পাকিস্তানের ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা এই ইনিংসেও অব্যাহত ছিল। সিরিজে টানা চতুর্থবার দুইশর নিচে অলআউট হলো তারা। আগের তিন ইনিংসে ১৭১, ১৩৫ ও ১১০ রান করা পাকিস্তান এবার থামে ১৯৪ রানে। প্রথম দিন ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া ইমাম উল হক দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামেননি।
শুরুতেই পাকিস্তানের তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংল্যান্ড। একই ওভারে আজান আওয়াইস (৬) ও আবদুল্লাহ শাফিককে (০) ফিরিয়ে দেন অলি রবিনসন। এরপর জফরা আর্চারের ভয়ঙ্কর বাউন্সারে আউট হন বাবর আজম (৬)। চোট কাটিয়ে দলে ফেরা পাকিস্তান অধিনায়ক দুই ইনিংসেই দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি।
পাঁচ নম্বরে নেমে দলের বিপর্যয় সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন সাউদ শাকিল। শান মাসুদকে সঙ্গে নিয়ে ইংলিশ বোলারদের সামলে গড়ে তোলেন ৯৭ রানের জুটি। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মাত্র ৫৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন শাকিল। বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকলেও পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড।
২৬ রান করা মাসুদকে এলবিডব্লিউ করে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভাঙেন রবিনসন। পরের ওভারেই লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়েন মোহাম্মদ রিজওয়ান (১)। এরপর টেল-এন্ডারদের নিয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান শাকিল। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে জশ টাংয়ের শর্ট বল দারুণভাবে সামলাচ্ছিলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
এক পর্যায়ে টাংয়ের পাঁচ বলের মধ্যে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ৯৬ রানে পৌঁছে যান শাকিল। পরের ওভারে এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র দুই রান দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু টাংয়ের পরের ওভারে শর্ট বল খেলতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন ১২২ বলে ৯৭ রান করা শাকিল। তার ইনিংসে ছিল ১৩ চার ও ২ ছক্কা।
ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। অলি রবিনসন দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচে ৮ উইকেট শিকার করেন। টানা দ্বিতীয় টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া এই পেসারের দুই টেস্টে উইকেটসংখ্যা দাঁড়াল ১৬।
প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানের লিড পাওয়া ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৮ রান করে পাকিস্তানের সামনে ৩৮৯ রানের লক্ষ্য দেয়। জবাবে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান ১৯৪ রানেই অল আউট হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথমবার একাধিক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতল ইংল্যান্ড।