ভারতের ৩৫১ রান পেরোতে হোপকে লড়তে হয়েছে ক্র্যাম্পের সঙ্গেও। শুরুতে ধৈর্য ধরে খেলেছেন, প্রয়োজনমতো গতি বাড়িয়েছেন, আবার শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে ম্যাচ বের করে নিয়েছেন। ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৪৩ বলে অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ানডেতে উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক হিসেবে দেড়শ পেরোনো প্রথম ব্যাটারও হয়েছেন হোপ।
রান তাড়ার সময় কীভাবে ইনিংস এগিয়ে নিতে হবে, সেটিতে তাকে সাহায্য করেছে মহেন্দ্র সিং ধোনির একটি পরামর্শ। হোপ জানান, ফল নিয়ে না ভেবে পরিস্থিতি অনুযায়ী ছোট ছোট ধাপে এগোনোর কথা বলেছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক।
হোপ বলেন, 'গ্রেট এমএস ধোনির সঙ্গে এসব পরিস্থিতি নিয়ে আমার দারুণ কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘তোমার ধারণার চেয়ে বেশি সময় তোমার আছে।’ তাই শেষ ফলাফলের দিকে খুব বেশি মনোযোগ না দিয়ে প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছিলাম।'
ধোনির সেই কথাই যেন নিউ চণ্ডীগড়ের রান তাড়ায় কাজে লাগান হোপ। তিনি বলেন, 'খেলাটাকে যতটা সম্ভব ভেঙে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছিলাম। শেষের দিকে কীভাবে সীমানা ছাড়া রান করা যায়, সেটাও ভাবছিলাম। ভারত কত ওভারে পিছিয়ে ছিল, সেটাও হিসাব করেছিলাম। জানতাম, শেষ দিকে ওদের দু-একজন ফিল্ডারকে বৃত্তের ভেতরে আনতে হবে।'
হোপের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৯ রানের জুটি গড়েন আমির জাঙ্গু। তিনি ৫৬ বলে ৬৭ রান করেন। এরপর শেরফেন রাদারফোর্ড ২৪ রানে ফিরলেও কিমো পলের ৩৫ বলে ৪৪ রানের ইনিংস হোপকে বড় লক্ষ্য তাড়ায় এগিয়ে দেয়। শেষ পাঁচ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৫৬ রান। মন্থর ওভার গতির কারণে শেষ চার ওভারে ভারতকে বাড়তি ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে রাখতে হয়, সেই সুযোগও কাজে লাগান হোপ।
তবে ইনিংসের শেষভাগটা সহজ ছিল না। একপর্যায়ে কুঁচকিতে টান লাগায় দৌড়াতে সমস্যা হচ্ছিল তাঁর। কিছু দুই রান নিতে না পেরে এক রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। তবু থামেননি। হোপ বলেন, 'সম্ভবত ৩০ ওভার পর কুঁচকির দিকে একটু অস্বস্তি হচ্ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।'