আম্পায়ারিংসহ নানান বিষয়ে বড় বড় ক্লাবের পক্ষ হয়ে অনিয়মে জড়িত ছিল স্বয়ং বিসিবি, এমন অভিযোগ আছে ক্রিকেট পাড়ায়। বড় ক্লাবের পক্ষে লিগের প্লেয়িং কন্ডিশনও বদলে যেতে দেখা গেছে একাধিকবার। যার কারণে দেশের একমাত্র লিস্ট 'এ' এই টুর্নামেন্টের মান ক্ষুন্ন হয়েছে বারংবার। নানান অনিশ্চয়তার পর মাস দুয়েক পিছিয়ে অবশেষে শুরু হয়েছে ডিপিএল। ক্রিকেট বোর্ডের নতুন কমিটির অধীনে তাই ইতিবাচকভাবে সব শুরু করতে চান বিসিবি পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু। অঙ্গীকার করলেন সব ক্লাবকে সমান গুরুত্ব দেবার।
ডিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিসিবির এই পরিচালক বলেন, 'বিগত দিনে কি হয়েছে আমি ওটা সামনে আনতে চাই না। তবে আমি আমি মনে করি এই ১২টা ক্লাবই আমাদের দেশের ক্লাব। এই ১২টা ক্লাবই ক্রিকেট বোর্ডের ক্লাব।
এ প্রসঙ্গে বাবু আরো যোগ করেন, 'এখানে আমি তখন বেশি খুশি হব যখন ১১ নম্বর ১২ নম্বর দল এক নম্বর দলকে হারিয়ে দিবে। তখন আমরা বলব যে আমরা সফল। কারণ হলো আমরা মনে করি যে ওই ক্লাবগুলি যদি ভালো খেলে তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটটা আরো এগিয়ে যাবে।'
বিগত কয়েক বছরে ডিপিএলে অনিয়মের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে আম্পায়ারিং নিয়ে। এছাড়াও গত বছর মোহামেডানের একটি ম্যাচে আম্পায়ারের সাথে বাজে আচরণ কান্ড নিয়ে জলঘোলা হয়েছে বেশ। তাই এবার আম্পায়ারিং নিয়ে সবধরণের অভিযোগের উর্ধ্বে থাকতে চায় বিসিবি।
আম্পায়ারিং প্রসঙ্গে এই বিসিবি পরিচালক বলেন, 'আম্পায়ারিংয়ের ক্ষেত্রে আমি বলে দেই, আগে কি হয়েছে জানি না, তবে এখন কোনো ধরনের অভিযোগ আপনি পাবেন না। নিশ্চিন্তে এটা আমি শতভাগ গ্যারান্টি দিতে পারি। আমরা চাই ক্রিকেটের অগ্রগতি। ক্রিকেট যাতে আরো এগিয়ে যায় সেটা এগিয়ে নেওয়ার জন্য মাঠে খেলাগুলি যেন ফেয়ার (স্বচ্ছ্ব) হয়, সুন্দর হয়, আকর্ষণীয় হয় সেটার ব্যবস্থা আমরা করব ইনশাআল্লাহ।'
গত ৭ অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেয়নি ঢাকার ক্লাবগুলোর বড় একটা অংশ। আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবি সভাপতি হবার পর তার বোর্ডের অধীনে কোনো টুর্নামেন্টে অংশ না নেবার ঘোষণাও দেয় ক্লাবগুলো। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ডিপিএল আয়োজন করতে পারেনি ক্রিকেট বোর্ড।
অবশেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সেই বোর্ড ভেঙে দেবার পর তামিম ইকবাল দায়িত্ব নেন দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার। তামিম দায়িত্ব নেবার এক মাসেরও কম সময়ের মাঝে মাঠে গড়িয়েছে ডিপিএল। দেড়িতে হলেও ডিপিএল মাঠে গড়ানো দেশের ক্রিকেটকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছে বলে মনে করেন বিসিবি পরিচালক বাবু।
এ প্রসঙ্গে বাবু আরো যোগ করেন, 'এই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ না হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি লজ্জাকর বিষয় হয়ে যেতে পারত কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ যেভাবেই হোক একটু দেরিতে হলেও আমরা শুরু করেছি।'