সেঞ্চুরি করেও পাকিস্তানকে সেমিফাইনালে না তোলার আক্ষেপ ফারহানের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
সেঞ্চুরি করে হাওয়ায় ভাসছেন সাহিবজাদা ফারহান, ফাইল ফটো
সেঞ্চুরি করে হাওয়ায় ভাসছেন সাহিবজাদা ফারহান, ফাইল ফটো
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
ক্রিকফ্রেঞ্জি ডেস্ক
দলের ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি, একগাদা রেকর্ড আর শেষ ওভারের রুদ্ধশ্বাস জয়ের গল্প, সব মিলিয়েও যেন তৃপ্ত হতে পারছেন না সাহিবজাদা ফারহান। পাকিস্তানের এই ব্যাটারের ম্যাচসেরা হওয়ার আনন্দকে ছাপিয়ে গেছে বিশ্বকাপ থেকে তার দলের বিদায়ের হতাশা। ব্যক্তিগত সাফল্য দলকে সেমিফাইনালে তুলতে পারেনি, এটাই তার আক্ষেপ।

সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শনিবার ২১২ রানের বড় পুঁজি গড়ে পাকিস্তান পাঁচ রানে হারায় শ্রীলঙ্কাকে। তবে এই জয় কোনো কাজে আসেনি। সেমিফাইনালে উঠতে হলে প্রতিপক্ষকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো পাকিস্তানকে, যা সম্ভব হয়নি। ফলে শেষ চার নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে সাহিবজাদা বলেন, 'প্রথমত, আমার বিশ্বাস ছিল যে, আমরা দল হিসেবে ভালো করব। ফখর যেভাবে খেলছিলেন, তাতে আমার মনে হয়েছিল, তিনি যদি সেঞ্চুরি করতেন, তাহলে দলের জন্য আরও ভালো হতো। কিন্তু আমার ভাগ্যে ছিল যে, এটা আমি পাব।'

'সত্যি বলতে, এই সেঞ্চুরি দলকে জেতাতে (সেমিফাইনালে যেতে) সাহায্য করেনি, তাই আমি হতাশ। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য ভালো ছিল, কিন্তু দলের ফলাফলের জন্য ভালো ছিল না।'

পাল্লেকেলেতে পাকিস্তানের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন সাহিবজাদা ও ফখর জামান। তাদের ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। ফাখার ৪২ বলে ৮৪ করে ফিরলেও, সাহিবজাদা শেষ ওভারে গিয়ে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ৬০ বলে ১০০ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

এই আসরের আগে পাকিস্তানের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৩৯ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না তার। অথচ এবারের বিশ্বকাপে ছয় ইনিংসেই তিনি পেয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি। এক আসরে দুটি সেঞ্চুরির নজির নেই আর কারও। বিশ্বকাপে একাধিক সেঞ্চুরি আছে কেবল ক্রিস গেইলের।

পাশাপাশি এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়তে গিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন বিরাট কোহলিকেও। ছয় ইনিংসে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটিতে ৭৬.৬০ গড় এবং ১৬০.২৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৮৩ রান নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করলেন সাহিবজাদা।

২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার আরো বলেন, 'আমি আগেই বলেছি, অনেক অবদান আছে ঘরোয়া ক্রিকেটের। গত চার বছর ধরে আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছি। ঘরোয়া ক্রিকেট, পিএসএলে রানের তালিকার শীর্ষে, এশিয়া কাপে তিনে ছিলাম এবং এখানেও আমি সর্বোচ্চ রান করেছি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে খেলার ফলে ভালো স্ট্রাইক রেটে শতরান করতে অভ্যস্ত হয়েছি। আমার মনে হয় এখানেও সেই ফর্ম অব্যাহত থেকেছে। পাকিস্তানের হয়ে রেকর্ড গড়া আমার জন্য খুবই আনন্দের মুহূর্ত।'

আরো পড়ুন: