টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের একই দশা

জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ সিরিজ
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটিং ব্যর্থতা যেন পিছুই ছাড়ছে না বাংলাদেশের। একমাত্র টেস্টের পর প্রথম দুই ওয়ানডেতেও জ্বলে উঠতে পারেননি সফরকারী ব্যাটাররা। শেষ ওয়ানডেতে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার মিলে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ থেকে বাঁচান। এক ম্যাচ পরই আবারও দুমড়ে-মুচড়ে পড়লো বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার। ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইয়াসির আলী রাব্বির হাফ সেঞ্চুরি ছাড়া আর কেউই বলার মতো কিছু করতে পারেননি। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় আবারও হারতে হয়েছে তাওহীদ হৃদয়দের। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ৩২ রানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল জিম্বাবুয়ে।

বুলাওয়েতে রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। যদিও প্রথম তিন ওভারে ২২ রান এনে ভালো শুরুর আভাস দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। তবে উদ্বোধনী জুটি বড় করতে পারেননি তারা। চতুর্থ ওভারে ফেরেন দুজনই। রিচার্ড এনগারাভার লাফিয়ে ওঠা বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ১৫ বলে ১২ রান করা সাইফ। একই ওভারে ফিরেছেন তানজিদও। বাঁহাতি পেসারের বাউন্সারে পুল করতে চেয়েছিলেন তিনি।

ঠিকঠাক টাইমিং না হওয়ায় উইকেটকিপারকে ক্যাচ দিয়েছেন ৮ বলে ১৬ রান করা তানজিদ। পরের ওভারে আউট হয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমনও। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে মিড অফের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেই চাপ সামলেবাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি তাওহীদ হৃদয় ও ইয়াসির।

তাদের ‍দুজনের জুটি জমে ওঠার আগেই ফেরেন হৃদয়। মিল্টন শুম্বার ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারিতে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানার কাছে ধরা পড়েন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ১৩ বলে ১৪ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। পরের ওভারে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহানও। রাজার বলে মিড অনে ঠেলে দিয়ে এক রান নিতে চেয়েছিলেন ডানহাতি এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে বল রাজার খুব কাছে থাকায় সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভাঙেন।

রান আউট হয়ে ফিরতে হয় সোহানকে। বাকিদের ব্যর্থতার মাঝেও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ইয়াসির। জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৩৩ বলে। হাফ সেঞ্চুরির পর টিকতে পারেননি ইয়াসির। এনগারাভাকে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন মিড অফে। ৩৮ বলে ৫৪ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ইয়াসিরের আগে ফিরেছেন ১৮ বলে ১৯ রান করা শেখ মেহেদী। সুবিধা করতে পারেননি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত থামতে হয়েছে রানে।

এর আগে শুরুর তিন ওভারেই বিনা উইকেটে ৩৮ রান তুলে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলে জিম্বাবুয়ে। তবে নিজের প্রথম ওভারেই তাদিওনাশে মারুমানিকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন নাহিদ রানা। এরপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফেরান মায়ার্সকে। তৃতীয় উইকেটে ব্রায়ান বেনেট ও সিকান্দার রাজা জুটি গড়ে রান তোলার গতি ধরে রাখলেও ৩০ বলে ৪৪ রান করা বেনেটকে ফিরিয়ে আবারও বাংলাদেশকে ছন্দ এনে দেন নাহিদ। পরে ১৩ বলে ২০ রান করা রাজাও বিদায় নিলে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে টানা দুই বলে মিল্টন শুম্বা ও তাশিঙ্গা মুসেকিওয়াকে আউট করে চার উইকেট পূর্ণ করেন নাহিদ। শেষ ওভারে খরুচে বোলিং করলেও ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার ছিলেন নাহিদই। রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্সের কার্যকর ব্যাটিংয়ে ১৭০ রানে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। এই দুজনের জুটি অক্ষত ছিল ৩১ রানে। বার্ল ২৫ বলে ৩০ ও ইভান্স ১০ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন।

আরো পড়ুন: