পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে টানা দ্বিতীয় স্বর্ণ জয় ভারতের

এশিয়ান গেমস
ছবিঃ ক্রিকইনফো
ছবিঃ ক্রিকইনফো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে এশিয়া কাপ, গত পাঁচ বছর ধরে আইসিসি কিংবা এসিসির বদান্যতায় ভারত-পাকিস্তান বারংবার মুখোমুখি হলেও ভারতের টানা জয়ে একপেশে হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দলের লড়াই। এশিয়ান গেমসের স্বর্ণ জয়ের লড়াইয়ে আরও একবার পাকিস্তানকে হারালো ভারত। আগে ব্যাট করে অভিষেক শর্মা ও তিলক ভার্মার ফিফটিতে ২১১ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। জবাব দিতে নেমে হাসান নাওয়াজের ৯৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে স্বপ্ন দেখলেও ১৯ রানে হেরে রৌপ্য পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় পাকিস্তানকে। এদিকে ২০২৩ সালের পর টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের স্বর্ণ জিতলো টি-টোয়েন্টির বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

২১২ রানের বিশাল লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৩ রান যোগ করেন অধিনায়ক শাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। চতুর্থ ওভারে ১১ বলে ১০ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ওয়াশিংটন সুন্দর। এরপর ৬ রান যোগ করতেই আরও দুই উইকেট হারায় পাকিস্তান। অক্ষর প্যাটেলের দুর্দান্ত এক স্পেল ম্যাচ কঠিন করে তোলে পাকিস্তানের জন্য। নিজের পরপর দুই ওভারে ২৩ রান করা সাদাকাত ও ৩ রান করা উসমানকে ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার।

পাকিস্তান তখন ম্যাচ থেকে ছিটকে যাবার শঙ্কায় থাকলেও দারুণ এক জুটি গড়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান। হাসান নাওয়াজ ও সাইম আইয়ুব। এই দুইজনের ৪৮ বলে ৮৭ রানের দারুণ জুটিতে স্বর্ণ জয়ের লড়াই কিছুটা জমে ওঠে। মাত্র ২৮ বলেই ফিফটি তুলে নেন নাওয়াজ। ২২ বলে ২৯ রান করা সাইমকে সুন্দরের ক্যাচ বানিয়ে এই জুটি ভাঙেন শিভম দুবে।

তখনও হাসানের ব্যাটে স্বপ্ন বেচে ছিল পাকিস্তানের। শেষ পাঁচ ওভারে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৮২ রান প্রয়োজন ছিল তাদের। নাওয়াজ তখন একাই লড়ে যেতে থাকেন। শেষ ওভারে ৩৩ রান প্রয়োজন ছিল তাদের। চার মেরে সেই কঠিন লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেননি নাওয়াজ। ইনিংসের শেষ বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে আউট হন তিনি। এর আগে খেলেন ৭ ছক্কা ও ৫ চারে ৫১ বলে ৯৬ রানের ইনিংস।

ভারতের হয়ে অক্ষর, সুন্দর এবং দুবে দুটি করে উইকেট নেন। এশিয়ান গেমসের এই ডিসিপ্লিনে এটি ভারতের টানা দ্বিতীয় স্বর্ণ। অন্যদিকে এই ডিসিপ্লিনে রূপা জয়ের মাধ্যমে প্রথম পদকের দেখা পেল পাকিস্তান।

এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক ও বৈভব সূর্ববংশী প্রথম দুই ওভারেই ২৮ রান তুলে ঝড়ের পূর্বাভাস দেন। তৃতীয় ওভারে সাইম আইয়ুবের প্রথম বলে উসমান খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সূর্যবংশী। ৯ বলে ২ ছক্কায় ১৫ রান করেন তিনি। দ্রুত ফিরে যান সানজু স্যামসনও। অন্যপ্রান্তে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর ঝড় চালাতে থাকেন অভিষেক। তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি।

মাঝে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার কিছুটা সঙ্গ দেন অভিষেককে। ২৮ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা অভিষেককে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন স্পিনার আরাফাত মিনহাজ। অভিষেক আউট হবার পরও ঝড় থামতে দেননি আরেক বাঁহাতি তিলক। মাত্র ২১ বলেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ দিকে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শিভম দুবে।

তিলকের ২২ বলে ৫১ রানের ইনিংসের সাথে দুবের ১৫ বলে ২৭ রানের ক্যামিওতে দুইশ পেড়োয় ভারত। ৬ উইকেটে ২১১ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়াল ও মিনহাজ দুটি করে এবং সায়িম ও আবরার আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।

আরো পড়ুন: