ভারত থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরানোর প্রশ্নে যা বলছে বিসিসিআই

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
তোপের মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল খেলতে না দেয়ায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখছেন আসিফ নজরুল। এমন পরিস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যাতে ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয় এজন্য আইসিসিকে চিঠি দিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা। যদিও এত অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ম্যাচ সরানোর সুযোগ দেখছে না বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আইপিএলের আগামী আসরে কলকাতার হয়ে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজ। দলের প্রয়োজনে চেন্নাই সুপার কিংসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশি পেসারকে দলে টানে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে চাইলেও আগামী মৌসুমে তাকে খেলাতে পারছে না তারা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে এমন দাবি তুলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে বাদ দিতে বলে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন ও রাজনৈতিক দল।

তাদের সঙ্গে পেরে উঠতে না পারায় বিসিসিআইয়ের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে কলকাতা। বাঁহাতি পেসারের সঙ্গে এমন ঘটনায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে তিনটি ম্যাচ খেলবেন লিটন দাসরা। একটি ম্যাচ হবে মুম্বাইয়ে। যার ফলে প্রায় সপ্তাহ দুয়েক কলকাতায় থাকতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

ওই সময়ে লিটন-মুস্তাফিজদের নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা তো ভেন্যু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। লিটনদের ম্যাচগুলো যাতে ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা সেটার জন্য বিসিবিকে আইসিসির দ্বারস্থ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আসিফ নজরুল। উপদেষ্টার নির্দেশে আইসিসিকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বিসিবি। যদিও বিসিসিআই জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের এক মাস আগে এমন চাওয়া পূরণ করা প্রায় অসম্ভব।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র বলেন, ‘কারও খামখেয়ালিপনার বশে হুট করে ম্যাচ বদলে দেওয়া যায় না। এটা একেবারেই লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন। প্রতিপক্ষ দলগুলোর কথা ভাবুন—তাদের বিমান টিকিট, হোটেল সবই বুক করা।’ কেন পরিবর্তন সম্ভব নয় সেটার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিদিনই তিনটি করে ম্যাচ রয়েছে, যার অর্থ একটি ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে সম্প্রচার টিমও রয়েছে। ফলে বিষয়টা বলা যত সহজ, করা ততটা নয়।’

আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নেপাল এবং ইতালি। ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। একই মাঠে ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইতালি ও ইংল্যান্ড। লিটনদের শেষ ম্যাচটি হবে মুম্বাইয়ে। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলবে ১৭ ফেব্রুয়ারি।

আরো পড়ুন: