‘ভাগ্যবান’ লিটন বললেন, ভাগ্যেরও দরকার আছে

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজ
বিসিবি
বিসিবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
লিটন দাস আজ ভাগ্যবান ছিলেন— সাড়ে চার মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে কথাটা বেশ কয়েকবার বললেন খুররম শাহজাদ। সুযোগ পেয়েও বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটারকে আউট করতে না পারায় পাকিস্তান যে কতটা আক্ষেপে পুড়েছে সেটা বোঝা গেছে পুরোপুরি। শাহজাদের দাবিকে একেবারে উড়িয়ে দিলেন না লিটন। বরং জানালেন, মাঝে মাঝে ভাগ্যেরও দরকার আছে।

মেহেদী হাসান মিরাজ যখন ফিরলেন তখন বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ১১৬। দলের একমাত্র বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে উইকেটে আছেন লিটন। তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে টেনে তুললেন ডানহাতি এই ব্যাটার। নিজেও করলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। ১২৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশকে প্রায় তিনশ রানের পুঁজি এনে দেন তিনি। যদিও হাফ সেঞ্চুরির পরই ফিরতে পারতেন লিটন।

ব্যক্তিগত ৫২ রানের সময় শাহজাদের বাউন্সারে পুল করতে চেয়েছিলেন ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। তবে বল উইকেটকিপারের গ্লাভসে জমা পড়ার আগে লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আবেদন করলেও আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। পাকিস্তানও আর রিভিউ নেয়নি। একটু পর টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে যাওয়ার আগে লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে গেছে।

ইনিংসের বাকিটা সময় রিভিউ না নেওয়ার আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। সেই লিটনই শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন, যোগ করেছেন আরও ৭৪ রান। শাহজাদ মনে করেন, লিটনের সেই আউটটা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। পাশাপাশি রিভিউ কাজে লাগাতে না পারায় নিজেদের খানিকটা দুর্ভাগাও মানছেন পাকিস্তানের ডানহাতি পেসার।

শাহজাদ বলেন, ‘প্রথম দিকে আমরা উইকেট পেয়েছি। কিন্তু আমরা খানিকটা দুর্ভাগা ছিলাম। আমরা দুই-একটা রিভিউ মিস করেছি। লিটন দাস যেমন আউট ছিল কিন্তু আমরা দেরি করে ফেলেছিলাম। সে যদি তখন আউট হতো তাহলে ম্যাচের ফলাফল পুরোপুরি ভিন্ন হতো। কিন্তু এটা খেলারই অংশ।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘দেখুন— কখনো কখনো এমন হয়। তারা ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। লিটনের ভাগ্য সহায় হয়েছে। একটা নয়, দুটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। যদি সেগুলো নেওয়া যেত…এ রকম অনেক যদি–কিন্তু আছে। যদি তেমন হতো, তাহলে হয়তো সবকিছুই আলাদা হতো। হয়তো তারা দুইশর আগেই অল আউট হয়ে যেতো।’

১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশকে প্রায় একাই টানতে হয়েছে লিটনের। প্রতিটা ওভারের চার কিংবা পাঁচ বল খেলেই প্রান্ত বদল করতে হয়েছে। ধৈর্য্যের পরীক্ষায় পাশ করার ফলাফলও পেয়েছেন। তবে রান করাটা মোটেও সহজ ছিল না লিটনের জন্য। কারণ একটা সময় লিটন যখন আক্রমণাত্বক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেন তখন পাকিস্তান তাদের ফিল্ডারদের সীমানায় ছড়িয়ে দেয়। শাহজাদের দাবি অবশ্য, তারা সবসময়ই ডানহাতি ব্যাটারকে আক্রমণ করে গেছেন।

শাহজাদ বলেন, ‘আমরা তাকে যথেষ্ট আক্রমণ করেছি। আমার বোলিংয়েই দুটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। একবার সে কট বিহাইন্ড হয়েছিল যা গ্লাভসে লেগেছিল, আর দ্বিতীয়বার স্কয়ার লেগে একটি ক্যাচের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেটা লুফে নিতে পারেনি। আমরা তাকে বেশিরভাগ সময় আক্রমণাত্মক বোলিংই করেছি। আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে রানও আসে, আবার আউটের সুযোগও তৈরি হয়।’

আরো পড়ুন: