একই ওভারে ফিলিপসকে একটি ছক্কার সঙ্গে দুইটি চার মারেন জ্যাকস। ২২ রানের ওভারে সমীকরণ সহজ হয়ে উঠে ইংল্যান্ডের জন্য। ইনিংসের ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে এসে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার খরচা করেছেন ১৬ রান। ফলে জিততে হলে শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান করতে হতো জ্যাকস ও রেহানকে। প্রথম তিন বলেই সেই সমীকরণ মিলিয়েছেন তারা দুজন। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন জ্যাকস ও রেহান। দুর্দান্ত জয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে সেমিফাইনালে খেলতে নামবে ইংল্যান্ড। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ অথবা ভারত।
তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট নিয়ে এখনো সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে নিউজিল্যান্ড। পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তান যদি হেরে যায় তাহলে ইংল্যান্ডের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠবেন স্যান্টনার-রাচিনরা। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের রানরেট (+১.৩৯) এবং পাকিস্তানের (-০.৪৬)। পাকিস্তান যদি আগে ব্যাটিং করে ১৬০ রান করে তাহলে ম্যাচ জিততে হবে ৬৪ কিংবা তার চেয়ে বেশি রানে। বিপরীতে শ্রীলঙ্কা যদি আগে ব্যাটিং করে ১৬০ রান তোলে এমন অবস্থায় ৪০ কিংবা তার চেয়ে বেশি বল হাতে রেখে জিততে হবে পাকিস্তানকে।
কলম্বোর প্রেমাদাসায় রানতাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরেন ফিল সল্ট। ম্যাট হেনরির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ হয়েছেন জস বাটলার। লকি ফার্গুসনের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে আউট হয়েছেন টিম সেইফার্টকে ক্যাচ দিয়ে। রানের খাতাই খুলতে পারেননি বাটলার। ২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ইংলিশরা।
জ্যাকব বেথেলকে সঙ্গে নিয়ে পাওয়ার প্লের বাকিটা সময় কাটান হ্যারি ব্রুক। যদিও একটু পরই আউট হয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। ফিলিপসের বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় লং অফে ক্যাচ দিয়েছেন ২৬ রানে। ফেরেন বেথেলও। ২১ রান করা বাঁহাতি ব্যাটার আউট হয়েছেন রাচিনের বলে ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিয়ে। কিউই স্পিনারদের সঙ্গে লড়াই করে যাওয়ার চেষ্টা করেন কারান ও ব্যান্টন।
দুজনই অবশ্য ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আউট হয়েছেন। রাচিনের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন ২৪ রানে। একটু পর রাচিনের বলে ফেরেন ব্যান্টনও। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন ৩৩ রানে। তবে শেষ তিন ওভারে ঝড় তুলে ১৮ বলে ৪৩ রানের সমীকরণ মেলান জ্যাকস ও রেহান। ১৮ বলে ৩২ রান করে জ্যাকস ও ৭ বলে ১৯ রান করে রেহান অপরাজিত ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন রাচিন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেছেন ফিলিপস। এ ছাড়া সেইফার্ট ৩৫, ফিন অ্যালেন ২৯ রান করেছেন। কিউইদের সবকটি উইকেটই ইংল্যান্ডের স্পিনাররা নিয়েছেন। দুইটি করে উইকেট পেয়েছেন জ্যাকস, রেহান ও আদিল রশিদ। ড্যারিল মিচেলের উইকেটটা নিয়েছেন লিয়াম ডওসন।