সাড়ে তিনশ রান ক্যারিবীয়রা টপকে গেল ১০ বল বাকি থাকেতেই। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল সফরকারীরা। নিজেদের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডও গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাশাপাশি ২০২৩ সালের পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে জয় পেয়েছে তারা। ভারতের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেল ৭ বছর পর। সবশেষ ২০১৯ সালে ভারতকে তাদের মাটিতে হারিয়েছিল ক্যারিবীয়রা।
রান তাড়ায় ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যদিও আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জন ক্যাম্পবেল বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। পঞ্চম ওভারে ফেরেন ৭ বলে ১০ রান করে। এরপর ১০৯ রানের জুটি গড়ে তোলেন জাঙ্গু ও হোপ। তারা দুজনে মিলে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জয়ের পথও দেখান। ৪৬ বলে হোপ এবং জাঙ্গু হাফ সেঞ্চুরি করেন ৪৭ বলে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা জাঙ্গু পঞ্চাশ ছোঁয়ার একটু পরই ফিরেছেন।
রান আউটে কাটা পড়েন ৬৭ রানের ইনিংস খেলে। জাঙ্গু না পারলেও ঠিকই সেঞ্চুরি করেন হোপ। ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি করেছেন ১০৪ বলে। ভারতের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে ১৪ ইনিংসে চার নম্বর সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল সাউথ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্সের। উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ৮ সেঞ্চুরির মালিক এখন হোপ। ৫৩ ইনিংসেই এমন কীর্তি গড়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
দুইয়ে থাকা মহেন্দ্র সিং ধোনি করেছেন ছয়টি। রাদারফোর্ড ভালো শুরু পেলেও ফিরেছেন ২৫ বলে ২৪ রান করে। ক্যামিং ইনিংসে কাজটা এগিয়ে দিয়ে গেছেন কিমো পল। ফেরার আগে করেছেন ৩৫ বলে ৪৪ রান। শেষ পর্যন্ত ১৬২ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন হোপ নিজেই। তাকে সঙ্গ দেওয়া মোতি করেছেন ১৯ রান। ভারতের হয়ে একটি করে উইকেট পেয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ, গুরনর ব্রার, কুলদীপ যাদব ও নামান ধীর।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ভারতের শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি ও পরের ম্যাচে শুভমান গিল করেছিলেন ডাবল সেঞ্চুরি। অথচ তৃতীয় ওয়ানডেতে ৬ বলে ১ রান করে ফেরেন ভারতের অধিনায়ক। জেইডেন সিলসের ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে লেগ সাইডে পুশ করতে চেয়েছিলেন গিল। তবে ব্যাটে কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপারের গ্লাভসে।
বাম দিকে অনেকটা ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন হোপ।পরের বলে ফেরেন বিরাট কোহলিও। সিলসের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোকা বনে গিয়ে বোল্ড হলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ৬ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে গোল্ডেন ডাক মেরেছেন ভারতীয় গ্রেট। ৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর স্বাগতিকদের হাল ধরেন রোহিত ও রুতুরাজ।
উইকেট থেকে সুবিধা পাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ভারতীয় ব্যাটারদের চেপে ধরেন। রোহিত ও রুতুরাজ টিকে গেলেও দ্রুত রান তুলতে পারছিলেন না। তবে পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার পর দুজনই খোলস ছেড়ে বের হন। ৫৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির পথে হাঁটতে থাকেন রোহিত। তবে কিমো পলকে ছক্কা মারার চেষ্টায় ডিপ মিড উইকেট ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ৯২ রানের ইনিংস খেলা ডানহাতি ওপেনার।
৬৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি করা রুতুরাজ আউট হয়েছেন ৫৭ রানে। পাল্টা আক্রমণে সফরকারীদের চাপে ফেলেন রাহুল। ৪১ বলে পঞ্চাশ ও ৮০ বলে সেঞ্চুরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১২৯ রানের ইনিংস খেলে। এ ছাড়া নামান ধীর ৩০ এবং কাম্বোজ ১৭ রান করেছেন। রাহুলের ওমন সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৩৫১ রানের পুঁজি পায় ভারত। ক্যারিবীয়দের হয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন সিলস। দুইটি উইকেট পেয়েছেন কিমো পল।