টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আর্থিক আকর্ষণে অনেক ক্রিকেটারই এখন দীর্ঘ সংস্করণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। ওয়াহ মনে করেন, ক্রিকেটারদের এই সিদ্ধান্তকে দোষ দেয়া কঠিন। তবে টেস্ট ক্রিকেটকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে ধরে রাখতে হবে।
ডারউইনে বাংলাদেশের জয় নিয়ে ওয়াহ বলেন, 'এটি বিস্ময়কর। সম্ভবত এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা ছিল। বাংলাদেশকে ভালো করতে দেখা দারুণ ব্যাপার।'
তবে বাংলাদেশের প্রশংসার চেয়েও টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি চিন্তিত ওয়াহ। তার মতে, ক্রিকেটারদের সামনে এখন দুটি ভিন্ন পথ টি-টোয়েন্টিতে কম সময়ে বেশি অর্থ উপার্জন, অথবা টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য যাচাই করা।
ওয়াহ বলেন, 'আপনি যদি জানতে চান ক্রিকেটে আপনি কতটা ভালো, তাহলে টেস্ট ক্রিকেট খেলুন। আর যদি নিজের পরিবারকে দেখাশোনা করতে চান এবং অনেক অর্থ আয় করতে চান, তাহলে টি-টোয়েন্টি খেলুন।'
ওয়াহর মতে, ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা থাকলেও টেস্ট ক্রিকেট যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসকদের। এ জন্য টেস্টের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দের প্রয়োজন দেখছেন তিনি, 'টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় রাখতে হবে। যদিও এটা সহজ নয়। এটি করতে কিছুটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।'
টেস্ট ক্রিকেটে আগ্রহ ধরে রাখতে পারিশ্রমিকের বৈষম্য দূর করার কথাও বলেছেন ওয়াহ। ১৯৯৯ সালে সব টেস্ট ক্রিকেটারের জন্য সমান পারিশ্রমিকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। প্রায় তিন দশক পরও সেটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় আক্ষেপ তার, 'আপনি যদি চান ছেলেরা টেস্ট ম্যাচ খেলুক, তাহলে সবার জন্য একই পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করুন। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা খেলোয়াড় যেন একই অর্থ পায়, যতটা একজন ভারতীয় বা অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় পায়।'
টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যের একটি জায়গা ধৈর্য, সেটিও হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ওয়াহ। তার ভাষায়, 'কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার এবং কঠোর পরিশ্রম করে কুৎসিত রান করার শিল্প এখন আর খুব বেশি দেখা যায় না। কখনো কখনো আপনাকে শুধু উইকেটে পড়ে থাকতে হবে, কয়েকটি মেডেন ওভার খেলতে হবে। কীভাবে এটি করতে হয়, সেটি আবার শিখতে হবে।'