কখনো কারও মতো হতে চাইনি, চেয়েছি নিজের স্টাইলেই খেলব: সোবহানা

নারী ক্রিকেট
ক্রিকফ্রেঞ্জি
ক্রিকফ্রেঞ্জি
মমিনুল ইসলাম
মমিনুল ইসলাম
সোবহানা মোস্তারির ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে সংশয় ছিল না কখনই। বেশিরভাগ সময়ই অধিনায়ক-কোচরা প্রশংসা করছেন, পারফরম্যান্সে প্রত্যাশা মেটাতে না পারলেও পাশে থেকেছেন। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের প্রথম কয়েক বছরের পারফরম্যান্সে হতাশা আছে সোবহানার নিজেরও। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েছেন, সমালোচনার ঝড় সামলেছেন। জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে আলোর দেখা পেতে শুরু করেছেন ২৩ বছর বয়সি ব্যাটার। জন্মগতভাবেই বড় শটস খেলায় পারদর্শী ছিলেন সোবহানা। যদিও দু-চারটা শট খেলেই ফিরতে হয়েছে তাকে। তবে ফিটনেসে উন্নতি এনে নিজেকে বদলে ফেলেছেন।

এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সেটার ফলও পেয়েছেন সোবহানা। নেপালে হওয়া টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচের সাতটিতে জিতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। বাংলাদেশের দুর্দান্ত সাফল্যের পেছনে বড় অবদান রেখেছেন ডানহাতি ব্যাটার। ৭ ম্যাচে ৫২.৪০ গড় ও ১৪৫.৫৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৬২ রান। বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটার হিসেবে এক সিরিজ বা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড গড়েছেন। স্ট্রাইক রেটেও সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন তিনি। বাছাই পর্ব শেষে দেশে ফিরে ক্রিকফ্রেঞ্জিকে বাংলাদেশের সাফল্য, নিজের বদলে যাওয়া, জীবনের কঠিন সময় এবং ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন। সোবহানার কথা শুনেছেন মমিনুল ইসলাম

ক্রিকফ্রেঞ্জি: সাত ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছেন। আপনারা যে প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলেন সেটা পুরোপুরি পূরণ করতে পেরেছেন?

সোবহানা মোস্তারি— স্বাভাবিকভাবে এবারের বাছাই পর্বটা একটু ভিন্ন রকমের ছিল। সাধারণত আমরা সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলি—দুইটা দল ফাইনালে উঠে এবং তারাই বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করে। শুরুতে যখন আমরা সূচি জানতে পারলাম তখন দেখলাম দুইটা ধাপে খেলা হবে। আমরা প্রতিপক্ষ পরিকল্পনা সাজিয়েছি। আমরা জানতাম গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্সে যেতে পারব। আমাদের পরিকল্পনাটাও ওইভাবেই ছিল যে আমরা গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হবো। পরের রাউন্ডে গিয়ে তিনটা ভালো প্রতিপক্ষ পাব, তাদেরকেও হারাতে হবে। কারণ ওই পয়েন্টগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো এবং সেটা করতে পেরেছি।

ক্রিকফেঞ্জি: আপনারা তো গত কয়েক বছর ধরেই বাছাই পর্বে ভালো করছিলেন। ওই আত্মবিশ্বাসটাও কী কাজে দিয়েছে?

সোবহানা মোস্তারি— হ্যাঁ, ২০১৯ সাল থেকে আমি দলের সঙ্গে আছি। আমরা মনে হয় টানা চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, একবার রানার্স আপ। বাছাই পর্ব মানে আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো এরকম একটা আশা থাকে। কারণ সিনিয়র আপুদের দেখেছি, এখন হয়ত আমাদের উপরও দল কিছুটা নির্ভর করে। আমরা ওইটার উপর ভিত্তি করেই কিভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায় সেটার জন্য অনুশীলন করেছি। তারপরও বলব বাইরের দলগুলো যেভাবে উন্নতি করেছে, বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড, এমনকি থাইল্যান্ডও...।

আমরা পাপুয়া নিউগিনির সঙ্গে খেললাম ওরাও অনেক উন্নতি করেছে। আপনি যদি মার্ক করতে চান তাহলে দলগুলো হয়ত সবাই প্রায় ১৮-২০। কারণ কোনো ম্যাচই সহজ ছিল না। আমরা হয়ত সহজে জিতেছি কিন্তু কোনো দলকেই আমরা সহজভাবে নিইনি। সবাই উন্নতি করেছে, আমরাও ‍উন্নতি করেছি। আমাদের আলাদাটা একটা বিশ্বাস ছিল গত ৬-৭ বছরে আমাদের ভালো একটা স্মৃতি আছে। আমরা সেটাই ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দল হিসেবে আপনাদের ব্যাটিং ছিল চোখে পড়ার মতো। বাছাই পর্বে ভালো করার পেছনে এটা একটা বড় কারণ কিনা...

সোবহানা মোস্তারি— আমাদের প্রস্তুতির কথা যদি বলেন আমরা গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে বেশিরভাগই ভালো উইকেটে খেলেছি। এরপর আমরা পুরোপুরি টি-টোয়েন্টিতে ফোকাস করি, এজন্য আমাদের কাছে দুই-তিন মাস সময় ছিল। ওই সময়ে আমরা কী ধরনের অনুশীলন করতে পারি সেগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি। ইনডোরের অনুশীলনটাও কাজে লাগাতে পেরেছি কারণ ইনডোরে সাধারণ বাউন্সি টাইপের উইকেট থাকে। এ ছাড়া সাইড উইকেটগুলোও ওইভাবেই বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা আসলে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী উইকেট পেয়েছি। বিসিএল টি-টোয়েন্টি বড় একটা কারণ ছিল।

রাজশাহীতে যখন বিসিএল খেলেছি তখন আমরা অনেক ভালো উইকেট পেয়েছিলাম। প্রায় প্রতি ম্যাচেই আমরা ব্যাটাররা অনেক ভালোভাবে অবদান রাখতে পেরেছিলাম। এ ছাড়া আমাদের দলের কথা যদি বলেন তাহলে ভালো করছে, সুপ্তা আপু অনেক দিন পর টি-টোয়েন্টি দলে যুক্ত হয়েছে, আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকেই খেলছে। জ্যোতি আপু, স্বর্ণা তো ছিলই তবে সুপ্তা আপু দলে আসায় আমাদের ব্যাটিং আরও শক্তিশালী হয়েছে। টপ অর্ডারে কেউ একজন ভালো করে দিচ্ছে, উনি ধারাবাহিকও। (দিলারা আক্তার) দোলা সবসময় ভালো করে, এবারও দারুণ সাপোর্ট দিয়েছে। জয়িতার কথা যদি বলি নতুন হিসেবে দারুণ পারফরম্যান্স করেছে।

সব মিলিয়ে কেউ না কেউ দলকে টেনে নিয়ে যেতে পেরেছি। সেটা জ্যোতি আপু হোক, সুপ্তা আপু হোক কিংবা সেটা আমি হই। স্বর্ণার কথাও বলতে হবে। বেশ কয়েকটা ক্যামিও ইনিংস খেলেছে, অনেক ভালো ভালো শটস খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের পরিকল্পনাটা ছিল ওপেনিং জুটি যতক্ষণ পর্যন্ত পারে ভালো শটস খেলবে। তারপর আমার, সুপ্তা আপু, জ্যোতি আপুর মধ্যে একটা পরিকল্পনা ছিল। এমনিতেও আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো। কে কখন নামবে, কিভাবে খেলবে এসব পরিকল্পনা নিয়ে আমরা একেবারে ক্লিয়ার ছিলাম।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: একটা সময় আপনাদের ১৫০ রান করার জন্য স্ট্রাগল করতে হতো। কিন্তু এবারের বাছাই পর্বে আপনারা ১৬০-১৭০ অনায়াসে করেছেন। টপ অর্ডাররা ভালো করায় এটা সহজ হয়েছে কিনা...

সোবহানা মোস্তারি— ব্যাটিংয়ে আমরা কোনো না কোনো পর্যায়ে আমাদের একটা ধস নেমেছে। কখনো হয়ত পাওয়ার প্লেতে আবার কখনো বা ৭-১৫ ওভারের মধ্যে। এমন হয়েছে পাওয়ার প্লেতে আমাদের ৪০ রান করতে হতো কিন্তু একটা উইকেট পড়ে যাওয়ায় দোলা হয়ত ৩০ রান করেছে। কিন্তু ৭-১৫ ওভারের সময় আমরা ওইটা কাভার করেছি। আবার ডেথ ওভারে যদি দেখেন তখন স্বর্ণা বা আমি সেটা কাভার করার চেষ্টা করেছি। কেউ না কেউ ওইটা পূরণ করেছি। একেকজন একেক জায়গায় ভালো পারফর্ম করায় কাজটা সহজ হয়েছে। দেখা গেছে, সুপ্তা আপু ৭ থেকে ১১ কিংবা ১৫ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেছে। জ্যোতি আপুও শেষের দিকে ভালো শটস খেলেছে। এজন্য আমরা ভালো পুঁজি পেয়েছি।

আপনি দেখবেন আগের বাছাইপর্বগুলোতে আমরা হয়ত ১১০-১২০ রানে গিয়ে আটকে যেতাম। জেতার জন্য আমাদের পুরোপুরি বোলারদের উপর নির্ভর করতে হতো। এই প্রথম মনে হয় আমরা প্রতিটা ম্যাচেই ১৫০ রান করেছি। এটা আমাদের জন্য অন্যরকম একটা অনভূতি ছিল। কারণ প্রতিটা টিম মিটিংয়েই বলেছি এই টুর্নামেন্টে আমরা ব্যাটাররা সফল হয়েছি। আমাদের সাধুবাদ জানানো উচিত। দোলা যেভাবে খেলেছে, সুপ্তা আপু, জয়িতা, স্বর্ণা এ ছাড়া রাবেয়াও ছোট ছোট ক্যামিও খেলেছে। রিতু আপুও একটা ম্যাচে ভালো ক্যামিও খেলেছে। সবাই নিজেদের জায়গা থেকে অবদান রেখেছে।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: আপনি সবার প্রশংসা করছেন কিন্তু আপনি নিজেও তো ভালো খেলেছেন। ৭ ম্যাচে ১৪৫.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ২৬২ রান...

সোবহানা মোস্তারি— সবসময় দল চাইতো আমার যেন কোনো অবদান থাকে। আমি হয়ত ঘরোয়া ক্রিকেটে, অনুশীলন ম্যাচে কিংবা নেটে ভালো করছি কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবদান রাখতে পারছিলাম না। আমাকে নিয়ে সবারই অনেক প্রত্যাশা। প্রথম তিন-চার বছরে আমি ওই অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি, এটা আমি নিজেও স্বীকার করি। কিন্তু কখনই ম্যানেজমেন্ট বা আমার অধিনায়ক জ্যোতি আপু আমাকে এটা অনুভব করায়নি যে আমি গুরুত্বপূর্ণ না। এটা আমার জন্য বড় ব্যাপার। আমার কাছে মনে হয় ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটা পার্থক্য আছে।

ঘরোয়াতে ভালো করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটা ক্যারি করতে পারছিলাম না। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে আমি বড় দুইটা দলের সঙ্গে ভালো করেছিলাম। তখনই হয়তবা আমার মোমেন্টাম আসে, আত্মবিশ্বাসটা পাই। বাছাইপর্বে যাওয়ার আগে বিসিএল টি-টোয়েন্টি খেলেছি, অধিনায়কও ছিলাম। আমার মনে হয় সেটা অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। বিসিএলে হয়ত আমি তিনে খেলেছি আর এখানে পাঁচে। তবে আমাকে যখন দলের দরকার পড়েছে আমি ওই অনুযায়ী পারফর্ম করার চেষ্টা করেছি।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: ওয়ানডে বিশ্বকাপের ওই ইনিংস দুইটা কী তাহলে আপনার জন্য টার্নিং পয়েন্ট?

সোবহানা মোস্তারি— জ্বী, অবশ্যই। তবে আমি বলবো ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা আমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আপনি যদি দুবাই বিশ্বকাপটা দেখেন সেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৪ রানের একটা ইনিংস খেলেছিলাম। একটা ম্যাচ ব্যতীত প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই ৩০ কিংবা ৪০ রান করেছি। ওইটা একটা আশা দিয়েছে যে দলের জন্য আমি গুরুত্বপূর্ণ, আমাকেও কিছু করতে হবে। তারপর থেকে অনুশীলনটাও সেভাবে করতে থাকি। এ ছাড়া ফিটনেসেও আমি অনেক ফোকাস করেছি। একটা সময় আমার শটস হয়ত ৬০ গজ পর্যন্ত যেতো, এখন সেটা ৮০ গজ পর্যন্ত যাচ্ছে। আমি একটা গল্প বলতে চাই...। চার বছর আগে আমি তখন স্ট্রেন্থ বা ফিটনেস নিয়ে খুব বেশি সিরিয়াস ছিলাম না। তখন আমি জন্মগতভাবেই বিগ হিটার ছিলাম।

একদিন আমাদের ফিজিও সুরাইয়া আপু আমাকে উনার রুমে ডাকেন। তারপর আমাকে বলতেছিল, ‘সোবহানা তুমি এতো কম বয়সে এতো ভালো হিট করতে পারো কিন্তু কখনো কী চিন্তা করেছো যে তোমার প্রতিটা বলই কেন সীমানায় গিয়ে ক্যাচ হচ্ছে?’ তখন আমি ওইভাবে কোনো উত্তর দিতে পারিনি। তখন উনি বলতেছিল, ‘তুমি হয়তবা এখন ১০ কেজির ডাম্বেল নিয়ে জিম করো। তুমি যদি আস্তে আস্তে একটু বাড়াতে পারো। সেটা হয়ত এক বা দুই মাসে নাও হতে পারে। হয়তবা ছয় মাস কিংবা এক বছরের কোনো পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারো। তুমি যদি ২০ কেজি ডাম্বেল দিয়ে স্ট্রেন্থ বাড়াতে পারো তখন দেখবা ৬০ মিটারের জায়গায় বল ৮০ মিটারে গেছে।’ তারপর থেকে আমি ফিটনেসে আমি অনেক বেশি ফোকাস করেছি। এখন হয়তা ৫০-৫৫ গজের জায়গায় বলগুলো ৭০ গজে যাচ্ছে। ওইদিক থেকে আমি অনেক বেশি সফল।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: ব্যাটিং নিয়ে কারও সঙ্গে আলাদাভাবে কাজ করেছেন?

সোবহানা মোস্তারি— চার-পাঁচ বছর ধরে আমি নাসির উদ্দিন ফারুক ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করছি। আমি তো বললামই আমি সফল ক্রিকেটার ছিলাম না। কিন্তু উনি আমাকে শুরু থেকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। অনেক সময় আমি যখন দলের বাইরে থাকতাম মানে একাদশের বাইরে থাকতাম উনি তখন ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নিয়ে কাজ করেছেন। স্ল্যাবের উপর প্লাস্টিক বল দিয়ে অনুশীলন করাতেন। উনি নিজে প্লাস্টিক বল নিয়ে আসতেন, যেটা আমাদের অনেক দরকার হয়। উনি নিজেই এসব ম্যানেজ করেছেন। স্ল্যাবে থ্রো করেছেন, সারাদিন বল থ্রো করতেন। উনার সঙ্গে আমি অনেক ফ্রি।

আমার যেটা খারাপ লাগত কিংবা খেলতে পারছি না সেটাও তার সঙ্গে শেয়ার করেছি। বড় ভাই কিংবা ব্যাটিং কোচ হিসেবে উনি আমাকে অনেক সহায়তা করেছেন। উনি তো বিশ্বকাপেও ছিল, বিশ্বকাপের পর এখানে অনেকগুলো অনুশীলন সেশন করেছি। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে আমরা নির্দিষ্ট জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করেছি। এ ছাড়াও ব্যাটিং উইকেটে কিভাবে খেলতে হবে সেটা নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করিয়েছে। যেটা বললাম প্লাস্টিক বল, ক্রিকেট বল, মেশিনেও কাজ করেছি। এ ছাড়াও এই টুর্নামেন্টে আমাদের সাথে ডেভিড হেম্প ছিল। কিছু নির্দিষ্ট জিনিস নিয়ে কাজ করেছে। যদিও অনেক দিন যাবত আমাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবুও সে আমাকে অনেক সহায়তা করেছে।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক সিরিজ বা টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। স্ট্রাইক রেটও চোখে পড়ার মতো। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে কী বলবেন?

সোবহানা মোস্তারি— আমি যখন ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেছি তখন আমি আসলে এমনই হতে চেয়েছিলাম। ওই স্বপ্নটা হয়তবা এখনো আমার পূরণ হয়নি। প্রথম দিকে দেখবেন আমি ছয় কিংবা সাতে নামতাম কিন্তু অবদান রাখতে পারতাম না। হয়তবা বুঝতাম না বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে মোমেন্টামটা দরকার সেটাও নিতে পারতাম না। সোবহানা মোস্তারি যেমন হতে চেয়েছিল সেটা হয়তবা এত বছর পর এসে শো করতে পেরেছি। আমি বলবো না বিশ্বসেরা দলগুলোর সঙ্গে আমি করতে পেরেছি। কিন্তু বিশ্বকাপ যেহেতু বিশ্বের সেরা দলগুলোর সাথেই হবে আমি ওইখানেও এটা করার চেষ্টা করব। যেটা শুরু হয়েছে সেটা মনে রাখার মতো। বিশ্বকাপেও যেন একইভাবে পারফর্ম করতে পারি ওইটার জন্য ওইভাবে অনুশীলন করার চেষ্টা করব।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: প্রত্যাশিতভাবে পারফর্ম করতে না পারায় আপনি তো দল থেকে বাদও পড়েছেন। ওই সময়টা কতটা কঠিন ছিল?

সোবহানা মোস্তারি— আমি বলবো না ওই বয়সে ওইটা (বাদ পড়া) আমার নেওয়ার ক্ষমতা ছিল। ওই সময় প্রতিটা মুহূর্তে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। বিশেষ করে দুবাই বিশ্বকাপের আগে যখন অনেক বেশি সমালোচনা হচ্ছিল। আমি নিজেও প্রেসগুলো দেখেছি। আমার পরিবারও দেখেছি। পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় ছিল আমি কী ফিল করছি সেটা নিয়ে। আমি বলব বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যাটাররা একটু কমই সফল হয়। খুব মানুষই আসলে ধারাবাহিকভাবে এটা করতে পারে। যেটা বললাম দুবাই বিশ্বকাপের আগে আমাকে নিয়ে এত কথা, সমালোচনা হয়েছে...। এমনও হয়েছে আমার বন্ধুরা বা সতীর্থরা যখন নেটে ব্যাটিং করছে তখন আমি নন স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। তখন আমার কাছে মনে হচ্ছিল আমি ব্যাটিংই করতে পারি না।

ওরা এত সুন্দর শটস খেলছে কিন্তু আমি পারছি না। আমার মনে হচ্ছিল এটাই হয়ত আমার কাছে শেষ সুযোগ। হয়তবা এরপর আমাকে আর কেউ ব্যাক করবে না। ব্যাক করার মতো আসলে কোনো (কারণও) নেই। আমার জায়গায় হয়ত অন্য কাউকে নেবে। আমি আসলে ওইটাকে আমার জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। তবে ওই বিশ্বকাপে আমি খানিকটা অবদান রাখতে পেরেছিলাম। হয়তবা আশানুযায়ী করতে পারিনি তবে ভবিষ্যতে ভালো করতে পারব ওই আত্মবিশ্বাসটা এসেছিল। তারপরের গল্পটা তো আলাদা। ওয়েস্ট ইন্ডিজে গেলাম ওইখানে ভালো করি, আয়ারল্যান্ড সিরিজেও ভালো করেছিলাম। হয়তবা টি-টোয়েন্টিতে ৫০ করতে পারছিলাম না, যেটা বাছাইপর্বে হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় আস্তে আস্তে খেলার ওই ধরনটা আমার ফিরে আসছে যেভাবে আমি খেলতে চাই।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: স্কিলের পাশাপাশি মানসিক ব্যাপারও তো একটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করে...

সোবহানা মোস্তারি— আমি বলব ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পুরোপুরি আলাদা। একটা হচ্ছে মুদ্রার এপিঠ আরেকটা ওপিঠ। গত কয়েক বছর ধরেই আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করছি। আমি ওইটার মেরিট জানি যে ৫০ এর পর কতটুকু খেলতে হবে, ৩০ রানের পর কিভাবে খেলতে হবে। গত চার-পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওই অভিজ্ঞতাটা ছিল না ৩০ রানের পর কিভাবে খেলব। ওই জিনিসটা আনতে আমার অনেক সময় লেগেছে। এখন আমি ক্লিয়ার ৩০ রানের পর কীভাবে মোমেন্টামটা ধরব, ৪০ বা ৫০ রানের পর আমি কীভাবে খেলব। আমার কাছে মনে হয় এটা অভ্যস্ততার ব্যাপার। ঘরোয়ার মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও সেটার রসদ পেয়েছি আমি। আসলে এই অভ্যস্ততা গত ওয়ানড বিশ্বকাপ থেকেই হয়েছে। তখন থেকেই আমি মোমেন্টামটা ধরতে পারি।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রায়শই প্রচুর ডট বল খেলে। আপনার মাঝেও সেই প্রবণতা ছিল। তবে এবারের টুর্নামেন্টে ডট বলার খেলার প্রবণতা তুলনামূলক কমেছে। ওইটা কাজে দিয়েছে কিনা...

সোবহানা মোস্তারি— নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আমাদের অনুশীলন ম্যাচ ছিল। ওই ম্যাচে প্রথম ১০ বলে আমি ২ রান করেছিলাম। তিনে নেমে যখন ১০ বলে ২ রান করেছি তখন এটা আমার উপর অনেক চাপ তৈরি করেছে। কারণ আমি পাওয়ার প্লে ব্যবহার করতে পারছিলাম না। তখনই আসলে ভুল শটস খেলা শুরু হয়। কোনো না কোনভাবে ওইটা আমি কাভার করে ফেলেছি। তখন আমি আবার ভুল শট খেলব না। সাধারণত কী হয় আপনি ডট বল খেললে ভুল শটের মাত্রা বেড়ে যায়, আউটের সুযোগ বেশি থাকে। আমি চেয়েছি চার কিংবা ছক্কা মেরে অবদান রাখতে না পারলেও সিঙ্গেল নিয়ে কিভাবে ডট বলের সংখ্যা কমাতে পারি। ওইটার উপর কাজ করেছি।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: আইসিসির টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে এখন ৩৬ নম্বরে আছেন। নিশ্চিতভাবেই এক নম্বরে যেতে চান...

সোবহানা মোস্তারি— সেটা তো সময় চাই। একজন ব্যাটার হিসেবে এক নম্বরে থাকব এটাই তো আমার আশা কিংবা স্বপ্ন। আমি মনে হয় প্রায় ৬০ ধাপ এগিয়েছি। পরবর্তীতে পারফরম্যান্স যেমন হবে র্যাঙ্কিংটা আসলে ওইভাবেই এগোবে। এখন যেহেতু ৩৬-এ আছি প্রথমে চেষ্টা করব সেরা ২০-এর মধ্যে ঢোকার। তারপর সেরা দশে ঢোকার চেষ্টা করব। আমাদের কেউ মনে হয় এখনো সেরা দশে যেতে পারে। জ্যোতি আপু খুব ভালো অবস্থায় আছে। ইচ্ছে আছে এক থেকে দশের মধ্যে থাকার।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: অনেকে আপনাকে মেয়েদের ক্রিকেটের লিটন দাস, সৌম্য সরকার মনে করেন। এটা শুনলে কেমন লাগে?

সোবহানা মোস্তারি— আমি যতটুুকু বুঝতে পারলাম সৌম্য ভাইয়েরও মনে হয় হাফ সেঞ্চুরি করতে অনেক সময় লেগেছে। কিন্তু উনি বরাবরই ধারাবাহিক ছিলেন। লিটন ভাই অসাধারণ ক্রিকেটার। উনাদের ক্যারিয়ার অনেক ভালো কিন্তু আমি বলব উনাদের মতো না হতে পারলেও... এখনো অতটা ভালো না গেলেও আমার বিশ্বাস ছিল একটা সময় ভালো করব। ক্রিকেটে বয়স একটা ম্যাটার, হয়বা একটু বড় হয়ে যদি ক্রিকেটে আসতে পারতাম তাহলে হয়ত বুঝতে সহজ হতো। হ্যাঁ, ছোট বেলা থেকে ক্রিকেট খেলি কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ফ্লেভারটা পেতে আসলে আমার অনেক সময় লেগেছে। তবে এখনো আশা করব এখনকার জিনিসটা ধরে সামনে এগোতে পারি।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: আপনার তো হারমানপ্রীত কৌর ও লরা উলভার্টকে বেশ পছন্দ। ব্যাটার হিসেবে কার মতো হতে চান?

সোবহানা মোস্তারি— আমি কখনো কারও মতো হতে চাইনি। ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম যদি ক্রিকেট খেলি আমার স্টাইলে খেলব। অনেকে বলে ওর মতো শটস খেলছে কিন্তু কখনো ওইসব শটসের ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পাইনি। আমার কাছে মনে হয়েছে নিজের মতো করে ক্রিকেট খেলব, নিজের একটা স্টাইল করব। উলভার্ট এখন বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক ভালো করছে, ওকে আমার ভালো লাগে। ওর ব্যাটিং স্টাইল কিংবা অধিনায়ক হিসেবে যে ব্যাপারটা আছে ওইটা ভালো লাগে। ওর সাথে কথা হয়েছে আমার। ওই অনেক নম্র, ওই জিনিসটা আমি নিতে চাই। ওই আসলে কী চিন্তা করে ব্যাটিং করে এগুলো নেওয়ার বিষয়। ওর স্টাইলেই ব্যাটিং করতে হবে তেমন না। ওই যেভাবে দলে অবদান রাখে ওই জিনিসটা শিখতে চাই, নিতে চাই।

হারমানপ্রীত আমার ছোটবেলার আইডল বলতে পারেন। ওর একটা ম্যাচ দেখেছিলাম ওয়ানডে বিশ্বকাপে (২০১৭), ১৭১ মেরেছিল। ওই যখন ইনিংসটা খেলে তখন আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু। আমি তখন বিকেএসপিতে পড়ি। টিভি রুমে বসে ওর খেলা দেখছিলাম। তখনো আমরা ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলি না, শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলি। ওই সময় আমাদের উপ মহাদেশের একজন ক্রিকেটার এত ভালো খেলেছে ওইটাই ভালো লাগা। ওই লং হ্যান্ডেলে ব্যাটিং করেছে, তখন আমিও লং হ্যান্ডেলে ব্যাটিং করি। ওই সময় থেকে তাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করি ও কীভাবে দলে অবদান রাখে। কিন্তু কখনই ওর স্টাইল অনুসরণ করতাম না। তবে ওর ব্যাটিং বা অ্যাটাকিং ক্যাপ্টেন্সি আমার ভালো লাগে।

ক্রিকফ্রেঞ্জি— গত বছর আপনাদের বিপিএল আয়োজনের আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত হয়নি। আবার কী বিপিএল আয়োজনের দাবি তোলার সময় এসে গেছে?

সোবহানা মোস্তারি— রুবাবা দৌলা ম্যাডামের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুইবার আমরা উনার সঙ্গে বসেছি। উনি বলেছেন আমাদের বিপিএলটা এবার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। উনি চেষ্টা করবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই যেন আমাদের টুর্নামেন্টটা হয়। এটা করতে পারলে হয়ত বিদেশি ক্রিকেটাররাও আসবে, তাদের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করতে পারব, অভিজ্ঞতাটাও অর্জন করতে পারব। আমার কাছে মনে হয় এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হবে আমাদের ক্রিকেটের মান ততো তাড়াতাড়ি উন্নতি হবে।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে আপনাদের বিশ্বকাপ। পেস, বাউন্সি একটা কন্ডিশন। দল হিসেবে আপনাদের প্রস্তুতির পরিকল্পনাটা কী?

সোবহানা মোস্তারি— ইংল্যান্ডের কন্ডিশন আমাদের বেশিরভাগের জন্যই প্রথম। তবে যতটুকু ধারণা করা যায় ওইখানে বাউন্সি উইকেট হবে বা ব্যাটিং ট্র্যাক থাকবে। ওই জিনিসটা মাথায় রেখেই অনুশীলন করব, আবার শুরু থেকে শুরু করতে হবে। কিভাবে শুরু করা যায় সেটার একটা পরিকল্পনা করতে হবে। কংক্রিটের উইকেটেও অনুশীলন করা যেতে পারে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের যে সমস্যা আছে, এত ভালো করার পরও আমাদের দলে হয়ত কিছু সমস্যা আছে। যেমন পাওয়ার প্লেতে অনেক সময় কলাপ্স করেছি, ৭ থেকে ১৩ ওভারে বেশি কলাপ্স করেছি। ওইখানে আসলে কী ধরনের ক্রিকেট খেলা উচিত, কিভাবে একটা জুটি গড়া যায় বা সিঙ্গেলের উপর আরও কিভাবে মনোযোগ বাড়ানো যায় এসব নিয়ে আগামী চার মাসে কাজ করতে চাই।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে বিসিবির কাছে আপনাদের বিশেষ কোনো চাওয়া আছে নাকি? ক্যাম্প কিংবা সিরিজ আয়োজন...

সোবহানা মোস্তারি— ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা যদি বলেন তাহলে যত বেশি ভালো উইকেটে খেলতে পারি, সেটা আমাদের চাওয়া থাকবে। কংক্রিটে কিংবা ইনডোরে অনুশীলন করে যদি আমরা সেই কাজটা করতে পারি বা মানিয়ে নিতে পারি সেটাই করব। এরপর যদি আমাদের প্রিমিয়ার লিগ হয় তাহলে চাইবো আমাদের উইকেটগুলো যেন বিশ্বকাপ বিবেচনায় বানানো হয়। উইকেটগুলো যেন এমন থাকে যে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটাও হয়ে গেল। এ ছাড়া হোম সিরিজ আছে শ্রীলঙ্কার সাথে, সেখানেও আশা করি এই ধরনের উইকেট থাকবে। তারপর হয়ত ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে আমাদের একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ হওয়ার কথা আছে। ইংল্যান্ডের আশেপাশের কোন দেশে হয়তবা খেলতে যাব, স্কটল্যান্ডও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা হয়ত বুঝতে পারব কন্ডিশন, আবহাওয়া কিংবা কী ধরনের উইকেট পাব।

ক্রিকফ্রেঞ্জি: অধিনায়ক জ্যোতি বলেছেন বিশ্বকাপে কিছু একটা করতে চান। দল হিসেবে আপনারা আসলে কী করতে চান, বলবেন?

সোবহানা মোস্তারি— আমরা কখনো কোনো বিশ্বকাপে শুধু অংশ নেওয়ার জন্য যাই না। হ্যাঁ, আমরা অস্ট্রেলিয়ার সাথে হারতে পারি। আপনি যদি কাগজে-কলমে বিবেচনা করেন তাহলে হয়ত আমরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হারব। ওরা বিশ্বের সেরা দল। কিন্তু আমরা কখনই এমন কিছু চিন্তা করে মাঠে নামি না যে আমরা হারব। আমরা জিতব এই চিন্তা করেই মাঠে নামি। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে আমাদের হয়ত স্কিল মিলছে না। আমরা হয়ত নিজেদের শতভাগ দিতে পারছি না। এজন্য হয়তবা অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সঙ্গে হারছি। কিন্তু আমরা যে হারব এই চিন্তা করে আমরা কখনোই মাঠে নামিনি।

কারণ আমরা এটা বিশ্বাস করি আমাদের যে বোলিং অ্যাটাক আছে, সাথে ফিল্ডিং আমরা যদি ব্যাটিংয়ে একটু অবদান রাখতে পারি তাহলে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের সঙ্গে বোলাররা সেটা পুষিয়ে দিতে পারবে। আপনি ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দুইটা দেখেছেন নিশ্চয়। প্রায় কিন্তু ডিফেন্ড করে ফেলেছিলাম। হয়তবা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটা যদি পক্ষে আসতো তাহলে তখন আমরা ইতিহাস রচনা করতে পারতাম। বিশ্বকাপে কিংবা যেকোন সিরিজে আমরা সবসময় ভালো করতে চাই, জিততে চাই।

আরো পড়ুন: