ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বাজেভাবে হারের পর দুই কোচ ও সাত ক্রিকেটারকে সরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাদ পড়েছেন প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদও। এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন হেসন।
দলের এমন অস্থির পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়াটা সহজ নয় বলেই জানিয়েছেন হেসন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'আমি মূলত রাজাকে দেখতে ও অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসছিলাম। তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে। গত কয়েকটা দিন বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমন একটা হোটেলে থাকতে হয়েছে, যেখানে কিছু খেলোয়াড় আসছিল, কিছু খেলোয়াড় চলে যাচ্ছিল, এরপর সবাই একসঙ্গে হয়েছে।'
হেডিংলিতে ইনিংস ব্যবধানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর পাকিস্তান দলের ভেতরে তৈরি হয়েছে চাপা অস্থিরতা। সিরিজের ফল নির্ধারণে কোনো প্রভাব না থাকা তৃতীয় টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক ক্রিকেটাররাও। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্ট হেসন।
তিনি বলেন, 'ছেলেরা সম্ভবত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আমার চেয়ে একটু বেশি অভ্যস্ত। কোনো সন্দেহ নেই যে তারা খুবই হতাশ। আমাদের সেই হতাশা দূরে সরিয়ে রেখে সামনের ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে হয়েছে। গত কয়েক দিনে তারা তাতে দুর্দান্ত সাড়াও দিয়েছে।'
বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছেন ইমাম উল হক, সালমান আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই তিনজনকে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন হেসন।
টেস্ট অভিষেক হয়নি এমন পাঁচ ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'আমি যখন দায়িত্ব নিই, তার আগেই রিজওয়ান, ইমাম ও সালমান আঘা স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছে। সেখান থেকে আমার কাজ ছিল তৃতীয় টেস্টের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড তৈরির চেষ্টা করা।'
সালমান আঘা দল থেকে বাদ পড়ার পর রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, এমন খবরও ছড়িয়েছিল। তবে সেটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে হেসন বলেন, 'মানুষজন কেবল গল্প বানিয়ে যাচ্ছে। আমি আসার এবং রাজার সঙ্গে দেখা করার অনেক আগেই তিনজনকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তখনই জানানো হয়েছিল, এই তিনজন অনুষ্ঠানে থাকবেন না।'