দ্য হান্ড্রেডের গত আসরে ৩১ হাজার পাউন্ডে সাউদার্ন ব্রেভের হয়ে খেলেছিলেন কোলস। তবে এবারের মৌসুমে নিলামে ইংল্যান্ডের স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের ভিত্তিমূল্যই ছিল ৭৫ হাজার পাউন্ড। কোলসের নাম উঠতেই সবার আগে বিড আগে ম্যানচেস্টার। পরবর্তীতে তাকে পেতে লড়াই করে বার্মিংহাম ও ট্রেন্ট রকেটস। কোলসের দাম যখন ২ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড তখন লড়াইয়ে যোগ দেয় সানরাইজার্স। ২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডে গিয়ে সরে দাঁড়ায় রকেটস।
এমন সময় প্রথমবার কোলসের জন্য বিড করে লন্ডন স্পিরিট। শেষ পর্যন্ত সানরাইজার্সের সঙ্গে তুমুল লড়াই করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সানরাইজার্সের কাভিয়া মারান ৩ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বিড করেন। লন্ডনের পক্ষ থেকে বিড করা হয় ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ড। পরবর্তীতে সানরাইজার্স বিড না করায় কোলসকে পেয়ে যায় লন্ডন। দ্য হান্ড্রেডের চলতি আসরের নিলামের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার হয়েছেন ২১ বছর বয়সি এই তরুণ।
সাউথ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টি সবশেষ আসরে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের হয়ে খেলেছেন কোলস। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির হয়ে শিরোপা জেতার পাশাপাশি দুইটি ম্যাচে ম্যান অব ম্যাচও হয়েছিলেন তিনি। এজন্য দ্য হান্ড্রেডের নিলামে তার জন্য সানরাইজার্স চড়া দাম হাঁকাবে এটা আগে থেকেই জানতেন ফ্লাওয়ার। সেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এ প্রসঙ্গে ফ্লাওয়ার বলেন, ‘আমরা জানতাম সানরাইজার্সের সঙ্গে আমাদের ভালো একটা লড়াই হবে। কারণ এসএ টোয়েন্টিতে সে তাদের হয়ে খেলেছে। সে সত্যিই খুব ভালো খেলেছিল। তার (কোলস) জন্য আমরা অনেক বড় একটা বাজেট রেখেছিলাম। তার কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা অনেক।’
২০২০ সালে মাত্র ১৬ বছর ১৫৭ দিন বয়সে সাসেক্সের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় কোলসের। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ররি বার্নস, জেমি স্মিথ এবং বেন ফোকসের মতো ক্রিকেটারদের আউট করেছিলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। কাউন্টির ডিভিশন ওয়ানের গত মৌসুমে ৪৭ গড়ে ১ হাজার ৩২ রান করেছেন কোলস। বোলিংয়ে নিয়েছেন ২০ উইকেট।
এ ছাড়া চ্যাম্পিয়নশিপে নিয়েছেন ১৯ ক্যাচ। টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টেও ব্যাটে-বলে পারফর্ম করেছেন। ৩৩ গড়ে ৩৯৭ রান করার পাশাপাশি বাঁহাতি স্পিনে কোলসের শিকার ১০ উইকেট। এসবের বাইরে সাউদার্নের হয়ে দ্য হান্ড্রেড, সানরাইজার্সের হয়ে এসএ টোয়েন্টি খেলেছেন। ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়েও পারফর্ম করেছেন ২০২২ সালে যুব বিশ্বকাপ খেলা কোলস। ফ্লাওয়ার জানিয়েছেন, তরুণ অলরাউন্ডারকে আগে থেকেই বেশ ভালোভাবে মূল্যায়ন করতেন তিনি।
ফ্লাওয়ার বলেন, ‘আমার ভাই (গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার) তার সঙ্গে সাসেক্সে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে, যেখানে সে ব্যাটিং কোচ ছিল। চলতি শীতে আমার সঙ্গে কাজ করেছি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে। আমি তাকে খুব ভালোভাবে মূল্যায়ন করি। সে একজন অলরাউন্ডার এবং নিলামে প্রচুর টাকায় বিক্রি হয়। সব ফরম্যাটেই তার সাফল্য আছে। আমার মনে হয় তার দারুণ একটা ভবিষ্যত আছে। ইংলিশ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যও তরুণ প্রতিভা গুরুত্বপূর্ণ।’