বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচ জেতার চ্যালেঞ্জই নয়, ফাইনালে ওঠার হিসাবও মাথায় রাখতে হচ্ছে। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ২৭১ রানের জবাবে ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর আফগানিস্তানের কাছে জিম্বাবুয়ে ১৫৮ রানে হারায় সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে। ফলে ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি রান রেটের হিসাবেও নজর রাখতে হবে বাংলাদেশকে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ। তার মতে, কঠিন সময়ে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এই আলোচনা করেছেন বোর্ড সভাপতি। তানজীদ বলেন, 'খুব ভালো একটা সভা হয়েছে ওনার সাথে আমাদের। কারণ দেখেন যে বিসিবি আমাদের ভালো সময়, খারাপ সময় সবসময় আমাদের পাশে থাকে। তো আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে, কী সমস্যা মোকাবেলা করছি আমরা বা এরকম জিম্বাবুয়েতে আমরা ওদের সাথে একদিনের সিরিজটা হেরেছি, তো সবকিছু মিলিয়ে উনি আমাদের আরও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন।'
সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। সেই হতাশার মধ্যে দলের পরিবেশ ইতিবাচক রাখা যে জরুরি, বৈঠকে সেটিই তুলে ধরেছেন তামিম ইকবাল। তানজীদের কথায়, দলের প্রত্যেকে যেন একসঙ্গে থেকে একটি ইউনিট হিসেবে খেলতে পারেন, সেই বার্তাই দিয়েছেন বোর্ড সভাপতি। তিনি বলেন, 'আমরা একটি পরিবারের মতো, তো কখনো কেউই চায় না যে এই পরিবারটার ভেতরে নেতিবাচক কোনো কিছু তৈরি হোক। উনি আমাদের সেই ইতিবাচক বার্তাটাই দিয়েছেন যাতে আমরা সবাই একসাথে থাকি এবং একসাথে হয়ে একটি দল হিসেবে আমরা যাতে ভালোভাবে মাঠে নৈপুণ্য দেখাতে পারি প্রত্যেকটা ম্যাচে।'
দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের নাম দেখে প্রস্তুতি বা মনোযোগে ঘাটতি না রাখার কথাও বলেছেন তামিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলার বার্তা পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। তানজীদ বলেন, 'প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে কিংবা অস্ট্রেলিয়া, এটা না দেখে প্রত্যেকটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে যাতে আরও ভালোভাবে মনোযোগ রেখে, একই প্রস্তুতি রেখে এবং কীভাবে আমরা এক হয়ে একটি দল হিসেবে সব বিভাগে ভালো নৈপুণ্য দেখাতে পারি, এই ইতিবাচক বার্তাটাই উনি দিয়েছেন আমাদের।'
তবে ড্রেসিংরুমের আলোচনা কতটা কাজে এসেছে, তার প্রমাণ দিতে হবে মাঠেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি তাই হয়ে উঠেছে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় পরীক্ষা। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই উন্নতি করতে না পারলে ফাইনালে ওঠার আশা কঠিন হয়ে পড়বে। তামিম ইকবালের দেওয়া আত্মবিশ্বাসের বার্তাকে কাজে লাগিয়ে দল হিসেবে কতটা সংগঠিত হতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই এখন দেখার।