ছবির মাঝ বরাবর মুমিনুল হক ও ইবাদত হোসেনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। একটু বায়ে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের কাঁধে হাত রেখে খুশিতে পোজ দিয়েছেন পেস বোলিং কোচ শন টেইট। ছবিতে জায়গা করে নিয়েছেন ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল, ভারপ্রাপ্ত ফিল্ডিং কোচ আশিক মজুমদারও। তবে কোথাও নেই মুশতাক আহমেদ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্ট জয়ের পরও ছবি তুলেননি বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ। এমনকি সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করার পরও ড্রেসিং রুম থেকে বের হয়ে নিচে নামেননি মুশতাক। পাকিস্তানি সংবামাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নিজেই জানিয়েছেন সেটা। কোচ হিসেবে বাংলাদেশের জয়ে খুশি হলেও নিজের দেশ হেরে যাওয়ায় মন খারাপ ছিল মুশতাকের। এজন্যই দলীয় ছবি তুলতে যাননি তিনি। যদিও অন্য আরেকটি ছবিতে দেখা যায় তাকে।
মুশতাক বলেন, ‘মিশ্র প্রতিক্রিয়া তো অবশ্যই হয়। একজন পেশাদার হিসেবে আপনি যা জানেন সেটা তো আপনার খেলোয়াড়কে বলতেই হবে। আপনাকে আমি সত্যি বলছি, আজকে যখন (পাকিস্তান) হেরেছে তখন আমি সত্যিই উদাস ছিলাম। দুই টেস্টে আমরা (বাংলাদেশ) জিতেছি, কোচ হিসেবে আল্লাহ তো আমার কাজের পুরস্কার দিচ্ছেনই।’
‘একই সঙ্গে যেই পাকিস্তান দলের হয়ে খেলেছি, সেই পাকিস্তান দলের হয়ে খেলার জন্যই বাংলাদেশ আমাকে চাকরি দিয়েছে। আজকে আমি কিছুটা উদাস ছিলাম, এটা স্বাভাবিক একটা অনুভূতি। আপনি চাইলেও এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। যেটা বললাম, সত্যিই আমার খারাপ লেগেছে। আমি তো দলীয় ছবি তোলার জন্য নিচেও যাইনি।’
ঢাকার পর সিলেট টেস্টেও দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ চার টেস্টের সবকটিই জিতেছেন শান্তরা। সাদা পোশাকে বাংলাদেশ যতটা ভালো ক্রিকেট খেলছে পাকিস্তান ঠিক ততোটাই বাজে সময় পার করছে। দেশের বাইরে সবশেষ সাত টেস্টের একটিও জিততে পারেনি তারা। মুশতাকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে নাকি পাকিস্তান বেশি বাজে খেলেছে। এমন প্রশ্নের জবাবে, বাংলাদেশের ভালো ক্রিকেট খেলার প্রশংসা করেছেন তিনি।
সেটার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুশতাক বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশ খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছে। কারণ হিসেবে যদি বলি আমরা পাঁচ বোলার নিয়ে খেলেছি। টেস্ট ক্রিকেটে আপনি যদি ৬০০ রানও করেন তবুও আপনাকে ২০ উইকেট নিতে হবেই। আমরা দুই স্পিনার নিয়ে খেলেছি। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের সময়ও বলেছি, আপনি যখন এশিয়াতে উইকেটে ঘাস রাখবেন আর গরমের সময় খেলবেন তখন ঘাসের নিচে উইকেট কিছুটা শুকনা থাকে। প্রথম দুই-এক দিনে হয়ত কিছুটা সুইং থাকে কিন্তু পরবর্তীতে স্পিনাররা বড় ভূমিকা রাখে। আমার তো মনে হয় যত সময় যায় ততো স্পিনের জন্য ভালো হয়।’
‘আপনি যে প্রশ্ন করলেন, আমার মনে হয় বাংলাদেশ স্মার্টলি ক্রিকেট খেলেছে। আমাদের দল নির্বাচনও খুব ভালো ছিল, ৫ বোলার এবং ৬ ব্যাটার নিয়ে খেলেছি। ৬ নম্বরে খেলেছে উইকেটকিপার ব্যাটার (লিটন দাস)। আপনি দেখুন, দেড়শতে আমার ৬ উইকেট গিয়েছিল। পাকিস্তান যদি ৫ বোলার নিয়ে খেলতো তাহলে বাংলাদেশ হয়ত ২০০ রানে অল আউট হতো। আমি সবসময় ব্যাটারদের বলেছি আমাদের একটা জুটি দরকার। তারা যতো বেশি বোলিং করবে, ততো ভালো। দ্বিতীয় ইনিংসে তারা আমাদের ধরতে পারবে না। এসব ছোট ছোট জিনিস আপনাকে খেয়াল রাখতে হয়।’