মুস্তাফিজ কি ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি পাবেন?

আইপিএল
এআই ব্যবহার করে ক্রিকফ্রেঞ্জি গ্রাফিক্স বিভাগের বানানো ছবি
এআই ব্যবহার করে ক্রিকফ্রেঞ্জি গ্রাফিক্স বিভাগের বানানো ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
‘সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি খেলোয়াড়টি যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন? এখানে আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি: একটি জাতিকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তার ধর্মকে? মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার ইস্যুতে এমন প্রশ্নে তুলে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। তিনি সমালোচনা করলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে না ভারতীয় বোর্ড।

অর্থাৎ আইপিএলের আগামী মৌসুমে আইপিএলে খেলা হচ্ছে না মুস্তাফিজের। আইপিএলে দল পেতে পারেন, এমন ধারণা ছিল আগে থেকেই। যদিও বাঁহাতি পেসার পুরো মৌসুমের জন্য এনওসি পাবেন কিনা সেটা নিয়ে সংশয় ছিল। সেই সংশয় উপেক্ষা করেই তাকে পেতে আগ্রহ দেখায় আইপিএলের তিন ফ্র্যাঞ্চাইজি। নিলামে পেসারদের দ্বিতীয় সেটে থাকা বাঁহাতি পেসারের ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি ‍রুপি।

মুস্তাফিজকে পেতে শুরুতে আগ্রহ দেখায় দিল্লি ক্যাপিটালস ও চেন্নাই সুপার কিংস। যদিও একটা সময় পর দিল্লি লড়াই থেকে ছিটকে যায়। সেই সময় চেন্নাইয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে যোগ দেয় কলকাতা। দুই দলের চাহিদা থাকায় দ্রুতই দাম বাড়তে থাকে বাঁহাতি পেসারের। একটা সময় চেন্নাইকে হটিয়ে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে নিজেদের করে নেয় শাহরুখ খানের কলকাতা। ফলে আগামী মার্চ থেকে পর্দা উঠতে যাওয়া আইপিএলে খেলার কথা ছিল তাঁর।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনায় সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছে ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও ধর্মগুরুরা। বাংলাদেশের পেসারকে যাতে খেলতে না দেয়া হয় সেটা নিয়ে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সতর্ক করেন তারা। একটা পর্যায়ে এসে মাঠ ভাঙচুর করার হুমকিও দিয়েছেন। জনগণের তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে কলকাতাকে নির্দেশ দেয় বিসিসিআই।

তিনবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরাও ভারতীয় বোর্ডের কথা মেনে মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে মুস্তাফিজ যেহেতু নিজে থেকে চুক্তি বাতিল করেননি তাহলে কী তিনি ৯ কোটি ২০ লাখ টাকার পুরোটা পাবেন? কিংবা আইপিএলে না খেললেও বাঁহাতি এই পেসার কত টাকা পাবেন? আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কারণে ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করতে পারে ভারতীয় বোর্ড।

গত বছর যেমন হ্যারি ব্রুককে আইপিএলে নিষিদ্ধ করেছে বিসিসিআই। মুস্তাফিজের বিষয়টি অবশ্য ভিন্ন। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার নিজে এমন কিছুই করেননি যেটার কারণে তাকে নিষিদ্ধ বা ব্যান করা যেতে পারে। রাজনৈতিক কারণেও তাকে সরিয়ে দেয়ার খুব বেশি সুযোগ নেই। পাশপাশি কোন ফ্র্যাঞ্চাইজিও নিলামের পর চাইলেই কারণ ছাড়া কাউকে বাদ দিতে পারে না।

তবে যদি কোন ক্রিকেটার ইনজুরিতে পড়েন কিংবা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেন সেক্ষেত্রে ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে পারে। ওই ক্রিকেটার যদি একটি ম্যাচও না খেলে তাহলে তাকে ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে পারিশ্রমিক দেয়া হয় না। এটা অবশ্য ‘নো প্লে, নো পে’ নিয়মে লেখা আছে। মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে দুইটি ঘটনার একটিও ঘটেনি।

ক্রিকেটার যদি নিজেকে না সরিয়ে নেন বা চোটে পড়েন তাহলে ওই ফ্র্যাঞ্চাইজি পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য থাকবে। মুস্তাফিজের ক্ষেত্রে কলকাতা অবশ্য নিজেদের ইচ্ছায় চুক্তি বাতিল করেনি। যার ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিরও খুব বেশি দায় নেই। সাধারণ দৃষ্টিতে সুনির্দিষ্ট কারণ ও ব্যাখ্যা ছাড়া ক্রিকেটারের চুক্তি বাতিল করার সুযোগ না থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে কিংবা অক্রিকেটীয় কারণে সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রাখে বিসিসিআই।

সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনার জেরে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ব্যবহার করে মুস্তাফিজের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে কলকাতাকে নির্দেশ দেয় ভারতীয় বোর্ড। ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নীতি তখনই ব্যবহার হয় যখন এমন একটি ঘটনা ঘটে যার জন্য কোনও পক্ষকে দায়ী করা যায় না। এমনকি ঘটনাটি এতটাই গুরুতর হতে হবে যে যেকোন পক্ষের জন্য চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মুস্তাফিজের ঘটনা প্রায় সেরকমই। বাঁহাতি পেসার আইপিএলে খেললে মবের সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই সিদ্ধান্ত কলকাতা ও বিসিসিআই। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের তারকা পেসার নিজে যেহেতু চুক্তি বাতিল করেননি সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দাবি করতেই পারেন। তবে ক্ষতিপূরণ পাবেন কিনা সেটার নিশ্চয়তা নেই। কারণ মুস্তাফিজকে টাকা দিতে বাধ্য নয় কলকাতা। তবে বিসিসিআই দেবে কিনা সেটাও বলা যাচ্ছে না।

আরো পড়ুন: