পান্তকে নিয়ে অশ্বিনের সাফ কথা, ‘প্রজন্মের সেরা প্রতিভা’ বলা বন্ধ করুন

ভারতীয় ক্রিকেট
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ঋষভ পান্ত, ফাইল ছবি
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ঋষভ পান্ত, ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হয়েছে, কিন্তু ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে ঋষভ পান্তের ব্যাটিং ঘিরে আলোচনা যেন থামছে না। দুই টেস্টের সিরিজে ১৬৮ রান ও দুটি হাফ সেঞ্চুরি করলেও তার ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে বিপদে ফেলে আক্রমণাত্মক শট বেছে নেওয়া নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এমনকি এতদিন পরেও পান্তকে তার প্রতিভার কারণে আলাদা মূল্যায়নের ঘোর বিরোধিতা করেন সাবেক এই স্পিনার।

অশ্বিনের আপত্তি মূলত পন্তের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে নয়, বরং ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সেই আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ায়। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত স্টাইলের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়। পান্তের মতো প্রতিভাবান ব্যাটারের কাছ থেকে তাই আরও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং প্রত্যাশা করেন তিনি।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, 'ঋষভ পান্তকে নিয়ে আমার প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি। আমি দুঃখিত। সোনাল দিনুশার স্ট্রাইক রেটও ভালো ছিল। কিন্তু পার্থক্য হলো, ঝুঁকিপূর্ণ শটের ক্ষেত্রে। যখন ম্যাচ আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তখন ‘ঋষভ এভাবেই খেলে’-এ ধরনের যুক্তি দেওয়া যায়। কিন্তু টেস্টে আসল বিষয় হলো, দলের কী প্রয়োজন।'

পান্তের অস্ট্রেলিয়া সফরের উদাহরণ টেনে অশ্বিন অবশ্য স্বীকার করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার ব্যাটিং ভারতের জন্য বড় অবদান রেখেছে। তবে তার মতে, একটি দুর্দান্ত ইনিংসও টেস্ট জয়ের পুরো কৃতিত্ব একা একজনকে দিতে পারে না।

অশ্বিন বলেন, 'সিডনি ও ব্রিসবেনে রিশভ দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন সুন্দর ও শার্দুল ঠাকুর ছাড়া ওই ম্যাচ জেতা সম্ভব ছিল না। একটি টেস্ট গড়ে তুলতে এবং শেষ সেশনে জিততে ১১ জন ক্রিকেটারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু একটি টেস্ট হারাতে কখনো কখনো একজনের মাত্র একটি বোকামিই যথেষ্ট।'

পন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন নিয়ে নিজের পুরোনো আপত্তির কথাও তুলে ধরেছেন অশ্বিন। ২০২৫ সালে গুয়াহাটিতে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে মার্কো ইয়ানসেনের বলে পন্তের ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে গিয়ে শট খেলার ঘটনা উল্লেখ করেন তিনি।

অশ্বিন বলেন, 'ম্যাচ যখন কঠিন অবস্থায় থাকে, তখন এমন ঝুঁকি নেওয়ার ব্যাখ্যা হিসেবে শুধু পন্তের স্বাভাবিক আগ্রাসী ব্যাটিংকে সামনে আনা ঠিক নয়। “আমি সেই সময়গুলোর কথাই বলছি, যখন ম্যাচের ফল নির্ধারণের মুহূর্তে এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হয়। আমি ঋষভ পান্তকে ক্রিকেটার হিসেবে ভালোবাসি। কিন্তু এই ফরম্যাটে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হয়।'

বীরেন্দ্র শেবাগ ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের উদাহরণও টেনেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার। তার মতে, আগ্রাসী ক্রিকেট খেলা আর ম্যাচের পরিস্থিতি উপেক্ষা করে ঝুঁকি নেওয়া এক বিষয় নয়।

অশ্বিন বলেন, 'শেবাগ ও গিলক্রিস্টও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছেন। কিন্তু দল যখন ৫০০ রানে পিছিয়ে, তখন মার্কো ইয়ানসেনের বলে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে গিয়ে তারা এভাবে আউট হতেন না। আমার সামনে এসব ‘মার্কেটিং লাইন’ আর তুলে ধরবেন না।'

পান্তকে ‘প্রজন্মের সেরা প্রতিভা’ হিসেবে বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন অশ্বিন। তার মতে, একই ধরনের সমর্থন তরুণ ইয়াশভি জয়সাওয়ালসহ দলের অন্য প্রতিভাবান ক্রিকেটারদেরও পাওয়া উচিত। ৫০টি টেস্ট খেলে ফেলা পন্তের কাছ থেকে এখন আরও বেশি পরিণত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে অশ্বিন বলেন, 'কাউকে বিশেষ সুবিধা দেবেন না। যদি এক প্রজন্মের সেরা প্রতিভার যুক্তি দেন, তাহলে সবার ক্ষেত্রেই সেই সমর্থন দিতে হবে। জয়সোয়ালও এমন একজন ক্রিকেটার।'

অশ্বিনের মতে, পন্তের প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই; প্রশ্ন তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন নিয়ে। তিনি বলেন, 'ঋষভ অভিজ্ঞ, সে ৫০টি টেস্ট খেলেছে। তাকে দায়িত্ব নিতে হবে। ‘প্রজন্মের সেরা প্রতিভা’-এই যুক্তি আর সামনে আনবেন না। তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই সে বাকি দুই ফরম্যাটে খেলছে না। যেদিন তাকে সত্যিটা বলা হবে, সেদিনই সে ভারতের তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারবে।'

আরো পড়ুন: