বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে: রশিদ লতিফ

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ চার টেস্টের সবকটিতে হেরেছে পাকিস্তান। টানা দুই টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ায় পাকিস্তানের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ধুয়ে দিচ্ছেন সাবেকরা। এসবের মাঝেও বাংলাদেশের প্রশংসা করতে ভুলছেন না তারা। বাংলাদেশের ক্রিকেট যে এগিয়ে গেছে সেটাই জানালেন রশিদ লতিফ। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার এও জানান, বাংলাদেশ ঘরের মাঠের সুবিধা নেয়নি।

সাদা পোশাকের ক্রিকেটে সময়টা বেশ ভালো যাচ্ছে বাংলাদেশের। ঢাকা টেস্টের পর সিলেটেও পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। যার শুরুটা হয়েছে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। সেবার পাকিস্তান সফরে গিয়ে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ফিরেছিলেন টাইগাররা। বিদেশের পর দেশের মাটিতেও বাবর আজমদের হারালেন শান্তরা।

টেস্ট ইতিহাসে কেবল দ্বিতীয় দল হিসেবে পাকিস্তানকে টানা দুই বা এর বেশি ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। এ ছাড়া বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম দল হিসেবে টানা সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হলো পাকিস্তান। এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রশিদ।

পাকিস্তানের এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাদের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ‘এ’ দল—সবই খুব ভালোভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের পরিশ্রমও অনেক বেশি। বাংলাদেশ দারুণ খেলেছে।’

দেশের বাইরে সবশেষ সাত টেস্টের সবকটিতে হেরেছে পাকিস্তান। দেশের মাটিতেও রেকর্ডটা খুব যে বেশি ভালো সেটা নয়। তবে নিজেদের মাটিতে প্রতিপক্ষকে হারাতে নিয়মিতই স্পিন উইকেট বানাচ্ছে তারা। শেষ সাউথ আফ্রিকা সিরিজেও স্পিন উইকেটে খেলেছে পাকিস্তান। যার ফলে পেসারদের চেয়ে স্পিনারদের নিয়ে বেশি পরিকল্পনা এঁটেছে তারা। বাংলাদেশ সফরে এসে অবশ্য বড়সড় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে।

স্পোর্টিং উইকেটের কারণে পাকিস্তানের ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার গতির পেসাররা প্রত্যাশিতভাবে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। রশিদ লতিফের মতে, বাংলাদেশ পরিকল্পনা করে নিজেদের সীমার মধ্যে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মনে করেন, এটা পুরনো বাংলাদেশ নয়।

রশিদ লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশ পরিকল্পনা করে খেলেছে। তারা সীমার মধ্যে থেকে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে। অনেক রানও করেছে।নতুন বল হাতে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পাকিস্তানকে অলআউট করে আজ সকালে আবার চাপ ধরে রেখেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘পেস বোলার ও স্পিনাররা খুব ভালো কাজ করেছে। উইকেট খুব বেশি সাহায্য না করলেও স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এটা পুরোনো বাংলাদেশ নয়, যারা শুধু টার্নিং ট্র্যাক বানিয়ে জিততে চাইত। এখন বাংলাদেশ পেস বোলার ও স্পিন—দুটো দিয়েই জেতার চেষ্টা করছে।’

বাংলাদেশ প্রায়শই ঘরের মাঠে স্পিন উইকেট বানিয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে নিজেদের স্পিনের শক্তিটা কাজে লাগায়। পাকিস্তান সিরিজে অবশ্য পুরোপুরি আলাদা উইকেট বানায় বাংলাদেশ। উইকেটে সবুজ ঘাস রাখার পাশাপাশি যেন রানও হয় সেটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উইকেট কতটা ভালো হয়েছে সেটা বোঝা গেছে প্রতিপক্ষের কথায়।

আসাদ শফিক, খুররম শাহজাদ কিংবা শান মাসুদের মতো পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা উইকেটের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশ হোম কন্ডিশনের সুবিধা নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে শান্তদের পাশ মার্কই দিয়েছেন রশিদ লতিফ। পাশাপাশি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ পাকিস্তানে গিয়ে তাদের হারানোর কথা। তিনি বলেন, ‘না, শুধু হোম কন্ডিশনের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশ তো পাকিস্তানের মাটিতেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে গেছে।’

‘তাদের আসলে দরকার ছিল আত্মবিশ্বাস। যেমন আমরা সম্প্রতি জিম্বাবুয়েকে ডেকে এনে ৩-০–তে হারিয়েছি, বাংলাদেশও পাকিস্তানকে নিজেদের মাঠে এনে তাদের দুর্বল দিক বুঝে পরিকল্পনা করে খেলেছে। তবে পাকিস্তানও ভালো লড়াই করেছে। এটা বলা যাবে না যে তারা খুব খারাপ খেলেছে। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য অনেক বড়। তারপরও কয়েকজন খেলোয়াড় চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে।’

আরো পড়ুন: