টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল সান্টনার। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে রাখে সফরকারীরা। ৬২ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। নাথান স্মিথ একটি উইকেট নেওয়ার পর সান্টনার পরপর দুটি আঘাত হেনে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা অনেকটাই নষ্ট করে দেন।
চাপের মধ্যেও ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন আমির জাঙ্গু। তিনি ৭৩ বলে ৫১ রান করেন। শেষ দিকে গুড়াকেশ ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ৫৬ বলে করেন ৪১ রান। সপ্তম উইকেটে তাদের ৮১ রানের জুটিতে লড়াই করার মতো অবস্থানে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ৪৪.৪ ওভারে ১৮৮ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ম্যাথিউ ফিশার নেন তিনটি উইকেট, সান্টনার ও মাইকেল ব্রেসওয়েল পান দুটি করে।
১৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। প্রথম বলেই ফিরে যান হেনরি নিকোলস। এরপর নিক কেলি ও উইল ইয়াংও বেশিক্ষণ টিকতে না পারায় ৪৬ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা। সেই সময় দলের হাল ধরেন মার্ক চ্যাপম্যান।
চ্যাপম্যান ৮২ বলে ৮০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। টম লাথাম দ্রুত ফিরলেও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে নিয়ে ৬৫ রানের জুটি গড়ে জয়ের পথে এগিয়ে নেন দলকে। ব্রেসওয়েলও ৩১ বলে ৩২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৪৯ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল নিউজিল্যান্ডের হাতেই।
তবে সেখান থেকেই ম্যাচে নতুন মোড় আনেন গুড়াকেশ। প্রথমে ব্রেসওয়েল, এরপর চ্যাপম্যানকে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরে জ্যাকব ডাফি ও ম্যাথিউ ফিশারের উইকেটও তুলে নিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মুহূর্তেই ১৪৯ রানে পাঁচ উইকেট থেকে ১৮০ রানে ৯ উইকেটে নেমে আসে নিউজিল্যান্ড। শেষ উইকেটে জয়ের জন্য তখনও দরকার ছিল ৯ রান।
এমন পরিস্থিতিতে অধিনায়কোচিত ব্যাটিং করেন সান্টনার। শেষ ব্যাটার জেডেন লেনক্সকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে লক্ষ্য স্পর্শ করেন তিনি। ৫৬ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করে দলকে জয় এনে দেন সান্টনার। অন্য প্রান্তে লেনক্স ১০ বল খেলেও রান না করে নিজের উইকেট অক্ষত রাখেন। ৪৪.১ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৯ রান তুলে ৩৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
বল হাতে ১০ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে দুই উইকেট নেয়ার পর ব্যাট হাতেও অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন সান্টনার। অন্যদিকে ১০ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেয়া মোতির অসাধারণ বোলিংও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি।