হৃদয়-সাকিবদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সোহানের গল

এলপিএল
এলপিএল
এলপিএল
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
কামিল মিশারা একপ্রান্ত আগলেও রাখলেও বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়, সাকিব আল হাসানরাও। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১২৩ রানেই গুটিয়ে যায় জাফনা কিংস। ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ সাকিব বোলিংয়ে ছিলেন দুর্দান্ত। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুইটি উইকেটও। তবুও জিততে পারেনি জাফনা। নুরুল হাসান সোহান একাদশে না থাকলেও এলপিএলের ফাইনালে জাফনাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গল গ্যালান্টস।

কলম্বোতে রানতাড়ায় ইনিংসের প্রথম ওভারেই স্যাম হার্পারের উইকেট হারায় গল। এক রানেই ফেরেন ছন্দে থাকা অস্ট্রেলিয়ান এই ওপেনার। পরের ওভারে আউট হয়েছেন চারিথ আসালাঙ্কা। ১০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ে তোলেন থমাস রজার্স ও দিনুরা কালাপাহানা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে প্রথমবার বোলিংয়ে আসেন সাকিব। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৫ রান দিলেও উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই অবশ্য উইকেট পেয়েছেন সাকিব। বাঁহাতি স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে টেনে নিয়ে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে দুনিথ ওয়েলালাগেকে ক্যাচ দিয়েছেন রজার্স। একই ওভারের শেষ বলে সাকিব ফিরিয়েছেন কালুপাহানাকেও। বাংলাদেশের স্পিনারের বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে ২ উইকেট নিয়ে মাত্র এক রান দিয়েছেন তারকা অলরাউন্ডার।

নিজের তৃতীয় ওভারে সাকিব খরচা করেছেন ২ রান। কোটার শেষ ওভারে দিয়েছেন ৭ রান। বাঁহাতি স্পিনে ৪ ওভারে ১৫ রান খরচায় নিয়েছেন দুইটি উইকেট। সাকিবের এমন বোলিংয়ের পরও জিততে পারেননি জাফনা। রজার্সের ৩৪ ও কালুপাহানার ৩১ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে গল। জাফনার হয়ে সাকিব ছাড়াও দুইটি উইকেট নিয়েছেন ম্যাথু ট্রাভিন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি জাফনা। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলেও ১৬ বলে ২০ রান করে ফিরতে হয় আভিস্কা ফার্নান্দোকে। ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে না পারেননি খাওয়াজা নাফেও। স্পিনার আসালাঙ্কার বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। দ্রুতই দুই উইকেট হারানোয় কামিল মিশারার সঙ্গে জুটি গড়ার বিকল্প ছিল না হৃদয়ের। বাংলাদেশের ব্যাটারের শুরুটাও ভালো হয়েছিল।

যদিও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি ডানহাতি এই ব্যাটার। সাচিন্দু কলোমবাগের ফুলার লেংথ ডেলিভারিতে ওয়াইড লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা মারতে চেয়েছিলেন হৃদয়। টাইমিংটাও হয়েছিল ঠিকঠাক। তবে মোহাম্মদ নাওয়াজের দারুণ এক ক্যাচে ফিরতে হয় তাকে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে গলের বিপক্ষে ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি করা হৃদয় আউট হয়েছেন ১০ বলে ১০ রান করে।

অধিনায়ক ভানুকা রাজাপাকশেও ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যাট হাতে রানের দেখা পাননি দুনিথ ওয়েলালাগেও। একপ্রান্ত আগলে রেখে জাফনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মিশারা। তবে ৩২ বলে ৪১ রান করা বাঁহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারকে বিদায় করেন এসান মালিঙ্গা। ৮৭ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন চামিন্দু বিক্রমাসিংহে ও সাকিব। তাদের দুজনের জুটি অবশ্য খুব বেশি বড় হয়নি।

অন্য সবার মতো রানের দেখা পাননি বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। মালিঙ্গার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব। ১৩ বলে ৯ রান করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। জাফনার পুঁজি বড় করার চেষ্টা করলেও ১৬ বলে ২৪ রানের বেশি করতে পারেননি বিক্রমাসিংহে। শেষ পর্যন্ত ১২৩ রানে অল আউট হয়েছে জাফনা। গলের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন আসালাঙ্কা ও মালিঙ্গা। থারিন্দু পেয়েছেন দুইটি উইকেট।

আরো পড়ুন: