আকিবকে আয়নায় মুখ দেখতে বললেন গিলেস্পি

পাকিস্তান ক্রিকেট
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
পাকিস্তান ক্রিকেটে সবশেষ কয়েক বছরে একের পর এক কোচের বদল হয়েছে, নির্বাচক প্যানেলেও পরিবর্তন এসেছে। তবে দেশটির ক্রিকেটের সঙ্গে একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এখনো টিকে আছেন আকিব জাভেদ। পাকিস্তানের সাবেক এই পেসারের দল নির্বাচনে স্পষ্ট কোনো কৌশল নেই বলে মন্তব্য করেছেন জেসন গিলেস্পি। পাশাপাশি আকিবকে আয়নায় মুখ দেখার পরামর্শও দিয়েছেন দেশটির সাবেক এই প্রধান কোচ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাঠের ক্রিকেটে ভালো করতে পারছে না পাকিস্তান। বাংলাদেশ থেকে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফেরার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে একটি টেস্ট জিতেন বাবর আজমরা। তবে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে দাঁড়াতেই পারছেন না। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে সিরিজ খুইয়েছে সফরকারী। বিদেশের মাটিতে ভরাডুবি চলতে থাকায় তৃতীয় টেস্টের আগে বড়সড় পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরের আগে প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। পেস বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় লাল বলের ক্রিকেটেও দায়িত্ব নিয়েছেন মাইক হেসন। কোচিং প্যানেলের পাশাপাশি স্কোয়াডেও পরিবর্তন এনেছে। প্রথম দুই টেস্টের দল থেকে সাতজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় পাকিস্তানকে নিয়ে সবাই হাসাহাসি করছে।

নাসের হুসেইন তো এও বলেছেন, পিসিবিই পাকিস্তানের ক্রিকেটকে হাসির পাত্র বানিয়েছে। পাকিস্তানের সমালোচনা করলেন গিলেস্পিও। পাকিস্তানের সাবেক কোচ মনে করেন, ক্রিকেটাররাা ভয় নিয়ে খেলছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়ানকে গিলেস্পি বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়দের জন্য খারাপ লাগছে। এটাই তাদের পেশা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে।’

চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি বাবর। পাকিস্তানের অধিনায়কের পরিবর্তে প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন সালমান আলী আঘা। ব্যাট হাতে যেমন জ্বলে উঠতে পারেননি তেমনি দল হিসেবেও ভালো করতে পারেন। প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক হলেও দ্বিতীয় টেস্টেই একাদশ থেকে বাদ পড়েন সালমান। যদিও ইমাম উল হকের চোটে ফিল্ডিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তৃতীয় টেস্টের আগে স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন। পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন গিলেস্পি। তিনি বলেন, ‘প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সালমান আলী আঘা কীভাবে দ্বিতীয় টেস্টেই দলের বাইরে চলে যায় এবং তৃতীয় টেস্টের আগেই বিমানে দেশে ফিরে যায়? এটা কীভাবে সম্ভব?’

পাকিস্তানের ক্রিকেটের এমন খারাপ পরিস্থিতিতেও নিজের চাকরিতে বহাল আছেন আকিব। গত দুই বছর ধরে নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। এমনকি ২০২৪ সালে কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন দেশটির সাবেক এই পেসার। গিলেস্পি মনে করেন, আকিবের দল নির্বাচনে কোনো কৌশল নেই।

এমনকি প্রতিদিন পোশাক বদলানোর মতো করে আকিবের সিদ্ধান্ত বদলায় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক কোচ। গিলেস্পি বলেন, ‘আকিব জাভেদের অধীন তাদের যে দল নির্বাচনের কোনো কৌশল নেই, সেটা স্পষ্ট। তারা প্রতিদিন নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলায়—যেভাবে প্রতিদিন পোশাক বদলায়।’

২০২৪ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের লাল বলের কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন গিলেস্পি। সাদা বলের ক্রিকেটে কোচ হয়েছিলেন গ্যারি কারস্টেন। তবে বেশিদিন পাকিস্তানের ক্রিকেটে কাজ করতে পারেননি তারা দুজন। পিসিবির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন হওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারায় পদত্যাগ করেন কারস্টেন। সম্পর্কের অবনতি ঘটলে দায়িত্ব ছাড়েন গিলেস্পিও।

পাকিস্তানের ক্রিকেটের এমন দুর্দশার জন্য গিলেস্পি ও কারস্টেনকে দায়ী করেছিলেন আকিব। গিলেস্পি অবশ্য আকিবকে আয়নায় মুখ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি পাকিস্তানের যা কিছু হচ্ছে, তার জন্য আকিব জাভেদ গ্যারি কারস্টেন ও আমাকে দায়ী করেছেন। অথচ দুই বছর ধরে আকিবই নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান। আমরা তো সেখানে ছিলামই না। আমার মনে হয়, তাঁর নিজের চেহারা আয়নায় দেখা উচিত।’

আরো পড়ুন: