‘ভারতের বিপক্ষে জিততেই হবে, হারা যাবে না’, ড্রেসিংরুমে বলছিলেন ইমরুল-মাহমুদউল্লাহরা

ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডস
ইমরুল কায়েস, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ইমরুল কায়েস, ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হয়েছে হতাশা নিয়ে। পাঁচ ম্যাচে চার হার, জয় মাত্র একটিতে। সেই একমাত্র জয়টি এসেছে ভারতের বিপক্ষে। তবে, টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৮৮ রানের বড় হারে ষষ্ঠ দল হিসেবে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। ছোটখাটো ভুলভ্রান্তি আর বোলিংয়ের দুর্বলতায় হাতছাড়া হয়েছে কয়েকটি ম্যাচ। তবে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে চাননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। লক্ষ্য ছিল একটাই যেকোনো মূল্যে ভারতকে হারানো। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস।

বাংলাদেশের ব্যর্থতার পেছনে ছোটখাটো ভুল ও বোলিংয়ের দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন ইমরুল। তার মতে, ব্যাটিংয়ে প্রতিদিনই ভালো করেছেন দলের খেলোয়াড়েরা, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ভুলের কারণে সেই পারফরম্যান্স জয়ে রূপ পায়নি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তাই শুরু থেকেই জয়কে পাখির চোখ করেছিল দল।

ইমরুল বলেন, 'শুরুর দিকে আমরা যে ম্যাচগুলো হেরেছিলাম, সেগুলো ছোটখাটো ভুলের কারণে। বোলিং বিভাগেও আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। তবে ব্যাটিংয়ের দিক থেকে দেখলে, প্রত্যেক দিনই সবাই ভালো ব্যাটিং করেছে।'

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দলের মানসিকতা ছিল আলাদা। আগের ম্যাচগুলোতে যে ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে, সেগুলো পেছনে ফেলে এই ম্যাচে জিততেই হবে এমন বার্তাই ছিল সতীর্থদের প্রতি। ইমরুলের ভাষায়, 'ভারতের সঙ্গে আমাদের একটাই বার্তা ছিল যে, যেভাবেই হোক, আজকের ম্যাচটা হারলে চলবে না। ভারতের বিপক্ষে জিততেই হবে।'

সেই তাগিদ থেকেই প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করেন ইমরুল। দলের সবার মধ্যে ছিল বাড়তি প্রতিশ্রুতি ও নিবেদন। ভারতের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলের বিপক্ষে জয়ের বিশ্বাসটাও সেখান থেকেই এসেছে বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ইমরুল বলেন, 'সবাই ১২০, ১৫০ শতাংশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং নিষ্ঠা দিয়েই খেলেছে। আমার মনে হয়, এ কারণেই আমাদের বিশ্বাস ছিল যে আমরা ভারতকে হারাতে পারব।'

১১ অক্টোবর শারজায় ভারতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ১৪১ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। রনি তালুকদারের ৪০ ও আরাফাত সানির ৩৭ রানের পর এনামুল হক জুনিয়রের ১২ রানে ৪ উইকেটের বোলিংয়ে ভারতকে ১৩৮ রানে আটকে দেয় তারা। ৩ রানের সেই জয়ই হয়ে থাকে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের একমাত্র প্রাপ্তি। এর আগে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছিল দলটি।

তবে ভারতের বিপক্ষে জয় দিয়ে পাওয়া আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের ফল বদলাতে পারেনি। ১৪ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ২১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পাঁচ ম্যাচে এক জয় ও চার হারে অভিযান শেষ হলেও, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দলের যে বাড়তি তাগিদ ও প্রতিশ্রুতি দেখা গেছে, সেটিকেই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন ইমরুল।

আরো পড়ুন: