বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ • শের ই বাংলা স্টেডিয়াম, মিরপুর

BAN
301/4 (85 ov)
PAK
PAK opt to bowl

স্বাগতম বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টে

সুপ্রভাত! ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা ব্যস্ত থাকলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এখন মনোযোগ দিচ্ছে লাল বলের ক্রিকেটে। আজ ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের আপডেট নিয়ে আপনাদের সঙ্গে আছি আমি সৈয়দ সামি।

বাংলাদেশের একাদশে ৩ পেসার

এরই মধ্যে এই ম্যাচের টস অনুষ্ঠিত হয়েছে। টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাংলাদেশ এই ম্যাচে ৩ পেসার নিয়ে নিজেদের একাদশ সাজিয়েছে। নাহিদ রানার সঙ্গে আছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন।


বাংলাদেশ একাদশ-


নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, ইবাদত হোসেন চৌধুরী।

পাকিস্তান একাদশ-


আজান আওয়াইস, ইমাম উল হক, আবদুল্লাহ ফজল, শান মাসুদ (অধিনায়ক), সাউদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আঘা, শাহীন শাহ আফ্রিদি, নোমান আলী, হাসান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাস।

শুরুতেই জীবন পেলেন জয়

ব্যাট হাতে শুরু থেকেই সাবধানী ছিলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান জয়। ব্যক্তিগত ৪ রানে শাহীন আফ্রিদির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান জয়। আব্দুল্লাহ ফজল সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি। ফলে ১৪ রানে বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের হাত থেকে বেঁচে যায়।

জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না জয়

ব্যক্তিগত ৮ রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন মাহমুদুল হাসান হয়। ৪ রানে জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। ফলে বাংলাদেশ ১৮ রানে নিজেদের প্রথম উইকেট হারায়।

হাসান আলীর প্রথম বলেই আউট সাদমান

হাসান আলী নিজের প্রথম বলেই আউট করেছেন সাদমান ইসলামকে। ৩০ বলে ১৩ রান করে আউট হয়েছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। সহজ ক্যাচ নিয়েছেন স্লিপে থাকা ফিল্ডার সালমান আলী আঘা, ফলে ৩১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

শুরুর ধাক্কা সামলে শান্ত-মুমিনুলের জুটিতে স্বস্তি নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ

দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের হাল ধরেন মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের ব্যাটে লাঞ্চের আগেই শতরান তুলে নেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন অধিনায়ক শান্ত। উইকেটের চতুর্দিকে দারুণ সব শট খেলে বাংলাদেশের রানের চাকা সচল রেখেছেন তিনি। মুমিনুলও সমান গতিতে ব্যাটিং চালিয়ে যাচ্ছেন। দুজনের জুটি এরই মধ্যে পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেছে। ২৬ ওভার শেষে ১০১ রান নিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। শান্ত ৫০ বলে ৩৯ ও মুমিনুল ৫৭ বলে ৩১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন।

চার মেরে শান্তর হাফ সেঞ্চুরি

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর হাসান আলীর করা ৩১তম ওভারের শেষ বলে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে ৭১ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। টেস্ট ক্যারিয়ারের এটি শান্তর ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি। তার ব্যাটে ভর করে প্রথম ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

শান্তর পর মুমিনুলের হাফ সেঞ্চুরি

শান্ত হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেও দেখে শুনে খেলেছেন মুমিনুল। তিনি ১০২ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে বরাবরই সাবলীল মুমিনুল। তিনি দলটির বিপক্ষে নিজের চতুর্থ টেস্ট হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন।

সেঞ্চুরির পর শান্তর বিদায়, ভাঙল জুটি

শান্ত হাফ সেঞ্চুরির পর আরও বেশি মারমুখী হন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ১২৯ বলেই সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। মোহাম্মদ আব্বাসকে ড্রাইভ করে কাভার দিয়ে চার মেরে তিন অঙ্কে পৌঁছান বাংলাদেশ অধিনায়ক। যদিও পরের বলেই এলবি ডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয়েছে শান্তকে। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংস। এর ফলে তৃতীয় উইকেটে মুমিনুলের সঙ্গে শান্তর জুটি ভেঙেছে ১৭০ রানে।

সফল সেশনে বাংলাদেশের জুটি ভাঙার আক্ষেপ

চা বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে শান্ত সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দ্বিতীয় সেশনটি পুরোপুরি বাংলাদেশের করে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে শান্তর উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ বড় ধাক্কা খায়। তবে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সেশনে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। এই সেশনে ২৭ ওভার খেলে ১০০ রান তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০১ রান। মুমিনুল ৬৪ ও মুশফিক কোনো রান না করেই অপরাজিত আছেন।

বাংলাদেশের আড়াইশ, সেঞ্চুরির পথে মুমিনুল

চা বিরতি থেকে ফিরে দেখেশুনে ব্যাটিং করছেন মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। তাদের দুজনের জুটিতে আড়াইশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথে মুমিনুল। বাঁহাতি ব্যাটার অপরাজত ৮১ রানে। মুশফিক ব্যাটিং করছেন ১৮ রান নিয়ে।

মুমিনুলকে সেঞ্চুরি করতে দিলো না পাকিস্তান

সাবধানী ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন মুমিনুল হক। তবে বাঁহাতি ব্যাটারকে সেঞ্চুরি করতে দেননি নোমান আলী। বাঁহাতি স্পিনারের নিচু হওয়া ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে গিয়ে লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। তবে ব্যাটে-বলে না হওয়ায় বল আঘাত হাতে প্যাডে। আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ারও আঙুল তুলে দেন। মুমিনুল রিভিউ নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। ২০০ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয়েছে তাকে।

প্রথম দিনে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলল বাংলাদেশ

‘(প্রথম ইনিংসে) চার শর বেশি রান যদি আমরা করতে পারি, সেটা দলের জন্য খুব ভালো।’ মিরপুর টেস্ট শুরুর একদিন আগে এমনটাই বলেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের চাওয়া অনেকাংশে পূরণ হওয়ার পথে। প্রথম টেস্টের দিনের প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০১ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনের সকালে শ’খানেক রান তুলতে পারলে খুশিই হবেন শান্ত। সেই রানের পেছনে বড় অবদানটা অবশ্য বাঁহাতি ব্যাটারেরই। উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া থাকলেও প্রত্যাশিতভাবে সুইং, সিম মুভমেন্ট পায়নি পাকিস্তানের পেসাররা।


সকালের শুরুতে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামকে ফিরিয়ে ভয়ই ধরিয়ে দিয়েছিলেন শাহীন আফ্রিদি ও হাসান আলী। তবে প্রথম এক ঘণ্টার পর দিনের বাকি সময়টাতে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি সফরকারীদের। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে আরেকটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন শান্ত। ছন্দে থাকা মুমিনুল হককে অবশ্য আবারও আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ফিরতে হয়েছে ৯১ রানের ইনিংস খেলে। শেষ বিকেলে ৪৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছেন মুশফিক। ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের সকালে আবারও ব্যাটিংয়ে নামবেন মুশফিক ও লিটন দাস।