চলতি এশিয়ান গেমসে ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়া আর কেউই পূর্ণশক্তির দল পাঠায়নি। তাই বড় আশা নিয়েই এই টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। তবে হতাশা ছাড়া আর কিছুই সঙ্গী হয়নি বাংলাদেশের। এমন হারের পর দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
কোচ হিসেবে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’
এশিয়ান গেমসের দুই ম্যাচেই খরুচে বোলিং করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাকি বোলাররাও ছন্দে ছিলেন না। তাই বোলারদেরকেই এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতার দায় দিয়েছেন সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এই উইকেটে বোলাররা কয়েক ওভার খুব বাজে বল করেছে। যারা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তারাই বেশি রান দিয়েছে। ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লে-তে বেশি উইকেট হারিয়েছি।’
মুস্তাফিজের বোলিংয়ের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আসলে মুস্তাফিজ অনেকদিন ধরে ইনজুরিতে ছিল এবং সে আমাদের গত ১০ বছরে সেরা খেলোয়াড়দের একজন। খেলার মধ্যে নতুন কোনো ইন্সট্রাকশন পাঠানো হয় না। বিশেষ করে সে ডেড ওভার স্পেশালিস্ট। ফলে তার ওপর আমাদের ভরসা রাখতেই হবে।’
অধিনায়ক লিটন দাস দুই ম্যাচে মোটে করেছেন দুই রান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আউট হয়েছেন শূন্য রানে। তার অধিনায়কত্বেও ছিল না আহামরি কিছু। তবে বাংলাদেশ দলের কোচ পাশে দাঁড়িয়েছেন লিটনের। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলব তারা দেশের জন্য লড়ে। তারা ফেইল করছে, সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই লজ্জিত। টু বি অনেস্ট আমরা টোটাল টিম হিসেবে ভালো পারফর্ম করিনি।’
এশিয়ান গেমস জুড়েই রয়েছে আবাসন সঙ্কট ও খাবারের সঙ্কট। অনেক দলকে নিজেদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন আয়োজকরা। তবে ক্রিকেটারদের সেই সুযোগ সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে আয়োজকরা। ভালো অবস্থায় থেকেও দুর্বল শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হওয়ার কারণে হতাশ সালাহউদ্দিন।
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা সবাই হতাশ। আমরা এখানে লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু ফেইল করেছি, ভালো খেলতে পারিনি। প্লেয়াররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, কিন্তু আমার মনে হয় আমরা গেমপ্ল্যান ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় ম্যাচটি বের করা সম্ভব হয়নি।’