এক্স পোস্টের মাধ্যমে সোবার্সের মৃত্যুর খবর জানায় ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘একটি মহাকাব্যিক ইনিংসের অবসান হলো। আমাদের হৃদয়ে আপনি আছেন এবং চিরকাল থাকবেন, স্যার গারফিল্ড সোবার্স।’
১৯৩৬ সালের জুলাইয়ে জন্ম নেওয়া সোবার্সের বেড়ে ওঠা বার্বাডোসেই। বাঁহাতি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি অর্থোডক্স স্পিন, রিস্ট স্পিন করতে পারতেন তিনি। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। পরবর্তীতে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের হয়ে খেলেন ১৭ বছর বয়সে।
জ্যামাইকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকে নয় নম্বরে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৪ ও ২৬ রান করেছিলেন। পাশাপাশি ৭৫ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। প্রথম টেস্টটা বোলার হিসেবে খেলেছিলেন সোবার্স। তবে ২৩ বছর বয়সে এসে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে লিন হুটনের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৬৫ রানের রেকর্ড গড়েন।
১৯৯৪ সালে পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তির দখলেই ছিল রেকর্ডটি। পরবর্তীতে ব্রায়ান লারা যখন তার রেকর্ড ভাঙেন তখন মাঠে বসে খেলা দেখেছিলেন সোবার্স। ট্রিপুল সেঞ্চুরির এক দশক পর প্রথম ক্রিকেটর হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছয় ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। নটিংহ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলার সময় গ্ল্যামারগনের ম্যালকম নাশের ওভারের এমন কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। বার্বাডোস, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নটিংহ্যাম্পশায়ার ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার হযে মোট ৩৮৩ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন সোবার্স।
যেখানে ৫৪.৮৭ গড়ে ২৮ হাজার ৩১৪ রান করার পাশাপাশি ২৭.৭৪ গড়ে নিয়েছেন ১ হাজার ৪৩ উইকেট। যেখানে ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলেছেন ৯৩ টেস্ট। জাতীয় দলের জার্সিতে ৫৭.৭৮ গড়ে ৮ হাজার ৩২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ২৩৫ উইকেট। ক্যারিয়ারে ৯৫ লিষ্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যদিও জাতীয় দলের হয়ে একটির বেশি ওয়ানডে খেলা হয়নি তার।
১৯৭৩ সালে হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন সোবার্স। ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৫ সালে নাইট উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৯৮ সালে বার্বাডোজের সংসদে একটি আইনের মাধ্যমে সোবার্সকে দেশের ১১ জন জাতীয় বীরের একজন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাঁকে ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করে।
এ ছাড়া বিংশ শতাব্দীতে সেরা পাঁচ ক্রিকেটারকে বেছে নেয় উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালামনাই। যেখানে ডন ব্র্যাডম্যান, স্যার জ্যাক হবস, স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ও শেন ওয়ার্নের পাশাপাশি ছিলেন সোবার্সও। টেস্টে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৮ হাজার রান করার পাশাপাশি ২০০ উইকেটও নেন তিনি। পরবর্তীতে সোবার্সের সেই রেকর্ডে ভাগ বসান সাউথ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস।