ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার আগেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সাকিব। ২০২৪ সালের নির্বাচনে হয়েছিলেন সংসদ সদস্যও। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কানাডায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারের পতন হওয়ায় দেশে ফেরা হয়ে উঠেনি তার। জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার জন্য একবার প্রচেষ্টাও চালিয়েছিলেন। তবে সফল হতে পারেননি।
এমন অবস্থায় বাংলাদেশের বাইরেই অবস্থান করতে হচ্ছে তাকে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমন অভিযোগ এনে সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি মামলা আছে সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক সময়ে নয়া দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন সাকিব। এমনকি ওইদিন রাতে তার বাসার সামনে পেট্রোল বোমাও ফোটানো হয়েছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাকিবের আর দেশে ফেরার সুযোগ নেই। এখন দেশে ফিরতে হলে বিচারের মুখোমুখি হয়েই ক্রিকেটে ফেরার কথা ভাবতে হবে। রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব নিজেও বাংলাদেশে ফেরার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও সেটার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলার সময় শ্রীলঙ্কায় বসে রয়টার্সের সঙ্গে ফোনালাপে সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে জানায় যে আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তাহলে আমি আনন্দের সঙ্গেই দেশে ফিরব, আদালতের বিচারসহ যা যা প্রয়োজন, সবকিছুরই মুখোমুখি হবো। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’
২০২৪ সালে ভারত সফরে সবশেষ বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব। পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরতে না পারায় লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি তার। তবে এমএলসি, আইএল টি-টোয়েন্টি, সিপিএল, টি-টেন, এলপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলো খেলেছেন। তবে অবসর নেওয়ার জন্য খুব বেশি দেরি করতে চান না। বরং দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলতে চান তিনি।
সাকিব বলেন, ‘আমি বেশির ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। ভালো লাগছে, খেলাটা উপভোগ করছি, ভালো খেলছিও। কিন্তু বয়স এখন আর আমার পক্ষে নেই। তাই খুব বেশি অপেক্ষা করতে পারব না।’
২০২৪ সালের ২৩ আগষ্ট সাকিবের নামে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। পোশাককর্মী মো. রুবেল হত্যা মামলায় ১৫৬ জনের মধ্যে ২৮ নম্বর আসামি করা হয় সাকিবকে। হত্যা মামলা নিয়ে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘এটা হাস্যকর একটা মামলা।’
এদিকে দেশে ফেরার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। রয়টার্স জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।