শুরু থেকেই বেঙ্গালুরুর ব্যাটারদের মধ্যে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। পাওয়ার প্লে থেকেই গুজরাতের বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা। তবে বাকিদের থেকে আলাদা ছিলেন পাতিদার। শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও পরে যেন অন্য রূপে ধরা দেন তিনি। মাঠের চারদিকে খেলেছেন দৃষ্টিনন্দন সব শট। গুজরাটের বোলাররা লাইন-লেংথ বদল করেও তাকে থামাতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে অবশ্য নিজের ইনিংস নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস দেখাননি বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক। বরং দলের সামগ্রিক ব্যাটিংকেই বড় করে দেখেছেন তিনি। পাতিদার বলেন, 'দুর্দান্ত একটা ম্যাচ খেললাম। সব ব্যাটারই সাহসী শট খেলে বিপক্ষকে শাসন করেছে। স্পষ্ট কোনও পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে নামিনি। তবে শরীরীভাষায় ওদের বোঝানোর দরকার ছিল যে, আমরা তৈরি।'
তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই গুজরাটকে চাপে রাখাই ছিল মূল লক্ষ্য। সেই কারণে প্রতিটি ব্যাটার আগ্রাসী মানসিকতা নিয়েই খেলেছেন। পাতিদারের ভাষায়, 'প্রত্যেক ব্যাটার আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করেছে। আমরা চাইছিলাম শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে।'
শুরুতে ধীরগতির ব্যাটিং নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক। তার মতে, উইকেট বুঝে নেওয়ার জন্য কিছু সময় নেওয়া জরুরি ছিল। এরপরই আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পাতিদার বলেন, 'সাধারণত পিচ বোঝার জন্য আমি ৮-১০ বল সময় নিই। তার পরে স্বচ্ছ মানসিকতা নিয়ে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলি। নিজের উইকেটের পরোয়া করি না।'
গুজরাতের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়েও আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়েছিল বেঙ্গালুরু। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের শীর্ষ তিন ব্যাটারকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য ছিল তাদের। সেই পরিকল্পনা সফল হয়েছে বলেই মনে করেন পাতিদার। তিনি বলেন, 'গুজরাত যেমন খেলছিল, তাতে বুঝেছিলাম ওদের প্রথম তিন ব্যাটারকে দ্রুত আউট করতে হবে। আমরা সেটাই করতে পেরেছি।'
এই জয়ে ইতিহাসও গড়েছে বেঙ্গালুরু। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ষষ্ঠ দল হিসেবে টানা দুইবার ফাইনালে উঠল তারা। সব মিলিয়ে এটি তাদের পঞ্চম ফাইনাল।