আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের জন্য আগে থেকে কোনো মানসম্মত ভেন্যু ছিল না। মাত্র ১৭ মাসের মধ্যে নতুন করে মাঠ প্রস্তুত করতে হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে ভেন্যুটির কাজ শেষ হয় এবং মে মাসে সেখানে আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাছাইপর্বের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই আসরে মাঠটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য নিজেদের সক্ষমতার প্রাথমিক পরীক্ষা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স মিয়াজি ক্রিকবাজকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, 'সীমিত সময় ও সম্পদের মধ্যেই আয়োজকদের কাজ করতে হয়েছে। তবে মাঠটি পূর্ণ আকারের হবে এবং টার্ফ ও হাইব্রিড পিচ ব্যবহার করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সহায়তায় অভিজ্ঞ কিউরেটররা পিচ প্রস্তুত করেছেন। আমার দেখা অনুযায়ী, এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তির পর এটিই হতে যাচ্ছে সেরা খেলার মাঠ।'
তবে মাঠের ড্রেসিংরুম ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি পুরোপুরি অস্বীকার করেননি মিয়াজি। তিনি জানান, ভেন্যুতে অস্থায়ী ও স্থায়ী-দুই ধরনের সুবিধাই থাকবে। খেলোয়াড়দের জন্য অস্থায়ী জায়গাগুলোকে যতটা সম্ভব আরামদায়ক করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং খেলোয়াড়দের ব্যবহারের জন্য টয়লেটও থাকবে। এ নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সঙ্গে কাজ করছে আয়োজক কমিটি।
আবাসন নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দলগুলোকে শহরের হোটেল, কাছাকাছি নোঙর করা ক্রুজশিপ কিংবা অস্থায়ী আবাসনের মতো বিকল্পের মধ্যে বেছে নিতে হতে পারে। তবে মিয়াজির দাবি, ক্রিকেট দলগুলোকে হোটেলে থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং চাইলে নিজেদের ব্যবস্থাপনাতেও থাকার সুযোগ রয়েছে। এদিকে এশিয়ান গেমসের আয়োজকেরা জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী ১৭ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার আবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাপানের এই ভেন্যু নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরীক্ষায় এটি ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে। আইসিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসের বাছাইপর্বে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এবং মাঠটি দর্শক ও ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। এবার সেখানে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলো খেলবে। পুরুষদের ক্রিকেটে জাপান আফগানিস্তান ও নেপালের সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’-তে আছে; গ্রুপ পর্ব পেরোলে তাদের সামনে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।