রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সেই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুশফিকুর রহিম-সাদমান ইসলামের দুর্দান্ত ব্যাটিং আর সাকিব আল হাসান-মেহেদী হাসান মিরাজদের স্পিন জাদুতে দশ উইকেটের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ম্যাচে লিটন দাসের ব্যাটিং আর মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ছয় উইকেটের জয় পায় সফরকারীরা। পাশাপাশি সেই সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগমনের জানান দিয়েছিলেন নাহিদ রানা।
টেস্ট ক্রিকেটে সবশেষ মোকাবেলায় এমন সুখস্মৃতি এবারে মাঠে নামার আগে বড় অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের জন্য। সেই সাথে গত মার্চে পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারানোর স্মৃতিও সঙ্গী সিমন্সের শিষ্যদের। তবে, জয়ের সেই ইতিহাস নিয়ে পড়ে থাকার পক্ষপাতী নন বাংলাদেশের ক্যারিবিয়ান কোচ। জানান, নতুন ইতিহাস তৈরিতেই উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি।
সিরিজপূর্ব সংবাদসম্মেলনে সিমন্স বলেন, 'এটি (পাকিস্তানে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়) ইতিহাস, সেই ইতিহাস চলে গেছে। আপনি এখন ইতিহাস নিয়ে কথা বলছেন, তাই আমরা এখন নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চাই। তাই আমরা শুক্রবারের অপেক্ষায় আছি এবং দেখব শুক্রবার থেকে কী হয়। তখন (পাকিস্তানে) কী ঘটেছিল তা কোনো ব্যাপার না।'
শুক্রবার (৮ই মে) থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজ প্রসঙ্গে সিমন্স আরও যোগ করেন, 'হ্যাঁ, আপনি এটি আপনার মনে রাখবেন, এটি আপনাকে ভেতরে একটি প্রেরণা দেয় যে আপনি শেষ ম্যাচটি জিতেছেন, তবে এটি একটি নতুন ম্যাচ, এটি একটি নতুন জায়গা, আমরা এখন বাংলাদেশে আছি, আমরা পাকিস্তানে নেই। তাই এই সমস্ত জিনিস আমাদের পেছনে ফেলার চেষ্টা করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা শুক্রবারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।'
সবশেষ মোকাবেলায় পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করলেও এই সিরিজকে বাংলাদেশকে নিরন্কুশভাবে এগিয়ে রাখতে চান না সিমন্স। লম্বা সময় পর টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের জন্যও এই সিরিজ সহজ হবে না বলে মনে করেন তিনি। দুই দলেরই শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক সিরিজ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
টেস্ট সিরিজে কোন দল এগিয়ে থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স বলেন, 'আমি মনে করি না কোনো একটি দল নির্দিষ্টভাবে বেশি ভালো অবস্থানে আছে। আমার মনে হয় এই টেস্ট ম্যাচে নামার আগে দুই দলেরই দুটি ভালো ফাস্ট বোলিং ইউনিট আছে। আমি এটাও মনে করি যে দুই দলেই দুটি ভালো স্পিন ইউনিট আছে।'
এ প্রসঙ্গে সিমন্স আরও যোগ করেন, 'মূল বিষয়টি হলো টেস্ট ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কারা লুফে নিতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রতিটি সেশনে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে যা আপনাকে জিততে হবে। তাই যে দল প্রতিটি সেশনে সেই মুহূর্তগুলো জিততে পারবে তারাই জয়ী হবে।'