বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে থাকেন মাহমুদুল হাসান জয়। তানজিদ হাসান তামিম ফিরলেও হাফ সেঞ্চুরি করেন জয়। ফিফটির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি মাহমুদুল। আগ্রাসী শট খেলতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেট হারান তিনি। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। ৬৪ বলে ১০টি চারে ৫২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
২২.১ ওভারে দলীয় শতক পার করে বাংলাদেশ। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুমিনুল হকের ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। ৬০ বলে ৩০ রান করে খুররম শেহজাদের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন মমিনুল। তখনই দিনের খেলা শেষ হয়। ৩২ বলে ১৩ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে আছেন শান্ত।
এর আগে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটাররা। তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। দুটি করে উইকেট পান তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ। চার বোলারের ধারাবাহিক বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ।
দিনের শুরুতেই পাকিস্তান শিবিরে আঘাত হানেন তাসকিন। আব্দুল্লাহ ফজলকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন তিনি। এরপর আজান আওয়াইজকেও সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশের এই পেসার। অন্য প্রান্তে মিরাজ ফিরিয়েছেন শান মাসুদ ও সাউদ শাকিলকে। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
চাপের মুখে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন বাবর আজম। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের ৩১তম অর্ধশতক তুলে নিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে বিরতির আগে নাহিদ রানার গতির ভিন্নতায় বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন বাবর। ৬৮ রানের সেই ইনিংস শেষ হতেই আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের দিকে চলে আসে।
বাবরের বিদায়ের পর পাকিস্তানের শেষদিকের ব্যাটারদের দ্রুত গুটিয়ে দেন তাইজুল। সালমান আলী আঘা, রিজওয়ান ও হাসান আলীকে ফিরিয়ে সফরকারীদের বড় জুটি গড়ার সুযোগ দেননি তিনি। চা বিরতির পর নাহিদ আরও একবার আঘাত হেনে খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সাজিদ খানকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস থামান এই তরুণ গতিতারকা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে লড়াইটা করেছিলেন লিটন কুমার দাস। শুরুতে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল। সেই অবস্থায় একপ্রান্তে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক তুলে নেন তিনি। ১২৬ রানের ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও দুটি ছক্কার মার। নিচের সারির ব্যাটারদের সহায়তায় বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ২৭৮ রানে। পাকিস্তানের হয়ে খুররম শাহজাদ চারটি এবং মোহাম্মদ আব্বাস তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন।