২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চল কাশ্মিরের পেহেলগ্রাম হামলার পর পাকিস্তানের সাথে 'নো হ্যান্ডশেক' নীতি গ্রহণ করে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ২০২৫ এশিয়া কাপে শুরু হয় এই হ্যান্ডশেক বর্জনের ঘটনা। টসের সময় অধিনায়করা হাত মেলানো থেকে বিরত থাকেন। এরপর ম্যাচ শেষেও দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সাথে হাত মেলাননি।
তবে গ্রুপপর্বের ম্যাচে প্রথমবার হাত না মেলানোর ঘটনা ঘটার আগে এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান। তাই হুট করেই নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে ম্যাচ রেফারির মাধ্যমে এমন প্রস্তাব পাওয়ায় কিছুটা অবাক হয়েছিলেন তিনিও।
ইউটিউবে এআরওয়াই নামক একটি চ্যানেলের পডকাস্টে গত এশিয়া কাপে অধিনায়ক হিসেবে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে সালমান বলেন, 'আমি টসের জন্য গিয়েছিলাম। তার আগে সংবাদ সম্মেলন ও ট্রফি ফটোশুটেও আমরা হাত মিলিয়েছি। কিন্তু টসের ঠিক আগ মুহূর্তে ম্যাচ রেফারি আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললেন, আজ কোনো হ্যান্ডশেক হবে না, আমরা এভাবেই ম্যাচটা শুরু করব। আমি অবাক হলেও বলেছিলাম, ঠিক আছে। আমি নিজেও খুব একটা আগ্রহী ছিলাম না।'
টসের সময় ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার সাথে হাত না মেলালেও ম্যাচ শেষে সৌজন্যতা প্রদর্শনে দলকে নিয়ে ভারতের ড্রেসিরুমে যান সালমান। কিন্তু ড্রেসিংরুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে পাকিস্তানকে দলকে অপদস্ত করতে চেয়েছিল ভারত, আক্ষেপের সুরে এমন দাবী করেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
এ প্রসঙ্গে সালমান বলেন, 'ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমরা হেরে গিয়েছিলাম। শিষ্টাচার অনুযায়ী আমরা ওদের প্যাভিলিয়নে বা ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলাম হাত মেলানোর জন্য। কিন্তু তখনও ওরা আমাদের সাথে হাত মেলায়নি, ড্রেসিংরুমের দরজা বন্ধ ছিল।'
গ্রুপ পর্বের ম্যাচের পর সুপার ফোর এবং ফাইনালেও 'নো হ্যান্ডশেক' নীতি বজায় রাখে ভারত। এরপর ফাইনালে তখনকার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল সভাপতি মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতেও অস্বীকৃতি জানায় ভারত। শুধু এশিয়া কাপেই শেষ হয়নি এই বিদ্বেষমূলক আচরণ। পরবর্তীতে নারী বিশ্বকাপ, অনুর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। খেলার মাঠে রাজনীতির এমন প্রয়োগ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করেন সালমান।
সালমান আরো যোগ করেন, 'আমি বারবার বলেছি, এটা ঠিক হচ্ছে না। আমরা যখন দেশের প্রতিনিধিত্ব করি, তখন ছোট বাচ্চারা আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমাদের দেখে যদি কাল কোনো ক্লাব ক্রিকেটেও এমনটা ঘটে, তবে তার দায় আমাদের ওপরই বর্তাবে। রোল মডেল হিসেবে এটি মোটেও ভালো কিছু নয়।'