বিধ্বংসী ইনিংস খেলে পরিকল্পনা খোলাসা করলেন অভিষেক

আফগানিস্তান-ভারত সিরিজ
সেঞ্চুরির পর অভিষেক শর্মা
সেঞ্চুরির পর অভিষেক শর্মা
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ইংল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সফরে সময়টা একেবারেই ভালো যায়নি অভিষেক শর্মার। বাজে ফর্মের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল ভারতের এই ওপেনারকে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই চেনা ফর্মে ফিরেছেন তিনি। জানিয়েছেন কোন পরিকল্পনায় নিজেকে ফিরে পেয়েছেন অভিষেক।

সিরিজের শেষ ম্যাচে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বই ওলট পালট করে দিয়েছেন ভারতীয় এই ওপেনার। ৩৪ বলে তার ১০৮ রানের ইনিংসে আফগানিস্তানকে ১২৭ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। আর তাতেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে দলটি। বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরাও হয়েছে অভিষেক।

দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অভিষেক বলেন, ‘আমার মনে হয় সবকিছুই নির্ভর করে প্রতিটি সিরিজের আগে আমার প্রস্তুতির ওপর। বিষয়টা আমার কাছে খুব নির্দিষ্ট। কার বিরুদ্ধে খেলছি এবং প্রতিপক্ষের বোলার কারা, তা নিয়ে আলাদা কাজ করি। পাওয়ার প্লে কীভাবে কাজে লাগাব, সপ্তম বা অষ্টম ওভারে কে বল করতে আসতে পারে—সবকিছু আগে থেকেই ছকে রাখি।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে যেন ভিন্ন অবতারে হাজির হয়েছিলেন অভিষেক। তিনি ৭৬.৩৩ গড় এবং ২৬৯.৪১ স্ট্রাইক রেটে ২২টি ছক্কা সহ মোট ২২৯ রান করেছে। অভিষেক বরাবরই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পছন্দ করেন। এর পেছনে অধিনায়ক ও কোচেরও সমর্থন থাকতে হয়।

অভিষেক তাই দুজনকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে অভিষেক বলেন, ‘আমি যেভাবে খেলি, তাতে অধিনায়ক ও কোচের সমর্থন থাকাটা ভীষণ জরুরি। সেই ভরসাটা পাওয়া দরকার। আমি মনে করি, আজ আমি যে এমন খেলতে পেরেছি—তাতে তাদেরও অবদান রয়েছে।’

ক্রিকেট দর্শনের কথা খোলাসা করে অভিষেক বলেন, ‘আমি নিজের খেলার ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা রাখতে চাই না। আমার নিয়ম একদম পরিষ্কার—বল দেখুন আর নিজের খেলাটা খেলুন। প্রথম দিন থেকেই আমি নিজেকে প্রকাশ করতে চেয়েছি। প্রতি ম্যাচে সফল হবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে আমাদের দলে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা হলো শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা।’

গত কয়েকটি সিরিজ ভালো যায়নি অভিষেকের। একপাশে সমালোচনা হলেও অন্যপ্রান্তে অনেকের ভরসাও পেয়েছেন তিনি। আগামী বছরে সাউথ আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপে খেলবে ভারত। এর আগে নিজেদের এই আধিপত্য ধরে রাখার তাগিদ অভিষেকের। পাশাপাশি একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় এই ওপেনার বলেন, ‘একটি বা দুটি খারাপ সিরিজ দিয়ে ব্যাটিং বিভাগ হিসেবে আমাদের মূল্যায়ন করা যায় না। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ যা-ই হোক না কেন, আমরা পুরো বছরজুড়েই আধিপত্য বজায় রাখতে চাই। ব্যাটারদের ক্যারিয়ারে চড়াই-উতরাই থাকবেই, সবচেয়ে বড় কথা দল হিসেবে আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একে অপরের পাশে থাকতে হবে।’

আরো পড়ুন: