ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তকে বিগ ব্যাশের কাঠামোয় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সব রাজ্য একইভাবে এতে এগিয়ে আসেনি। ‘সেলফ-ডিটারমিনেশন’ মডেলের অধীনে প্রতিটি রাজ্য নিজেদের ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ফলে রেনেগেডসের বিক্রির পর অন্য ক্লাবগুলোও বেসরকারি বিনিয়োগের বাজারে যেতে পারে।
তবে নতুন এই প্রক্রিয়া শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) মধ্যে টানাপোড়েনও সামনে এসেছে। খেলোয়াড়দের সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী পল মার্শ জানিয়েছেন, নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অবশ্য বলছে, আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের যথেষ্ট সময় তাদের হাতে আছে। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে মার্শ বলেন, 'বেসরকারিকরণ নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে হলে ক্রিকেটারদের সংগঠনের সঙ্গে নতুন সমঝোতা দরকার এবং বর্তমানে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে অনেক দূরত্ব রয়েছে।'
মূল বিরোধের জায়গা রাজস্ব ভাগাভাগি। বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের মোট রাজস্বের ২৭.৫ শতাংশ পান ক্রিকেটাররা। এসিএর দাবি, বিগ ব্যাশের ক্লাবের মালিকানা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থও এই রাজস্বের মধ্যে পড়বে। অন্যদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাখ্যা হলো, বিক্রির মূল অর্থ নয়, সেই অর্থ বিনিয়োগ করে যে সুদ বা আয় হবে, শুধু তার ওপর খেলোয়াড়দের অংশ থাকবে। এই বিষয়টির সমাধানই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ অবশ্য আলোচনায় আশাবাদী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'দুই পক্ষের আলোচনায় এখনো বেশ দূরত্ব আছে, তবে আমাদের হাতে ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত বর্তমান সমঝোতা কার্যকর থাকার সময় রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খেলোয়াড়দের হাতে আরও বেশি অর্থ পৌঁছে দেওয়া। তাই শেষ পর্যন্ত আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারব।'
রেনেগেডসের বিক্রির সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ক্রিকেট ভিক্টোরিয়াও। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে মেলবোর্নের দুই ক্লাব রেনেগেডস ও স্টার্সকে একীভূত করার পরিকল্পনা করেছিল। পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে রেনেগেডসকে আলাদাভাবে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এবার ক্লাবটির পুরো মালিকানা বিক্রির সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট ভিক্টোরিয়া।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বলছে, বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিগ ব্যাশে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং সেই অর্থ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, তৃণমূল পর্যায় এবং জাতীয় দলের কাঠামোয় বিনিয়োগ করা যাবে। তবে আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, বেতনসীমা, ব্র্যান্ডিং এবং বিনিয়োগকারী অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার হাতেই থাকবে। রেনেগেডসের বিক্রির ফল দেখে এরপর অন্য ক্লাবগুলোকেও বেসরকারিকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।