বাংলাদেশ সিরিজ দিয়ে প্রত্যাশিত ব্যবসা না হওয়ার পাশাপাশি র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হকদের আমন্ত্রণ জানায় না অস্ট্রেলিয়া। আইসিসির টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে। যদিও মেলবোর্ন, সিডনি, পার্থ বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে অজিরা আতিথ্য দিচ্ছে ডারউইনে। যেখানে একসঙ্গে বসে পাঁচ হাজার মানুষ খেলা দেখতে পারে।
মাঠের ক্রিকেটে অবশ্য সবকিছুর জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে সবার ধারণা ছিল তিনদিনেই টেস্ট জিতে নেবে অস্ট্রেলিয়া সেখানে বাংলাদেশ টেস্ট জিতেছে সাড়ে তিনদিনে। সফরকারীদের কাছে ৯ উইকেটে হারার পর অস্ট্রেলিয়াকে ধুয়ে দিচ্ছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অঘটন হিসেবেও দেখছেন বেশিরভাগ মানুষ।
অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ভারত ও ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটাররা মজা নিচ্ছেন। সিরিজ বাঁচাতে দ্বিতীয় টেস্টে মরণ কামড় দেওয়ার বিকল্প নেই স্বাগতিকদের। জানা গেছে, ম্যাকাইয়ের উইকেট হতে পারে গ্যাবার মতো পুরোপুরি পেসবান্ধব। যা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য। অ্যালান ডোনাল্ডও মনে করেন, বাংলাদেশকে হারাতে নিজেদের সব অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া। তবে বাংলাদেশকে ডারউইনের পরিকল্পনায় স্থির থাকতে বলছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের সাবেক পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে অস্ট্রেলিয়া তাদের সব অস্ত্র নিয়ে আসবে। দুই ম্যাচের সিরিজে সহজেই মনে হতে পারে, ‘এটা তো কিছুই নয়, সিরিজ হারার সুযোগ নেই’; এরপর রক্ষণাত্মক হয়ে ভাবা, ‘ম্যাচটা ড্র করতে পারলেই কাজ হয়ে গেছে।' বাংলাদেশ ডারউইনে যে পরিকল্পনা কাজে লাগিয়েছে, সেটিতেই বিশ্বাস রাখতে হবে।’
ডারউইনে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ। স্মিথ, ট্রাভিস হেডের মতো ব্যাটারদের ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। দাপুটে বোলিংয়ে ৫৫ রানে নেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন উইকেট নিয়েছেন হাসান। ডানহাতি পেসারের এমন পারফরম্যান্সে খুশি ডোনাল্ড।
তিনি বলেন, ‘তারা দারুণ আধিপত্য নিয়ে বোলিং করেছে। হাসান এখন অবিশ্বাস্য ফর্মে আছে। ওর জন্য আমি খুবই খুশি। কয়েক বছর আগে প্রথমবার নেটে তাকে দেখেছিলাম। তখনই মনে হয়েছিল, এই ছেলেটার দক্ষতা আছে। বলের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ, একেবারে নিখুঁত জায়গায় বল ফেলতে পারে, দুই দিকেই সুইং করাতে পারে।’
বাংলাদেশের পেস বোলিং আক্রমণের গভীরতা নিয়ে ডোনাল্ড বলেন, ‘বোলিং আক্রমণের গভীরতা তখনই কার্যকর হয়, যখন নাহিদ রানা না থাকলে এবাদত হোসেনের মতো একজন এসে তার কাজটা করে দিতে পারে। এটা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের গভীরতা সম্পর্কে অনেক কিছু বলে। বাংলাদেশ যে তাদের বোলিং বিভাগে গভীরতা তৈরি করছে, সেটা দেখতে দারুণ লাগছে।’