স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি, পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়। অবশ্য লিটন যখন উইকেটে মাত্র ২ রানে অপরাজিত তখন লিটনের সঙ্গী তাইজুল ইসলাম। চোখ রাঙাচ্ছিল দুইশ রানের মধ্যে অল আউটের শঙ্কাও। তবে লিটন সেখান থেকেই বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন।
এর মধ্যে তাইজুল ইসলামকে নিয়েই লিটন তোলেন ৬০ রান। এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আরও ৩৮। আর শরিফুলকে নিয়ে ৬৪ রান যোগ করে বাংলাদেশের সংগ্রহ আড়াইশ পার করেন লিটন। টেলএন্ডারদের নিয়েই ওয়ানডে স্টাইলে সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। এই ব্যাটার জানিয়েছেন টেলএন্ডাররা আরও ভালো খেললে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস পাওয়া যাবে।
তিনি প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আমার রোলটা একটু ভিন্ন। আমি যখন টেস্ট ক্রিকেট খেলি, কখনো কখনো ব্যাটিং করা লাগে মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে, মিরাজের সঙ্গে। যখন ব্যাটসম্যান থাকে, মানসিকতাটা পুরোপুরি আলাদা থাকে। কারণ আপনি জানেন সিঙ্গেল হয়ে গেলে সিঙ্গেল হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের টেলগুলো তো খুব একটা শক্ত না, যাদেরকে আমি প্রতি ওভারে চার পাঁচ বল খেলার সুযোগ করে দেব। অবশ্যই আমাদের টেল যদি ভবিষ্যতে আরও ভালো ব্যাটিং করে, তাহলে এই সুযোগগুলো থাকবে যে আমি প্রথম বলে এক নিয়ে নিলেও তারা খেলতে পারবে।'
টেলএন্ডারদের প্রশংসা করে লিটন বলেন, 'কঠিন, কিন্তু সবচেয়ে বড় জিনিস হলো এই নির্দিষ্ট ইনিংসটাতে সেঞ্চুরির থেকে বড় ব্যাপার যে আমাদের টেলে যারা ব্যাটিং করেছে, তাইজুল ভাই, তাসকিন, শরিফুল, এই তিনজন ব্যাটসম্যানই অনেকগুলো বল খেলেছে। যেটা একটা বড় সংগ্রহ... দেখেন, স্বাভাবিক, তারা তো রান করবে না, রান তো আমাকেই করতে হবে। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে রান করার দায়িত্বটা আমার। কিন্তু ওরা যখন উইকেটে থাকে, তখন আমার জন্য ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়।'
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই দ্বিতীয় টেস্টে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছিলেন লিটন। সেই ম্যাচে তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছিলেন মিরাজ। তবে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে লিটন উইকেটে যাওয়ার পর কোনো স্বীকৃত ব্যাটারের সাহায্য পাননি। তাই এই ইনিংসটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে চান লিটন।
তিনি বলেন, 'শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ইনিংসটা ছিল, ওটা পুরোপুরি আলাদা। কারণ মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপ ছিল। একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন আপনার সঙ্গে আরেকজন ব্যাটসম্যান থাকবে, তখন মানসিকতাটা পরিষ্কার থাকে। রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ছিল যে মিরাজ একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেকক্ষণ ইনিংস খেলেছে। প্রায় আমার ৮০ রানের মতো ছিল, তো ২০ রান আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। আর আজকেরটা পুরোপুরি আলাদা।'
টেলএন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং করা মোটেই সহজ নয়। ক্ষণে ক্ষণে থাকে উইকেট হারানোর ঝুঁকি। ফলে লিটন নিজেই দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন বলে জানিয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি পেসাররা ব্যাক অব দ্য লেন্থে বল করেছেন যা কাজে লাগাতে পেরে দারুণ খুশি বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
তিনি বলেন, 'আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে আমাকে চারটা করে বল খেলতে হবে, এক দুইটা বল আমার টেলএন্ডারকে দিতে হবে। মাথায় শুধু ওই জিনিসটাই ছিল যে যত বল আমি খেলব। আর আবারও বলছি, আমি বুঝতে পারছিলাম যে সামনের বলটা আমার জন্য রান করাটা কঠিন। তাই আমিও চাচ্ছিলাম তারা ব্যাক অব দ্য লেংথে বল করুক, যেটা আমি স্কোরিং সুযোগ হিসেবে নিতে পারি। এবং ওরা করেছে। আপনি যদি দেখেন, পেস বোলিংয়ের বেশির ভাগ রানই আমার ব্যাক অব দ্য লেংথের বল থেকে এসেছে। তো তারাও সফল, আমিও সফল।'