বেতনের লোভে নিজেকে নোংরা চক্রে জড়িয়ে ফেলো না, হেসনকে গিলেস্পি

পাকিস্তান ক্রিকেট
জেসন গিলেস্পি (বামে) ও মাইক হেসন (ডানে)
জেসন গিলেস্পি (বামে) ও মাইক হেসন (ডানে)
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
নানান বিতর্কে পাকিস্তানের ক্রিকেট এখনো ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত। মাঠের বাজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে মাঠের বাইরের ঘটনায় বিপাকে দেশটির ক্রিকেট। প্রশংসা করার জন্য জায়গা খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে গেছে। পাকিস্তানের ক্রিকেটের এমন পরিস্থিতির জন্য বোর্ডের নোংরা চক্রকে দায়ী করছেন অনেকে। মাইক হেসন যেন বেতনের আশায় সেই চক্রে নিজেকে জড়িয়ে না ফেলেন সেজন্য সাবধান করে দিয়েছেন জেসন গিলেস্পি।

পাকিস্তানের ক্রিকেটে রাজনীতির প্রভাবে নিত্যদিনের ঘটনা। গত পাঁচ বছরে ১১ জন কোচ পরিবর্তন করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। নির্বাচক হিসেবে কতজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটার কোনো হদিস নেই। কয়েক সিরিজ পর পর অধিনায়কও বদলানো হয়েছে। তবে মাঠের ক্রিকেটে সাফল্য পায়নি তারা। তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে ইংল্যান্ড সফর।

দ্বিতীয় টেস্টের পর স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠায় পিসিবি। নতুন করে স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়েছে পাঁচজনকে। পাশাপাশি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবর্তে হেসন প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন। অ্যাশলে নফকে সামলাবেন পেস বোলিং।

যদিও গত বছর থেকে পাকিস্তানের সাদা বলের দলের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন হেসন। তবুও গিলেস্পি পাকিস্তানের ক্রিকেটে কাজ করায় সেখানে কিভাবে সবকিছু চলে সেটা ভালো করেই জানেন তিনি। নিজের সেই বাজে অভিজ্ঞতা থেকে হেসনকে সাবধান করে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই ক্রিকেটার।

গিলেস্পি বলেন, ‘মাইককে (হেসন) বলব, নিজের অনুভূতিকে বিশ্বাস করো, কখনো হ্যাঁ-জি হুজুর টাইপ লোক হয়ো না। ও দারুণ মানুষ এবং অসাধারণ একজন কোচ। আশা করি নিছক বেতনের চেক পাওয়ার লোভে এই নোংরা চক্রে নিজেকে জড়িয়ে ফেলবে না।’

২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লাল বলের ক্রিকেটের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গিলেস্পি। তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে চাকরি ছাড়তে হয়েছে তাকে। পিসিবির সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ডিসেম্বরে সরে দাঁড়ান এই অস্ট্রেলিয়ান। নিজের নীতির সঙ্গে আপোস করতে না পারায় চাকরি ছেড়েছিলেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি এখনো পিসিবির কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার পাওনার কথা জানিয়েছেন গিলেস্পি।

তিনি বলেন, ‘পিসিবি এখনো আমার হাজার হাজার ডলার আটকে রেখেছে। কিন্তু আমি কখনোই চাটুকার হতে পারব না। ক্যারিয়ারে কোনো দিন নিজের নীতির সঙ্গে আপস করিনি, এখানেও করার প্রশ্ন ছিল না। চুপ থেকে, সব মেনে নিয়ে মাস শেষে বেতনটা পকেটে পুরতে পারতাম। কিন্তু জেসন গিলেস্পি সেই লোক নয়। তা ছাড়া মনের কোণে জানতামই, মাস কয়েকের মধ্যে আমাকে হয়তো বরখাস্তই করা হবে।’

আরো পড়ুন: