‘বাংলাদেশ যখন আমাদের টেস্ট ক্রিকেট শেখায়, তখন অ্যালার্ম বেল বাজা উচিত’

বাংলাদেশ-পাকিস্তান
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ব্যাট-বলের লড়াইয়ের বাইরে সিলেট টেস্টে কথার লড়াইটাও বেশ জমেছে। মোহাম্মদ রিজওয়ানকে খেপিয়ে দিতে যা করা প্রয়োজন ছিল লিটন দাস সবটাই করেছেন। বাংলাদেশের উইকেটকিপারের পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিমরাও সেটা করার চেষ্টা করেছেন। একটা সময় তো লিটনের সঙ্গে রিজওয়ানের লেগেও যায়। মাঠের ভেতরের কথার লড়াইটা বেশ মনে ধরেছে শন টেইটের।

যদি রিজওয়ানের সঙ্গে এমন তর্ক পছন্দ হয়নি পাকিস্তানিদের। দেশটির সমর্থকরা তো লিটনকে পারলে যা তা বলার চেষ্টা করেছেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটের তলানিতে নেমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আনার পাশাপাশি সাংবাদিক সাজ সাদিক এক্স অ্যাকাউন্টে লিখলেন, ‘একটা সময় বাংলাদেশ পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অনুসরণ করতো। আমাদের ক্রিকেট এত নিচে নেমে গেছে যে তারা এখন আমাদের সঙ্গে মজা নেয়।’

সাদিকের আক্ষেপটা পরিষ্কার। রমিজ রাজা অবশ্য এসব নিয়ে আলাপই তুললেন না। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার থাকলেন ক্রিকেটের ভেতরেই। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে গিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে বাবর আজমদের হোয়াইটওয়াশ করেছিলেন শান্তরা। দুই বছরের ব্যবধানে ঘরের মাঠেও পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। দুই টেস্টেই দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে টাইগাররা।

একটা সময় টেস্ট ক্রিকেটের এক নম্বরে থাকা পাকিস্তানের এভাবে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না রমিজ। পিসিবির সাবেক সভাপতি জানান, বাংলাদেশ যখন পাকিস্তানকে টেস্ট ক্রিকেটের শিক্ষা দেয় তখন চিন্তার ভাঁজ কপালে পড়া উচিত। রমিজ বলেন, ‘টেকনিক্যাল বাদ দাও, মানসিকভাবে আমরা সবসময় বাংলাদেশের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তারা যখন আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের শিক্ষা দেয় তখন আপনার অ্যালার্ম বেল বাজা উচিত।’

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পেস বান্ধব উইকেট বানিয়ে পাকিস্তানকে হারায় বাংলাদেশ। সিরিজে এগিয়ে থাকায় চাইলেই ব্যাটিং উইকেট বানিয়ে সিরিজটা বাগিয়ে নিতে পারতেন শান্তরা। অথবা নিজেদের চিরচেনা স্পিন স্বর্গ বানিয়ে সফরকারীদের গুঁড়িয়ে দিতে পারতেন। তবে এসব না করে টেস্টে নিজেদের উন্নতির জন্য স্পোর্টিং উইকেট করেছে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক শান্ত কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টের এমন সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রমিজ। বাংলাদেশে ধারাভাষ্য দিতে আসা সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘শান্ত যেমন বলেই দিয়েছে আমাদের দুজন স্পিনার আছে, যাদের কিনা ২০০ কিংবা ২৫০ করে উইকেট আছে। কিন্তু আমরা স্পিন উইকেট বানাবো না। আমরা পেস বান্ধব উইকেট বানাবো কারণ পেসাররা বেশি ইফেক্টিভ।’

পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রমিজ বলেন, ‘আফসোস হয়। দেখুন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার লক্ষ্য ঠিক করতে পারবেন না ততক্ষণ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেট কিছুই করতে পারবেন না। শান মাসুদের অধিনায়কত্বে একই বোলিং লাইন আপ। দুই-একটা হয়ত পরিবর্তন হচ্ছে কিন্তু সেটাতে কোনো পার্থক্য তৈরি হচ্ছে না। ব্যাটিং ওইটাই আছে, বোলিংও তাই আর আমরাও হারতেছি। আপনার এটা ভাবতে হবে যে টেস্ট ক্রিকেটকে আপনি কোথায় দেখতে চান।’

আরো পড়ুন: