দিপুর সেঞ্চুরিতে মোহামেডানের জয়রথ থামিয়ে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক

ডিপিএল
ওয়ালটন
ওয়ালটন
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
সেঞ্চুরিয়ান শাহাদাত হোসেন দিপু যখন ফিরলেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ১৯ বলে ৩১ রান। ব্যাটিংয়ে এসেই রিশাদ হোসেনের উপর তাণ্ডব চালালেন আবু হায়দার রনি। দুই ছক্কায় সেই ওভার থেকে ১৬ রান তোলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ম্যাচ জিততে তখনো ১২ বলে ১৫ রান করতে হতো তাদের। উইকেটে আবু হায়দার ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি থাকায় কাজটা সহজই হওয়ার কথা। তবে ৪৯তম ওভারের প্রথম দুই বলে আবু হায়দার ও আবু হাশিমকে ফিরিয়ে কাজটা কঠিন করে দেওয়ার চেষ্টা করলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

যদিও পেস বোলিং অলরাউন্ডার শেষ পর্যন্ত পারলেন না। শামীম মিয়া ব্যাটিংয়ে এসেই শামীম পাটোয়ারিকে স্ট্রাইক দিলেন। ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে সাইফউদ্দিনের টানা দুই বলে ছক্কা মেরে ম্যাচটা পুরোপুরি ছিনিয়ে নিলেন। ৬ বলে যখন ১ রান দরকার তখন নাঈম আহমেদের বলে চার মেরে প্রাইম ব্যাংকের ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন শামীম। প্রাইম ব্যাংকের কাছে হারায় ডিপিএলের চলতি আসরে জয়রথ থামল মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। টানা পাঁচ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ উঠল প্রাইম ব্যাংক।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ৩০৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় প্রাইম ব্যাংককে ভালো শুরু এনে দেন আজিজুল হাকিম তামিম ও দিপু। তাদের দুজনের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে ৫৩ রান তোলে ক্লাবটি। ২০ রান করা আজিজুলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাঈম। দ্বিতীয় উইকেটে আরিফুল ইসলাম ও দিপু মিলে দলকে টেনে নিয়েছেন। যদিও ইনিংস বড় করতে পারেনি আরিফুল। সাইফউদ্দিনের বলে ফিরতে হয়েছে ৩১ রান করে। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন দিপু।

ভালো শুরু পেলেও ৫১ বলে ৩৬ রান করে আউট হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে প্রাইম ব্যাংকের কাজটা সহজ করেছেন আকবর আলীও। ৫ চার ও এক ছক্কায় ৩০ বলে ৪০ রান করে ফিরতে হয় ডানহাতি উইকেটকিপার ব্যাটারকে। সাবধানী ব্যাটিংয়ে ১১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে দিপু থামেন ১২৩ বলে ১১৮ রানের ইনিংস খেলে। দুইটি ছক্কার সঙ্গে ১০টি চার মেরেছেন তিনি। শেষের দিকে ২১ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করে প্রাইম ব্যাংকের জয় নিশ্চিত করেন শামীম। মোহামেডানের হয়ে চারটি উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩০৩ রান তোলে মোহামেডান। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পরও সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে নাইম শেখকে। ২ ছক্কা ও ৯ চারে ১০৭ বলে ৯৯ রানের ইনিংস খেলে হাশিমের বলে লেগ বিফোর হয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এ ছাড়া পারভেজ হোসেন ইমন ৫২, আফিফ হোসেন অপরাজিত ৪৯, এনামুল হক বিজয় ১৯ ও ইয়াসির রাব্বি ২২ রান করেছেন। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন হাশিম।

শুভাগত-নাসিরের ঝলকে অগ্রণীর আরেকটি জয়

তৌফিক খান তুষার, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, ইমরুল কায়েস ফিরলেন দ্রুতই। অগ্রণী ব্যাংকের রান একশ হওয়ার আগে ড্রেসিং রুমে ফিরে গেলেন মার্শাল আইয়ুব ও জাহিদ জাভেদ। ৮৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ছন্দে থাকা অগ্রণী ব্যাংক। তবে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরলেন নাসির হোসেন ও শুভাগত হোম। দেখেশুনে ব্যাটিং করলেন, জুটিও গড়লেন। একটু একটু করে দলকে এগিয়েও নিয়ে গেলেন তারা দুজন।

দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেন শুভাগত। সেঞ্চুরির সুযোগ তৈরি করেও ১০ চারে ৬৭ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয় অভিজ্ঞ ব্যাটারকে। তবে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন নাসির। ৫৯ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা তারকা ব্যাটার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৯ বলে ৭৮ রান করে। একটি ছক্কার সঙ্গে নয়টি চার মেরেছেন নাসির। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ডিপিএলের চলতি আসরে তৃতীয় জয় পেল অগ্রণী।

পিকেএসপিতে সকালের শুরুতে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৫২ রান তোলে গাজী ক্রিকেটার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলেন প্রিতম কুমার। এ ছাড়া ইমন আলী ৩৪, রুবেল অপরাজিত ৩৩ এবং নাঈম আহমেদ ২৩ রান করেন। অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে স্পিনার আরিফ আহমেদ চারটি ‍উইকেট নিয়েছেন। দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন রবিউল হক ও আশরাফুল হাসান।

আরো পড়ুন: