সম্প্রতি রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে টেস্ট দলে রাখার কারণ জানতে নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিব, মিসবাহ ও আসাদ শফিকের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে পিসিবি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাদের। গত ২ জুনের নির্বাচক কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তি ও যুক্তি জানতে চাওয়া হয়েছে, যার কার্যবিবরণী পিসিবির কাছে জমা পড়ে ১ জুলাই।
জিও নিউজের অনুষ্ঠান ‘আজ শাহজেব খাঁদজাদা কে সাথ’-এ কথা বলার সময় আকিব জানান, দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচক কমিটিই দায় নেয়। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী একাদশ নির্বাচন ও খেলোয়াড়দের সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত মূলত অধিনায়ক ও প্রধান কোচের দায়িত্ব। একই অনুষ্ঠানে তিনি তৃতীয় টেস্টের আগে সাত ক্রিকেটারকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষেও যুক্তি দেন।
এর মধ্যেই নির্বাচক কমিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মিসবাহ। পিসিবিকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নোটিশ পিরিয়ড পালন করছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তবে আকিব এখনো নিজের দায়িত্ব নিয়ে সরে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং দল নির্বাচনের সিদ্ধান্তের দায় নেওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলের পেস আক্রমণে পরিবর্তন আনার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন আকিব। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টের আগে আমি অধিনায়ক ও কোচ, দুজনের সঙ্গেই উবায়েদ শাহকে খেলানোর বিষয়ে কথা বলেছিলাম। পেস আক্রমণে কিছুটা বৈচিত্র্য আনার জন্য তাকে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই পরামর্শ বাস্তবায়ন করা হয়নি। যখন সিদ্ধান্তগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী নেওয়া হয় না, তখন একাদশে পরিবর্তন আনার বার্তা দেওয়া হয়।’
সিরিজ ইতোমধ্যে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় তৃতীয় টেস্টে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন আকিব। সাত ক্রিকেটারকে মাঝ সিরিজে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিরিজ যখন হারিয়েই গেছি, তখন নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে কোনো সমস্যা নেই। অন্তত বিশ্বকে দেখানো যাবে, পাকিস্তানের ক্রিকেটে এখনো প্রতিভা আছে।’
তার মতে, সফরে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়রাও ব্যর্থ হলে জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারেন না। ইমাম-উল-হকের চোট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আকিব। একটি টেস্টের দুই ইনিংসেই পেশির চোটের কারণে ব্যাট করতে না পারাকে তিনি বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।
আকিব বলেন, ‘এর আগে খেলোয়াড়েরা চোট নিয়েও ব্যান্ডেজ করে খেলেছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’