টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় ইংল্যান্ড। উদ্বোধনী জুটিতে বেন ডাকেট ও জেকব বেথেল যোগ করেন ১৯২ রান, যা লর্ডসে একদিনের ক্রিকেটে উদ্বোধনী জুটিতে নতুন রেকর্ড। বেথেল ৯৩ বলে ৯১ রান করে বিদায় নিলেও ডাকেট নিজের ইনিংস বড় করেন। দ্বিতীয় উইকেটে জো রুটের সঙ্গে আরও ১০১ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন তিনি।
ডাকেট ১৩৫ বলে ১৪১ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ১৮টি চার ও একটি ছক্কা। জো রুট অপরাজিত ৭৪ রান করেন ৪৮ বলে, যেখানে ছিল ৯টি চার। শেষ দিকে জস বাটলার মাত্র ১৩ বলে ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। শেষ পাঁচ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে ৮২ রান, যা তাদের সংগ্রহকে নিয়ে যায় ৩৮৭-তে। ভারতের বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটে এটিই ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ভারতও শুরুটা করে দারুণভাবে। রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১৪৭ রান। গিল ৮৪ বলে ৭৭ রান করে ফিরে গেলেও দ্বিতীয় উইকেটে বিরাট কোহলিকে নিয়ে আরেকটি শতরানের জুটি গড়েন রোহিত। ৮৪ বলে শতক পূর্ণ করা এই উদ্বোধনী ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ১১০ বলে ১৩৮ রান করেন। লর্ডসে একদিনের ক্রিকেটে ভারতের প্রথম সেঞ্চুরিও এটি।
৩৮ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ছিল এক উইকেটে ২৫৩ রান। তখন ৭২ বলে প্রয়োজন ছিল ১৩৫ রান, হাতে ছিল ৯ উইকেট। তবে রোহিত বিদায় নেয়ার পর পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ইশান কিশান ও শ্রেয়াস আইয়ার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বিরাট কোহলি ৬০ বলে ৭৪ রান করলেও প্রয়োজনীয় গতি ধরে রাখতে পারেনি ভারত। শেষ পর্যন্ত তারা জয়ের নাগাল পায়নি।
বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন স্যাম কারান। তিনি ৭৫ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। জেকব বেথেল সাত ওভারে ৪৯ রান দিয়ে রোহিতের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। ব্যাট ও বল- দুই বিভাগেই অবদান রাখায় ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। অন্যদিকে তিন ম্যাচে ২৪৯ রান করে ধারাবাহিকতার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন জো রুট।
এই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে হয়েছে ৭৪৭ রান, যা লর্ডসে একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল গত বছর ইংল্যান্ড ও সাউথ আফ্রিকার ম্যাচে হওয়া ৬৫৫ রান। ইংল্যান্ডের মাটিতে একদিনের ক্রিকেটে এর চেয়ে বেশি রান হয়েছে কেবল একবার, ২০১৫ সালে ওভালে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে, যেখানে দুই দল মিলিয়ে হয়েছিল ৭৬৩ রান।