এর আগে ক্রিকবাজ জানায়, উপমহাদেশে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে পিএসএলে ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকারিভাবে অনুমতি চাইবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা দেয়, চলমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এবারের পিএসএল শুধু লাহোর ও করাচিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজন করা হবে।
পিএসএল ঘিরে সর্বশেষ এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে ক্রিকেটারদের পাকিস্তানে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তারা। এ বিষয়ে বিসিবির আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
আমিনুল বলেন, 'নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলে অবশ্যই আমাদের ক্রিকেটাররা যাবে না। আগে বিসিবিকে আমাদের জানাতে হবে এবং এরপর জাতীয় সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ ও যাচাই শেষে আমরা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেব।'
নিরাপত্তাসহ সব বিষয় নিয়ে বিসিবিকে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের বর্তমান পরিস্থিতিও গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সরকারকে হালনাগাদ জানাতে বিসিবির প্রতি ইঙ্গিত দেন তিনি।
আমিনুল বলেন, 'যদি বিসিবি নিশ্চিত করে যে সেখানে যাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই, তাহলে আমাদেরও কোনো আপত্তি থাকবে না। খেলাধুলাকে নিরুৎসাহিত করতে চাই না এবং সবাই যেন নিজ নিজ জায়গা থেকে খেলতে পারে, সেটাই আমরা চাই।'
পিএসএলে এবার বাংলাদেশের ৬ ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন। মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন (লাহোর কালান্দার্স), শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা, তানজিদ হাসান তামিম (পেশোয়ার জালমি) এবং রিশাদ হোসেন (পিন্ডিজ) পিএসএলে খেলার জন্য বিসিবির কাছ থেকে অনাপত্তি পত্র পেয়েছিলেন। ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত নির্ধারিত এই আসরে তাদের খেলার কথা ছিল। তবে পুরো ব্যাপারটি এখন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।
এর আগে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। একই সময়ে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
আমিনুল যোগ করেন, 'বিষয়টি নিয়ে এখনো আমরা ভাবিনি। ঈদের ছুটির পর ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকৃত চিত্র বোঝার চেষ্টা করব এবং সবকিছু জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। খেলাধুলাকে রাজনৈতিক করা উচিত নয়। কেন আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছিল, তা জানতে হবে এবং পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।'