রুবেলের ৫ উইকেটের পর সাব্বিরের ব্যাটে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

টপ এন্ড টি–টোয়েন্টি সিরিজ
মোহাম্মদ রুবেল (বামে) ও সাব্বির রহমান (ডানে)
মোহাম্মদ রুবেল (বামে) ও সাব্বির রহমান (ডানে)
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
আগের ম্যাচে ১৭২ স্ট্রাইক রেটে ৬২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির রহমান। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে যেখানে শেষ করেছিলেন নর্দার্ন টেরিটোরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন। দলের প্রয়োজনে খেলেছেন ৩৭ বলে ৪৭ রানের কার্যকরী ইনিংস। তবে বাংলাদেশের জয়ের ভিতটা গড়ে দেন মোহাম্মদ রুবেল। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে নর্দার্ন টেরিটোরিকে দেড়শর আগেই আটকে দেন ডানহাতি এই স্পিনার। রুবেলের ওমন বোলিংয়ের পর সাব্বিরের ব্যাটে উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ হাইপারফরম্যান্স। ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিতে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টপ অ্যান্ড টি-টোয়েন্টিতে সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত করেছে এইচপি।

রান তাড়ায় আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করতে গিয়ে তৃতীয় ওভারে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জিসান আলমের জায়গায় ওপেন করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আরিফুল ইসলাম। ওয়েস অ্যাগারের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। আগের ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া ডানহাতি ব্যাটার এদিন আউট হয়েছেন ৮ রানে। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি আরেক ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান।

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ফেরেন তিনি। হামিশ মার্টিনের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অফে জর্ডান সিল্ককে ক্যাচ দিয়েছেন সোহান। ২ চারে ১৮ বলে ২২ রান করেছেন বাংলাদেশের ওপেনার। তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও সাব্বির। তবে তাদের দুজনের জুটি খুব বেশি বড় হয়নি। রাইলি মার্কের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর উইকেট হয়েছেন শামীম।

১১ বলে ১১ রান করে ফিরতে হয়েছে বাঁহাতি ব্যাটারকে। দারুণ ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরি পথেই ছিলেন সাব্বির। তবে পঞ্চাশ ছোঁয়া হয়নি ডানহাতি ব্যাটারের। টম মেনজিসের শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। দুই চার ও এক ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৭ রান করে ফিরতে হয় সাব্বিরকে। ভালো শুরু পেলেও ১৭ রান করে ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশের অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরকে।

দলের প্রয়োজনে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি এসএম মেহেরবও। এক ছক্কা ও এক চারে ৮ বলে ১৪ রান করেন সামিউন বশির রাতুল। তবে বাংলাদেশকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি। এর আগেই আউট হয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। যদিও আব্দুল গাফফার সাকলাইন চার মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। নর্দার্ন টেরিটোরির হয়ে দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন মেনজিস ও মার্ক।

এর আগে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন রুবেল। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ডানহাতি অফ স্পিনার নিয়েছেন জাগা কদুরু ও দাউটজি হোজেনবোজেমের উইকেট। শেষের দিকে একই ওভারে ফিরিয়েছেন ম্যাট হ্যামন্ড ও অ্যাগারকে। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নেন রুবেল।

এ ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট পেয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি, রাকিবুল হাসান, সামিউন বশির রাতুল ও মেহেরব। বাংলাদেশের এমন বোলিংয়ের দিনে নর্দার্ন টেরিটোরির হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রানের ইনিংস খেলেছেন সিল্ক। এ ছাড়া হ্যামন্ড ২৬, ক্যাডেল ম্যাকম্যাহন ২৫ ও স্যাম বার্কার অপরাজিত ১৮ রান করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ৯ উইকেটে ১৪৩ রান তোলে স্বাগতিকরা।

আরো পড়ুন: