ে অংশ নিয়েছে ৩,৫০৭ স্কুল।

দেশের সব প্রান্তে মাঠে গড়ানো ৬,১৯৫ ম্যাচে খেলেছে ৭৬,২৩৫ স্কুল ক্রিকেটার যা বাংলাদেশের যে কোন পর্যায়ের ক্রিকেটে সর্ব্বোচ্চ। এছাড়া প্রতি বছর প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেটের মৌসুম শেষে, বিসিবির বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটের নির্বাচকদের নির্বাচনের ভিত্তিতে সেরা ১৫ ক্রিকেটারকে বৃত্তি দিয়ে আসছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। বিসিবির অনুরোধে বৃত্তি সংখ্যা এই বছর ১৫ থেকে ২৫ করা হয়েছে। স্কলারশিপের পরিমাণও বছরে ৬০০০০ থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: