আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম ওভার থেকেই তাণ্ডব চালাতে থাকেন মার্করাম ও কুইন্টন ডি কক। বল হাতে একেবারেই সুবিধা করতে পারছিলেন না ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন, জ্যাকব ডাফিরা। প্রায় প্রতি ওভারেই অন্তত দুইটি করে বাউন্ডারি মেরেছেন সাউথ আফ্রিকার দুই ওপেনার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে চার মেরে দলের পঞ্চাশ পূরণ করেন মার্করাম। পঞ্চম ওভারে তাদের দুজনের জমে ওঠা জুটি ভাঙেন ফার্গুসন।
ডানহাতি পেসারের লেগ কাটারে বোল্ড হয়েছেন ১৪ বলে ২০ রান করা ডি কক। উইকেট হারালেও দ্রুত রান তোলায় ব্যস্ত সময় পার করে প্রোটিয়ারা। ব্যাট হাতে মার্করাম-ডি ককদের তাণ্ডবে পাওয়ার প্লেতে এক উইকেে ৮৩ রান তোলে তারা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো পাওয়ার প্লেতে আশির বেশি রান তুলেছে সাউথ আফ্রিকা। ইনিংসের সপ্তম ওভারে গিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকা মার্করাম।
মিচেল স্যান্টারের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে ছক্কা মেরে ১৯ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বলে হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন তিনি। একটু পর আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করা রায়ান রিকেলটনকে ফেরান জেমস নিশাম। ডানহাতি পেসারের বলে মিচেলকে ক্যাচ দিয়েছেন ১১ বলে ২১ রান করে। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও ফিরেছেন ১৭ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে। ৮ চারও ৪ ছক্কায় ৪৪ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন মার্করাম। ছক্কায় জয় নিশ্চিত করা মিলারের ব্যাট থেকে এসেছে ১৭ বলে ২৪ রান।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ডকে দুর্দান্ত শুরুর আভাস দেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। তাদের দুজনের জমে ওঠা ৩৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মার্কো জানসেন। বাঁহাতি পেসারের শর্ট ডেলিভারিতে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সেইফার্ট। তিনে নেমে ভালো শুরু পেয়েছিলেন রাচিন রবীন্দ্রও। তবে তাকে ইনিংস বড় করতে দেননি জানসেন। বাঁহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে গালিতে মিলারকে ক্যাচ দেন ১৩ রানে।
পাওয়ার প্লে শেষের আগে আউট হয়েছেন অ্যালেনও। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৭ বলে ৩৩ রান করা ডানহাতি ওপেনারকে ফেরান জানসেন। দ্রুতই ফিরতে হয়েছে গ্লেন ফিলিপসকেও। ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেল। তারা দুজনে মিলে ৭৪ রান যোগ করেন। চ্যাপম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জানসেন। হাফ সেঞ্চুরির খুব কাছে থাকলেও ৪৮ রানে ফিরতে হয় তাকে।
সাবধানী ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নেওয়া মিচেল আউট হয়েছেন ২৪ বলে ৩২ রান করে। শেষের দিকে ১৫ বলে অপরাজিত ২৩ রান করেছেন নিশাম। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রানের পুঁজি পায় কিউইরা। সাউথ আফ্রিকার হয়ে ৪০ রান খরচায় চারটি উইকেট নিয়েছেন পেসার জানসেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন লুঙ্গি এনগিডি, কেশভ মহারাজ ও কর্বিন বশ।