ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৭১ রানের জবাবে শুরুটা দুর্দান্ত করে ভারত। প্রথম ওভারেই ম্যাথু ফোর্ডকে ছক্কা ও দুটি চার মারেন অভিষেক শর্মা। তবে ১০ বলে ২১ রান করে রস্টন চেজের বলে আউট হন তিনি। পরের ওভারে আকিল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সঞ্জু স্যামসনও। ৩৫ রানে ২ উইকেট হারানোর পর আর কোনো বিপদ হতে দেননি আইয়ার ও কিশান। পাওয়ারপ্লে শেষে ভারত ছিল ৬২ রানে ২ উইকেটে।
এরপর শুরু হয় আইয়ারের ব্যাটিং তাণ্ডব। ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর একের পর এক বাউন্ডারি-ছক্কায় ম্যাচ দ্রুত শেষ করে দেন তিনি। রোমারিও শেফার্ডের এক ওভারে তিনটি চার মারেন আইয়ার। এরপর আকিল হোসেনের বলে ছক্কা ও চার এবং ফোর্ডের ওভারে তিন ছক্কা ও একটি চার হাঁকান ভারতীয় অধিনায়ক। রস্টন চেজের বলে লং-অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে ৪২ বলেই টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন আইয়ার। তার ইনিংসে ছিল ১০ চার ও ৬ ছক্কা। অন্য প্রান্তে ২৭ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে তাকে সঙ্গ দেন কিশান। তৃতীয় উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটিতে ১৪.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকেরা। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ১০টি ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়ল ভারত।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপের ব্যাটে দ্রুত রান তুলছিল তারা। দ্বিতীয় ওভারে মায়াঙ্ক যাদবকে চারটি চার মেরে শুরু করেন হোপ। কাইল মায়ার্সকে ৫ রানে ফেরান অর্শদীপ সিং। এরপর শিমরন হেটমায়ার রানআউট হন ৫ রানে, আর রোভম্যান পাওয়েলকে শূন্য রানে বোল্ড করেন অক্ষর প্যাটেল। পাওয়ারপ্লেতে একটি মেডেনসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ৬৬ রানে ৩ উইকেট।
এরপর শেরফানে রাদারফোর্ডকে নিয়ে ইনিংস সামলান হোপ। দুজনের ব্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবারও বড় সংগ্রহের পথে এগোয়। কুলদীপ যাদবের এক ওভারে দুটি ছক্কা এবং অক্ষরের ওভারে ১৮ রান তুলে নেয় তারা। হোপ ৩৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। তবে এরপরই আবার দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। নেমান ধীর অভিষেকেই হোপ ও রোমারিও শেফার্ডকে ফেরান। কুলদীপের বলে রস্টন চেজ ও ম্যাথু ফোর্ড আউট হন। ধীরের তৃতীয় শিকার হন শামার স্প্রিঙ্গার। ১০৭ রানে ৩ উইকেট থেকে ১৩৫ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ দিকে রাদারফোর্ড ও আকিল হোসেনের ব্যাটে কোনোরকমে ১৭০ পার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাদারফোর্ড ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। অর্শদীপ ও মায়াঙ্কের ওভারে চার-ছক্কা মেরে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ৫৬ রান করে মায়াঙ্কের বলে আউট হন রাদারফোর্ড। আকিল করেন ২০ রান। শেষ ওভারে অক্ষরের বলে তাঁর উইকেট হারিয়ে ১৯.১ ওভারে ১৭১ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।