সুইং বাড়লেও ‍সাফল্যে পিছিয়ে মুস্তাফিজ-তাসকিন, ব্যাটিংয়েও উদ্বেগ

বাংলাদেশ ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
মাস কয়েক আগে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। একই চিত্র দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়-তানজিদ হাসান তামিমরা। শুরুটা ভালো হলেও শেষটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে টাইগারদের ভুগিয়েছে বাজে বোলিং ও ব্যাটিং ব্যর্থতা।

এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একটা সময় ওয়ানডে যেখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রিয় ফরম্যাট ছিল সেখানেই আজ ধুঁকতে হচ্ছে তাদের। ক্রিকেটের তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী সংস্থা ক্রিকভিজের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আইসিসির নতুন নিয়মের পর দলগুলোর পাশাপাশি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সেও বড় প্রভাব পড়েছে।

আইসিসির নতুন নিয়ম হচ্ছে, প্রতি ইনিংসে দুই প্রান্ত থেকে দুইটি আলাদা বল দিয়ে খেলা শুরু হয়। তবে ৩৪ ওভারের পর একটি বল ব্যবহার করতে হবে। ওই দুই বলের মধ্যে কোনটি ব্যবহার করা হবে সেটি বেছে নেন ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক। বাকি ১৬ ওভার খেলা হয় সেই বল দিয়ে। সেটার ফলে পেসারদের রিভার্স সুইং বেড়েছে অনেকটা।

বল পরিবর্তনের এমন নিয়মের প্রভাব কতটা পড়েছে সেটাই খুঁজে বের করেছে ক্রিকভিজ। ডেথ ওভারে অন্তত ৬ ওভার বোলিং করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে যাদের সুইং বেড়েছে সেই তালিকায় সেরা চারে আছেন মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। মুস্তাফিজের সুইং বেড়েছে ৪৯.৫ শতাংশ। সুইং বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেশি সাফল্য পাওয়ার কথা ছিল বাঁহাতি এই পেসারের।

অথচ পরিসংখ্যানে দেখা যায় ঘটেছে উল্টো ঘটনা। কারণ মুস্তাফিজের বোলিং গড় বেড়েছে ৫.৩। ইকনোমি রেটেও বেড়েছে ০.৯। তাসকিনের ক্ষেত্রে চিত্রটা একই রকম। ৪০.৮ শতাংশ সুইং বাড়লেও বোলিং গড় ১.৯ ও ইকনোমি রেটে বেড়েছে ১.৬। চলতি সময়ের ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন আলজারি জোসেফ। সবচেয়ে বেশি ৮৩.৬ শতাংশ সুইং বেড়েছে ক্যারিবিয়ান পেসারের।

সুইংয়ের বাড়লেও আলজারির বোলিং গড় কমেছে ৬.৭। ইকনোমি রেটে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাউথ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডির সুইং বেড়েছে ৬৩.৩ শতাংশ। যেখানে বোলিং গড় ১০.৬ ও ইকনোমি রেট কমেছে ৩.৩। পাকিস্তানের নাসিম শাহর ৩৮ শতাংশ সুইং বেড়েছে। ১৯.২ বোলিং গড় ও ১.৬ কমেছে ইকনোমি রেট।

বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়েও সাফল্য নেই বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষের সুইং সামলাতে গিয়ে ডেথ ওভারে পর্যাপ্ত রান তুলতে পারছেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। নতুন নিয়ম চালুর আগে শেষ ওভারে বাংলাদেশের রানরেট ছিল ৭.৮৪। বল পরিবর্তনের নিয়মের পর সেটা এখন ৬.৫৬। অর্থাৎ আগে যেখানে ডেথ ওভারে বাংলাদেশ ৭৮ রান করতো সেখানে করতে পারে ৬৫ রান।

এর মানে ১২ রান কম করছে বাংলাদেশ। ডেথ ওভারে সবচেয়ে বেশি রান রেট কমেছে এমন দেশগুলোর তালিকায় চারে বাংলাদেশ। যেখানে শীর্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দুইয়ে নিউজিল্যান্ড ও তিনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সবচেয়ে বেশি রান তুলতে পারছে আয়ারল্যান্ড। আগে আইরিশদের রানরেট ছিল ৭, বর্তমানে সেটা ৯.১৮।

ভারতের ক্ষেত্রেও রান তোলার গতি বেড়েছে। আগে যেখানে লোকেশ রাহুলরা ৬.৯৯ রান রেটে ব্যাটিং করতো এখন সেটা ৮.৩৩। ইংল্যান্ডও লাভবান হয়েছে। ইংলিশদের ৮.০৭ থেকে রান রেট গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯.১৬ এ। ২০২৩-২৭ চক্র পর্যন্ত পরিসংখ্যানগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: