সিলেটে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন মুশফিক। ১৩৭ রান করা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার সাজিদ খানের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসের হাতে ক্যাচ দেন। তার বিদায়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। অন্যপ্রান্তে কোনো রান না করেই অপরাজিত ছিলেন নাহিদ রানা। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ওভারে বিনা উইকেটে শুন্য রান নিয়েই দিন শেষ করেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ভিত গড়ে দেন মুশফিক ও লিটন দাস। দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে যোগ করেন ১২৩ রান। লিটন ৬৯ রান করে হাসান আলীর বলে আউট হলে ২৩৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপর মেহেদি হাসান মিরাজ বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে তাদের ৭২ রানের জুটি বাংলাদেশের লিড আরও বড় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাইজুল ২২ রান করে ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস বড় করেন মুশফিক। শেষদিকে তাসকিন আহমেদ ৬ ও শরিফুল ইসলাম ১২ রান যোগ করেন। এর মধ্যেই ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক, যা বাংলাদেশের হয়ে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ১৩ সেঞ্চুরির মালিক মুমিনুল হককে। ১৩৭ রানের ইনিংসটি তিনি সাজান ১২টি চার ও একটি ছক্কায়।
দিনের শুরুতে অবশ্য দ্রুতই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ রান করে খুররম শাহজাদের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। এর আগে প্রথম দিনে তানজিদ হাসান তামিম করেন ৪ রান আর মুমিনুল হক ফেরেন ৩০ রান করে। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় অবশ্য আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৫২ রান করে দলের রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন।
বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন খুররম শাহজাদ। তিনি নিয়েছেন চার উইকেট। সাজিদ খান শিকার করেন তিনটি উইকেট। এ ছাড়া হাসান আলী নেন ২টি এবং মোহাম্মদ আব্বাসের ঝুলিতে যায় একটি উইকেট। এখন ম্যাচে টিকে থাকতে পাকিস্তানকে গড়তে হবে ইতিহাস।